ঘণ্টায় ঘণ্টায় উন্নতি হচ্ছে টেলিকম নেটওয়ার্ক
ঘূর্ণিঝড় রিমালের তাণ্ডবে লণ্ডভন্ড হয়েছে উপকূলীয় অঞ্চলের মোবাইল, টেলিফোন ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ। তবে পরিস্থিতির উন্নতি শুরু হয়েছে মঙ্গলবার বিকেল থেকে। বাংলাদেশ টেলিযোগোযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসি থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাত ১০টা পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত ১০টি জেলার মধ্যে দুপুর নাগাদ পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারি ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-এই ৪টি জেলায় মোবাইল নেটওয়ার্ক অবস্থা স্বাভাবিক হয়েছে। একই সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত ৫৬ শতাংশ বিটিএস’র মধ্যে ১১ শতাংশের উন্নতি হয়েছে।
অপরদিকে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-আইএসপিএবি’র পক্ষ থেকে জানাগেছে, তাদেরও ৫০ শতাংশের মতো ক্ষতিগ্রস্ত সংযোগ রিস্টোর করা হয়েছে।
একইভাবে ঘূর্ণিঝড়ে এনটিটিএন অপারেটরদের মধ্যে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) ১৯টি, সামিট কমিউনিকেশন লিমিটেডের ২৯৬টি, ফাইবার অ্যাট হোমের ২৪টি সাইট বিদ্যুত না থাকায় অচল হয়ে পড়েছে। তবে চট্টগ্রামের টেলিযোগাযোগ অঞ্চলের পিএসটিএনগুলো জেনারেটর ও ব্যাটারি ব্যাকআপে সচল রাখা হয়েছে।
এভাবেই সময়ের সাথে সাথে টেলিনেটওয়ার্ক সেবার উন্নতি হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিটিআরসির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগ। এই বিভাগ থেকে সরবরহাকৃত তথ্য অনুযায়ী মঙ্গলবার (২৮ মে) সকাল ১০টার আপাডেট তথ্যে সারা দেশে মোট ৫৮ হাজার ২৯৮টি মোবাইল অপারেটরের টাওয়ারের মধ্যে ৩২ হাজার ৯০৬টি টাওয়ার তথা শতকরা হিসাবে ৫৬ শতাংশ অচল ছিলো। কিন্তু দুপুর ১২টায় এই অবস্থার উন্নতি হয়ে শতকরা হারটি নেমে গেছে ৪৫ শতাংশে। অর্থৎ দুই ঘণ্টাতেই উন্নতি হয়েছে ১১ শতাংশ। পরিসংখ্যান বলছে, বেলা ১২টা পর্যন্ত সারা দেশে মোট ৫৮ হাজার ২৯৮টি মোবাইল অপারেটরের টাওয়ারের মধ্যে ২৬ হাজার ২৫১টি টাওয়ার অচল ছিলো।
অপরদিকে বিটিআরসিতে আইএসপি অপারেটর দেওয়া তথ্যানুযায়ী, উপকূলীয় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রায় তিন লাখ আই স্পিকার ফিক্সড ইন্টারনেট থেকে বঞ্চিত রয়েছে। উপকূল এলাকায় গাছপালা ভেঙে পড়া, বিদ্যুৎ না থাকা এবং ঘূর্ণিঝড়ে ইন্টারনেট ক্যাবলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর ১শ ও বেশি আইএসপি অপারেটরের নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে আইএসপি অপারেটরদের ৩২০টি পপের মধ্যে ২৫০টি অকার্যকর রয়েছে।
এ নিয়ে আইএসপিএবি সভাপতি ইমদাদুল হক জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকাল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত লাইস্টমাইল কান্টেক্টিভিটি রিস্টোরের কাজ শুরু হয়েছে। দুপুর নাগাদ ৫০ শতাংশ সংযোগ রিস্টোর হয়েছে। এখন বিদ্যুতের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। তারপরও বিকল্প ব্যবস্থায় ৫০ শতাংশ সংযোগ পুণঃপ্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে। এ জন্য কোথাও পোর্টেবল জেনারেটর, আবার কোথায় বিদ্যুতের পিলার ভেঙ্গে যাওয়ায় বাঁশ দিয়ে লােইন টেনে নেয়া হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ এমন পরিস্থিতির জন্য মোবাইল অপারেটরদের অপর্যাপ্ত টাওয়ার, মানহীন মাইক্রোওয়েভ, মানহীন ব্যাটারি, ওভার হেড ফাইবার ও জেনারেটর না থাকা এবং দেশের ফাইবার অপটিক্যাল এখনো ৬৫ শতাংশ ওভারহেড থাকায় ঝড়-বৃষ্টি এলেই নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ করছের। এছাড়াও মোবাইল মাইক্রোওয়েভের মান এবং ব্যাটারি ধরন পর্যবেক্ষণ করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি প্রশ্ন তুলেছেন, ২০১৮ সালে বিটিআরসি বেসরকারি চারটি টাওয়ারকো কোম্পানির লাইসেন্স দিয়ে যে নীতিমালা তৈরি করেছে। সেখানে বলা রয়েছে, মোবাইল অপারেটর নতুন করে আর টাওয়ার তৈরি করতে পারবে না। অর্থাৎ টাওয়ারকো কোম্পানি থেকে তাদের অর্থের বিনিময়ে সার্ভিস নিতে হবে। এই টাওয়ার কোম্পানিগুলো মূলত মোবাইল অপারেটর থেকে টাওয়ারগুলো কিনেছে। এই টাওয়ারগুলোর মাইক্রোওয়েভ মানসম্মত নয়, সেই সঙ্গে ব্যাটারিগুলো মানহীন হয়ে পড়েছে। যেখানে ছয় ঘণ্টা পাওয়ার ব্যাক দেওয়ার কথা সেখানে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নেটওয়ার্ক অচল হওয়ার কারণ কি?
প্রসঙ্গত, দেশে সক্রিয় সিমধারী গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ১৯ কোটি ২৬ লাখ অথচ এর বিপরীতে যেখানে টাওয়ার থাকার কথা প্রায় লক্ষাধিক সেখানে আছে ৪৫ হাজার ২৩১টি। এরমধ্যে রবির দুই হাজার দুইশ ৯৬, গ্রামীণফোনের ১২ হাজার পাঁচশ ২৬, বাংলালিংকের চার হাজার ছয়টি, টেলিটকের ছয়শ ২১ এবং এবি হাইটেক কনসোর্টিয়াম লিমিটেডের আটশ ৬০, ইডটকো লিমিটেডের ১৬ হাজার ছয়শ ৮৩, সামিট চার হাজার তিনশ ৮৮ ও কীর্তনখোলা ছয়শ ২১ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বিটিসিএলের পাঁচশ ১৪টি।





