বিশ্বের প্রথম পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান আনল চীন

বিশ্বের প্রথম পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান আনল চীন
৮ জুলাই, ২০২৫ ১০:১৮  
৮ জুলাই, ২০২৫ ১৬:২০  

চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি এয়ার ফোর্স (পিএলএএএফ) প্রথমবারের মতো তাদের পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান জে-২০-এর দুই আসনের একটি সংস্করণকে বিমান বহরে যুক্ত করেছে। 'জে-২০এস' নামে পরিচিত পঞ্চম প্রজন্মের এই নতুন যুদ্ধবিমানটিতে  একজন পাইলটের পাশাপাশি একজন 'ওয়েপন সিস্টেমস অফিসার' রাখার ব্যবস্থা রয়েছে।

দুই আসনের জে-২০এস প্রথম প্রকাশ্যে আসে ২০২১ সালের অক্টোবরে। দীর্ঘদিন ধরে গুঞ্জনের পরে এটির আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্তি চীনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে।

চীনের হেবেই প্রদেশের কাংঝোউ ফ্লাইট ট্রেনিং বেসে অবস্থানরত পিএলএএএফ-এর ১৭২তম এয়ার ব্রিগেডের অধীনে জে-২০এস প্রথমবারের মতো যুক্ত হয়েছে। এই ব্রিগেডটি প্রশিক্ষণ ও কমব্যাট রিজার্ভ—উভয় ভূমিকাই পালন করে। 

চীনের সামরিক গবেষণা সংস্থা চেংদু অ্যারোস্পেস কর্পোরেশন প্রথমে জে-২০ যুদ্ধবিমান তৈরি করেছিল ২০১১ সালে, যার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমে যোগ হয় ২০১৭ সালে। এরপর সেই ফ্রেমওয়ার্কের ওপর ভিত্তি করেই চীন তৈরি করে জে-২০এস, যার প্রথম পরীক্ষামূলক উড়তে দেখা যায় ২০২১ সালের অক্টোবরে। এর আগে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে ব্রিগেডটি প্রথম জে-২০ হাতে পায়। ধারণা করা হচ্ছে, এক আসনের জে-২০ এর তুলনায় জে-২০এস ভিন্ন ধরনের যুদ্ধকৌশল প্রয়োজন, এ বিবেচনাতেই এটি ১৭২তম ব্রিগেডে মোতায়েন করা হয়েছে।

জে-২০এস তৈরি করা হয়েছে সম্পূর্ণ স্টেলথ প্রযুক্তি ব্যবহার করে। এটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে রাডারে ধরা পড়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম থাকে। ফলে, এটি শত্রুপক্ষের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশে বাড়তি সুবিধা দেয়। তবে, দ্বৈত আসন যুক্ত হওয়ার পর শুধু স্টেলথ নয়—নতুন যুদ্ধব্যবস্থার বুদ্ধিমত্তা ও সামরিক এআই ব্যবস্থাকেও এর সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। 

অনেকেই ভাবতে পারেন, দ্বিতীয় আসনটি কেবল প্রশিক্ষণের জন্য। কিন্তু বাস্তবে এর পেছনে আছে অনেক গভীর কৌশল। পেছনের আসনে ড্রোন নিয়ন্ত্রণ, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারে শত্রুর রাডার জ্যামিং, কমান্ড ও কন্ট্রোল পরিচালনার জন্য একজন পাইলট বা ওয়েপন্স সিস্টেম অফিসার থাকতে পারেন। এটি ভবিষ্যতের মানুষ-মানুষবিহীন দলবদ্ধকরণ ধারণার প্রতিফলন, যেখানে যুদ্ধবিমান এবং ড্রোন একসঙ্গে লড়াই করবে।

ধারণা করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বর্তমানে উন্নয়নশীল 'ডার্ক সোর্ড' এর মতো মনুষ্যবিহীন 'উইংম্যান' যুদ্ধবিমান নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করবে। এছাড়া, কিছু পরিবর্তন সাপেক্ষে ইলেকট্রনিক অ্যাটাক এবং আকাশভিত্তিক কমান্ড পোস্ট হিসেবেও এটি ব্যবহৃত হতে পারে। জে-২০এস শুধুমাত্র প্রশিক্ষণ বিমানের ভূমিকা নয়, বরং পূর্ণাঙ্গ ফ্রন্টলাইন যুদ্ধবিমান হিসেবে একক ইউনিটে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

'চায়না'স স্টিলথ ফাইটার: দ্য জে-২০ 'মাইটি ড্রাগন' অ্যান্ড দ্য গ্রোয়িং চ্যালেঞ্জ টু ওয়েস্টার্ন এয়ার ডমিন্যান্স' বইয়ের লেখক আব্রাহাম আব্রামস বলেন, 'জে-২০ ইউনিটের একটি বড় অংশই ভবিষ্যতে দুই আসনের বিমানে রূপ নিতে পারে। যেমন ২০১০-এর শেষ দিকে চীনা ফ্ল্যাঙ্কার যুদ্ধবিমানগুলো এক আসন থেকে দুই আসনে পরিবর্তিত হয়। জে-২০এস-এর উন্মোচনের আগের অফিসিয়াল আর্টওয়ার্কে একসঙ্গে উড়তে দেখা গেছে কেবল দুই আসনের জে-২০, কোনো এক আসনের মডেল নয়—যা ইঙ্গিত দেয় যে, জে-১৬ এর মতো এগুলোর আলাদা ইউনিট তৈরি হতে পারে।'

বিশ্বে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের এফ-২২ রেপ্টর ও এফ-৩৫ লাইটিং ২ কে স্টেলথ শ্রেণির সবচেয়ে আধুনিক যুদ্ধবিমান ধরা হয়। তবে চীন যেভাবে দ্রুত উন্নত প্রযুক্তির জে-২০এস উন্মোচন করেছে, তাতে এই প্রতিযোগিতা আরও জটিল ও ভয়ংকর হতে চলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জে-২০এস শুধু একটি ফাইটার নয়। এটি চীনের আকাশ সীমার পেরিয়ে বিস্তৃত যুদ্ধ নেটওয়ার্ক গঠনের একটি স্তম্ভ।

০৮-জুলাই/ডিজিবিটেক/জিডি