ব্যাংক ও পুঁজিবাজারে আস্থা কমায় সঞ্চয়পত্র বিক্রি বেড়েছে

ঢাকা: পতিত সরকারের অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে ব্যাংক ও পুজিবাজারে ব্যাপক লুটপাট হয়েছে। এতে অনেক ব্যাংক দুর্বল হয়ে পড়ছে। দুর্দশাগ্রস্ত অন্নতত দেড় ডজন ব্যাংক গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে পারছে না। আবার সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আওতায় পুজিবাজিারের তালিকাভুক্ত ৫ ব্যাকসহ দুর্বল ব্যাংকগুলো বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দিচ্ছে না। এতে অনেক গ্রাহক পুজিবাজার ও ব্যাংকের ওপর আস্থা রাখতে পারছে না। […] The post ব্যাংক ও পুঁজিবাজারে আস্থা কমায় সঞ্চয়পত্র বিক্রি বেড়েছে first appeared on Sarabangla | Breaking News | Sports | E

ব্যাংক ও পুঁজিবাজারে আস্থা কমায় সঞ্চয়পত্র বিক্রি বেড়েছে
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:০০  

ঢাকা: পতিত সরকারের অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে ব্যাংক ও পুজিবাজারে ব্যাপক লুটপাট হয়েছে। এতে অনেক ব্যাংক দুর্বল হয়ে পড়ছে। দুর্দশাগ্রস্ত অন্নতত দেড় ডজন ব্যাংক গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে পারছে না। আবার সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আওতায় পুজিবাজিারের তালিকাভুক্ত ৫ ব্যাকসহ দুর্বল ব্যাংকগুলো বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দিচ্ছে না। এতে অনেক গ্রাহক পুজিবাজার ও ব্যাংকের ওপর আস্থা রাখতে পারছে না। অনেকেই এখন ব্যাংকে টাকা রাখতে চাচে।ছন না। এমনকি ব্যাংকে আমানতের সুদ বাড়লেও মানুষের আস্থা পুরোপুরি ফেরেনি। এতে মানুষ আবার জাতীয় সঞ্চয়পত্রের দিকে ঝুকছে। ফলে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাসে জাতীয় সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে ইতিবাচক চমক লক্ষ্য করা গেছে। গত জুলাই মাসে সঞ্চয়পত্র বিক্রিই ২ হাজার ৫৯ কোটি টাকা। টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাসে জাতীয় সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। যদিও বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পুরো সময়জুড়ে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি প্রায় নেতিবাচক ছিল। অর্থাৎ গত অর্থবছরে নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছিল মাত্র ৪৩৬ কোটি টাকা। কিন্তু গত জুলাই মাসে আগের বছরের চেয়ে কয়েকগুন বেশি বিক্রি হয়েছে সঞ্চয়পত্র। মূলত চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে আগের আসল-সুদ পরিশোধের চেয়ে সঞ্চয়প্রত বিক্রিই বেশি হয়েছে ২ হাজার ৫৯ কোটি টাকা। এমনকি তার আগে বিদায়ী অর্থবছরের জুনে সঞ্চয়পত্র বিক্রির চেয়ে পূর্বের সুদাসল পরিশোধ করতে হয়েছিল ৩৬৮ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে কিছু ব্যাংক দুর্বল হয়ে পড়েছে। তারা গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে পারছে না। ফলে অনেকেই এখন ব্যাংকে টাকা রাখতে চায় না। এমন কী ব্যাংকে আমানতের সুদ বাড়লেও মানুষের আস্থা পুরোপুরি ফেরেনি। অন্যদিকে শেয়ারবাজারের অবস্থাও খুব বেশি একটা ভাল না। আর সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সঞ্চয়পত্রের সর্বোচ্চ মুনাফার হার ১১ দশমিক ৮২ থেকে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ অপরিবর্তিত থাকবে। ফলে মানুষ আবার জাতীয় সঞ্চয়পত্রের দিকে ঝুকছে।

সঞ্চয় অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, গত ৩১ জুলাই শেষে সঞ্চয়পত্র বাবদ সরকারের ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৬১ কোটি ৮২ লাখ টাকা। এক মাস আগে জুন শেষে এই স্থিতি ছিল ৩ লাখ ৩৪ হাজার ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।

বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার সাধারণত ব্যাংক ব্যবস্থা ও সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেয়। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরেছিল তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। পরে বিএনপি সরকার সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ১১ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় নামিয়ে আনে। ওই অর্থবছরে মোট ৯২ হাজার ৬১৭ কোটি ৭০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়। এর বিপরীতে সুদ-আসল বাবদ পরিশোধ করতে হয় ৯২ হাজার ৭৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা (যার মধ্যে কেবল মুনাফাই ছিল ৪৭ হাজার ৫১০ কোটি ৩০ লাখ টাকা)। ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা আরও কমিয়ে ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার।

জানা গেছে, বিগত ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সরকার সঞ্চয়পত্র থেকে কোনো ঋণ নিতে পারেনি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ১২ মাসে (জুলাই-জুন) সঞ্চয়পত্র নিট বিক্রি নেতিবাচক ধারায় ছিল। ওই সময়ে সঞ্চয়পত্র বিক্রির চেয়ে আগের আসল-সুদ বাবদ বেশি পরিশোধ করতে হয়েছিল ৬ হাজার ৬৩ কোটি টাকা। এছাড়া, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ১২ মাসেও আগের আসল ও সুদ বাবদ ২১ হাজার ১২৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা বেশি পরিশোধ করতে হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, সরকারের উচ্চ সুদের ঋণের বোঝা কমাতে সাধারণ মানুষকে সঞ্চয়পত্র থেকে সরিয়ে তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক বিকল্প মাধ্যম হিসাবে ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগে উৎসাহিত করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। সঞ্চয়পত্র বিক্রির ইতিবাচক পরিবেশ বজায় রাখতে এবং গ্রাহকদের হয়রানি বন্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য ৯ দফা কড়া নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। আবার সুদের হার না কমিয়ে তা অপরিবর্তিত রেখেছে।

The post ব্যাংক ও পুঁজিবাজারে আস্থা কমায় সঞ্চয়পত্র বিক্রি বেড়েছে first appeared on Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment.