পর্যটনে ১০০০ কোটি টাকা দিলে সমপরিমাণ রেমিট্যান্স আনতে হবে: মুখ্য সচিব
ঢাকা: পর্যটন খাতে সরকার বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করতে প্রস্তুত, তবে এর বিপরীতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার। তিনি বলেন, আপনাদের যদি আমরা ১ হাজার কোটি টাকা দিই, আপনাদের কথা দিতে হবে- এই ১ হাজার কোটি টাকা উন্নয়নে ব্যয় করব এবং এর বিপরীতে ১ হাজার […] The post পর্যটনে ১০০০ কোটি টাকা দিলে সমপরিমাণ রেমিট্যান্স আনতে হবে: মুখ্য সচিব first appeared on Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment.

ঢাকা: পর্যটন খাতে সরকার বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করতে প্রস্তুত, তবে এর বিপরীতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার।
তিনি বলেন, আপনাদের যদি আমরা ১ হাজার কোটি টাকা দিই, আপনাদের কথা দিতে হবে- এই ১ হাজার কোটি টাকা উন্নয়নে ব্যয় করব এবং এর বিপরীতে ১ হাজার কোটি টাকা রেমিট্যান্স বা বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আনব। আপনারা যদি এভাবে ওয়াদা দেন, তাহলে টাকার কোনো সমস্যা হবে না।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পর্যটন ভবনে বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
পর্যটন খাতকে রেমিট্যান্সের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের বড় একটি ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে মুখ্য সচিব বলেন, পর্যটন শিল্পকে এমনভাবে এগিয়ে নিতে হবে, যাতে এটি দেশের অর্থনীতিতে নতুন বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এ জন্য বেসরকারি খাতকে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, প্রকল্পের অধিকাংশ অর্থ যদি প্রচার, আনুষ্ঠানিকতা ও প্রশাসনিক কাজে ব্যয় হয়ে যায়, তাহলে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। তাই পর্যটন খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ফলাফল ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকে গুরুত্ব দিতে হবে।
বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সরকারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখার আহ্বান জানিয়ে এবিএম আবদুস সাত্তার বলেন, আপনারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেননি—এটা আপনাদের একটি অভিযোগের পাশাপাশি আমারও একটি অভিযোগ। আমাদের হাজারো কাজ ও সমস্যা রয়েছে। আপনারা যদি আমাদের সঙ্গে থাকেন, তাহলে ইতিবাচক ফল অবশ্যই আসবে। গত সাত মাসে বিভিন্ন খাতের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এসেছেন। তাদের অনেককে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন খাতের সমস্যা শুনতে চার থেকে ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত সময় দিয়েছেন এবং সমাধানের নির্দেশনা দিয়েছেন।
পর্যটন খাতের উদ্যোক্তাদের নিয়ে একটি পরামর্শক দল গঠনের প্রস্তাব দিয়ে মুখ্য সচিব বলেন, চেয়ারম্যান সাহেবকে অনুরোধ করব, আপনারা ৩০ জনকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করেন। সেখানে সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অধিকাংশ প্রতিনিধি থাকবেন। তারা মিলে একটি প্রেজেন্টেশন তৈরি করবেন। বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরে তথ্য, ছবি ও ভিডিওসহ ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের একটি উপস্থাপনা তৈরি করা যেতে পারে। দেশের দর্শনীয় স্থানগুলোর সম্ভাবনা তুলে ধরে ওই প্রেজেন্টেশন প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করা হবে।
পর্যটনকে রেমিট্যান্সের পর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের আরেকটি বড় ক্ষেত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বোঝাতে হবে। সরকার পর্যটন খাতকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।
বিদেশ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আনার ক্ষেত্রে প্রণোদনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে মুখ্য সচিব বলেন, রেমিট্যান্স পাঠানো ব্যক্তিদের সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রণোদনা দিচ্ছে। পর্যটন খাতের উদ্যোক্তারাও যদি বিদেশি পর্যটক এনে দেশে বৈদেশিক মুদ্রা আনতে পারেন, তাহলে তাদের জন্যও প্রণোদনার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
তিনি বলেন, আপনারা যদি ১০০ ডলার নিয়ে আসেন, ৫ ডলার দিতে আমাদের সমস্যা হওয়ার কথা নয়। আমরা যারা বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স আনতে পারে, ডলার আনতে পারে, তাদের প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছি। আপনারাও যদি বৈদেশিক মুদ্রা আনেন, তাহলে আপনাদের ক্ষেত্রেও এ ধরনের প্রণোদনার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
তবে সরকারের সহায়তা পাওয়ার পাশাপাশি দেশের স্বার্থে পর্যটন খাত কতটা অবদান রাখছে, সেটিও দেখাতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জ্বালানি পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে মুখ্য সচিব বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শুরুর পর গত ছয় মাসে জ্বালানি খাতে সরকার প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে। এতদিন জ্বালানির দাম না বাড়িয়ে সরকার জনগণের ওপর চাপ কমানোর চেষ্টা করেছে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানির দাম এখনও তুলনামূলক কম। তাই পর্যটন খাতের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক বাস্তবতাও বিবেচনায় নিতে হবে।
দেশে পর্যটন অবকাঠামো ও যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি কুয়াকাটা যাওয়ার নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একবার সকালে কুয়াকাটার উদ্দেশে রওনা দিয়েও দীর্ঘ যাত্রার কারণে সন্ধ্যার আগে সেখানে পৌঁছাতে পারেননি। ফলে পরে আর সেখানে যাওয়ার সুযোগ হয়নি।
বিদেশি পর্যটকদের বাংলাদেশে আসার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, প্রশাসনিক জটিলতা ও হোটেলসংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। পর্যটকদের হয়রানি কমিয়ে তাদের জন্য সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করার আহ্বান জানান।
পর্যটন খাতের উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা সুন্দর একটি প্রেজেন্টেশন তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থাপন করবেন। আপনাদের পাশে আমরা আছি। পর্যটন বা সংশ্লিষ্ট খাতে যারা কাজ করছেন, কোনো সমস্যা হলে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। আপনাদের বার্তা আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেব।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দীন এমপি। বক্তব্য দেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আক্তার এবং পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান। এতে সরকারি কর্মকর্তা, বেসরকারি পর্যটন খাতের উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।
The post পর্যটনে ১০০০ কোটি টাকা দিলে সমপরিমাণ রেমিট্যান্স আনতে হবে: মুখ্য সচিব first appeared on Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment.





