লবণাক্ততায় টিকে থাকতে ব্রি’র ২টি নতুন ধান উদ্ভাবন
বাংলাদেশের উপকূলীয় লবণাক্ত অঞ্চলে ধান উৎপাদন দীর্ঘদিন ধরেই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মাটির লবণাক্ততা বাড়ায় কৃষকেরা প্রায়ই উৎপাদনহ্রাসের মুখে পড়ছেন। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) লবণাক্ততা সহনশীল উচ্চফলনশীল ধান জাত উদ্ভাবনে আধুনিক ও সমন্বিত ব্রিডিং কৌশল প্রয়োগ করছে।
ব্রি’র এই cutting-edge salinity tolerant rice breeding কর্মসূচিতে প্রি-ব্রিডিং স্ট্র্যাটেজি এবং এলিট প্যারেন্টাল পুলের সমন্বয় করা হয়েছে। পাশাপাশি SNP-ভিত্তিক জিনোমিক তথ্য, কৃত্রিমভাবে লবণাক্ততা স্ক্রিনিং, এবং মাঠ ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে বহুমাত্রিক ব্রিডিং ট্রায়াল পরিচালনার মাধ্যমে সম্ভাবনাময় লাইন নির্বাচন করা হচ্ছে।
শুধু সহনশীলতা নয়, চালের গুণগত মানকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য apparent amylose content, gel consistency এবং gelatinization temperature-এর মতো physicochemical বৈশিষ্ট্যের তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন লাইন নির্বাচন করা হচ্ছে, যা প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার পাশাপাশি উৎপাদন ও মান—দুই ক্ষেত্রেই উৎকৃষ্ট।
চলমান বোরো মৌসুমে এ কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১,০০০টি উন্নত ব্রিডিং জেনোটাইপ মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ৬৫০টি OYT (Observational Yield Trial), ১৯৬টি PYT (Preliminary Yield Trial), ১১৮টি AYT (Advanced Yield Trial), ৩৬টি MLT (Multi-location Trial) এবং ৪১টি RYT (Regional Yield Trial)।
এই গবেষণা কার্যক্রম ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। সম্প্রতি লবণাক্ততা সহনশীল রোপা আমন মৌসুমের জন্য ‘ব্রি ধান১১২’ এবং বোরো মৌসুমের জন্য ‘ব্রি ধান১১৭’ উদ্ভাবন করা হয়েছে। এসব জাত শুধু লবণাক্ত পরিবেশেই নয়, অলবণাক্ত অনুকূল পরিবেশেও ভালো ফলন দিতে সক্ষম। বিশেষভাবে ‘ব্রি ধান১১৭’ জাতটি ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধেও সক্ষম, যা কৃষকদের জন্য অতিরিক্ত সুবিধা এনে দেবে।
এছাড়া, রোপা আমন মৌসুমের জন্য সম্ভাবনাময় নতুন জাত হিসেবে ‘ব্রি ধান১১৯’ প্রস্তাবনার পর্যায়ে রয়েছে। একইসঙ্গে চলতি বোরো মৌসুমে আরও দুটি সম্ভাবনাময় লাইনের প্রস্তাবিত ভ্যারাইটি ট্রায়াল (PVT) কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
ব্রি’র গবেষকরা মনে করছেন, এসব আধুনিক ব্রিডিং কৌশল ও নতুন জাত উদ্ভাবনের মাধ্যমে উপকূলীয় কৃষি আরও টেকসই, সহনশীল ও উৎপাদনশীল হয়ে উঠবে। ফলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি লবণাক্ত অঞ্চলের কৃষকদের জীবিকায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।



