মাসব্যাপী বইমেলা উদ্বোধন বায়তুল মোকাররমে
ডিজিটাল ইসলামি প্রকাশনা ও গবেষণায় গুরুত্বারোপ
- বিভ্রান্তি প্রতিরোধে নির্ভরযোগ্য প্রকাশনা, ই-বুক এবং টেকসই ডিজিটাল আর্কাইভ গড়ে তোলা অপরিহার্য
- সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে হাজিদের উদ্বৃত্ত অর্থ ফেরত দিয়ে অনন্য নজির স্থাপন
- তেরো সহস্রাধিক ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত ও সেবাইতকে সরকারি সম্মানীর আওতায় আনা হয়েছে
ডিজিটাল প্রযুক্তি, নির্ভরযোগ্য ই-বুক প্ল্যাটফর্ম এবং অনলাইন আর্কাইভের মাধ্যমে ইসলামি জ্ঞানচর্চাকে গবেষণাভিত্তিক ও সময়োপযোগী করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব চত্বরে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ১৪৪৮ হিজরি উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা বিভাগ আয়োজিত 'মাসব্যাপী ইসলামী বইমেলা-২০২৬'-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়। বইমেলার উদ্বোধন করেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ, এইচ, এম কামরুজ্জামান ডিজিটাল যুগে বিভ্রান্তি রোধে নির্ভরযোগ্য প্রকাশনা, ই-বুক ও ডিজিটাল আর্কাইভের মাধ্যমে বিশুদ্ধ জ্ঞান সহজলভ্য করার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি শিশু-কিশোরদের উপযোগী নৈতিক মূল্যবোধভিত্তিক বই প্রকাশের জন্য লেখক ও প্রকাশকদের প্রতি আহ্বান জানান।
বইমেলা উদ্বোধনকালে বর্তমান সরকারের আর্থিক ও ডিজিটাল রূপান্তরের সাফল্য তুলে ধরে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) জানান, ২০২৬ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৩৪১ জন হাজির অব্যয়িত মোট ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের মাধ্যমে ফেরত দিয়ে বর্তমান সরকার এক নতুন নজির স্থাপন করেছে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত উদ্যোগে এ বছর হজের বিমানভাড়া ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়, যা ২০২৩ সালেও ছিল ১ লাখ ৯৭ হাজার ৭৯৭ টাকা।
প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা উল্লেখ করে ধর্মমন্ত্রী বলেন, "স্বাধীনতার পর অন্য কোনো সরকার উদ্যোগ না নিলেও তিনি দেশের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সরকারি ভাতার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নিয়েছেন।" তিনি জানান, ধর্মীয় নেতা ও সেবাকর্মীদের সম্মানী ভাতার আওতায় আনতে ইতোমধ্যেই ১৩ হাজার ৯৪৯ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত ও সেবাইতকে ভাতা প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়া বর্তমান সরকার ‘কৃষক কার্ড’ ও ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর পাশাপাশি সারাদেশে খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকীর স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। প্রসঙ্গত, দেশি-বিদেশি মোট ২০৬টি স্টল নিয়ে আয়োজিত এই মেলা আগামী ১১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ১০টা এবং ছুটির দিনে সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর সমন্বয়ে মেলার সার্বিক ব্যবস্থাপনা পরিচালিত হচ্ছে।
//ডিবিটেক/এমএফএ/এসই/ইআইসি//





