ছুটিতে জম্পেস আইসিবিসি মেলা

ছুটিতে জম্পেস আইসিবিসি মেলা
২৩ মে, ২০২৫ ১৯:৫১  
২৪ মে, ২০২৫ ০১:০৩  

দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত ছিলো ‘ইন্টারন্যাশনাল কেবল টিভি, ব্রডকাস্টিং অ্যান্ড কমিউনিকেশন (আইসিবিসি) এক্সপো-২০২৫’ এর দ্বিতীয় দিন। শুক্রবার ছুটির দিন আইসিসিবির ২ নম্বর হলের পাশের মেলা প্রাঙ্গন হয়ে ওঠে  টেলিভিশন মালিক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কলাকুশলীসহ কেবল অপারেটর, টেকনোলজিভিত্তিক অংশীদার, আমদানিকারক, উৎপাদক এবং বিক্রেতাদের মিলন মেলায়। 

শনিবার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে ভাঙবে এই মিলনমেলা। 

বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল, দেশি-বিদেশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট পণ্য আমদানিকারকসহ উৎপাদনকারীরা মেলায় অংশ নিয়েছে প্রায় ৯৬টি স্টলে। স্টলগুলোতে গিয়ে দর্শনার্থীরা দেখেছেন সম্প্রচার প্রযুক্তির সর্বশেষ আপডেট সম্পর্কে। ক্যাবল টিভি কিভাবে অ্যান্টেনা ছাড়াই অ্যাপে, সেটটপ বক্সে ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে তার পেশনের কুশীলবদের সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন তারা। টেলিভিশন স্টলে অনেক উপস্থাপক কিংবা তাদের সেটের লোগোর সঙ্গে সেলফি তুলতে দেখা গেলো অনেককেই। 

একটি ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ নিয়ে কিভাবে বাড়তি খরচ ছাড়াই আইপি টেলিফোনি, ওটিটি-আইপিটিভির মতো তিন বা ততোধিক সেবা ঘরে ঘরে পৌঁঁছে দেয়ার আয়োজন নিয়ে  ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে তরুণদের মধ্যে। স্টলে আগত ক্রেতাদের উপস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। মেলায় দিনভর চীনা ব্যবসায়ী উদ্যোক্তাদের সরব উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মতো। আজো দর্শনার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলো বাংলাদেশ স্যাটেলাইটের স্টাল। ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান আইসিসি কমিউনিকেশন, আয়না স্কোপ এর মতো প্রতিষ্ঠান। 

অন্যদিকে, একই ছাদের নিচে টেলকো গ্রেডের ক্যাবল, স্লাইসার, মিটারসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য ও সেবা হাতের কাছে পেয়ে খুশি মেলায় অংশগ্রহণকারীরাও। এই খাতে ব্যবসায় ইকো সিস্টেম গড়ে তুলতে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো একে অপরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ফাঁকে ফঁকে। কেউ কেউ আবার যৌথ অংশীদারিত্বে নতুন কোনো সল্যুশন নিয়ে কাজ করতে নতুন ছক কষছেন এই মেলায় বসেই।  

ক্যাবল অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) এর এই আয়োজন নিয়ে সংগঠনটির সভাপতি এ বি এম সাইফুল হোসাইন সোহেল জানালেন, টেলিভিশন মালিক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কলাকুশলীসহ কেবল অপারেটর, টেকনোলজিভিত্তিক অংশীদার, আমদানিকারক, উৎপাদক এবং বিক্রেতাদের সমন্বয়ে মেলাটির আয়োজন করা হয়েছে। টেলিভিশন মালিকদের আয় বাড়াতে এবং কেবল অপারেটরদের ব্যবসা নিরাপদ রাখার উদ্দেশ্য নিয়ে এই খাতে সম্পূর্ণ ডিজিটাইজেশন করাই আমাদের মুখ্য উদ্দেশ্য। এই ডিজিটাইজেশন সম্ভব হলে সরকারও তাদের থেকে বিপুল পরিমাণ কর পাবে, যা বছরে প্রায় হাজার কোটি টাকা।

কোয়াব সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল মামুন বলেন, এবারের আয়োজনে তাদের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সাড়া মিলেছে। প্রথমে ১০০টি ইউনিট লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও পরবর্তীতে কমিয়ে ৮০টি করার কথা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ৯৬টি ইউনিট অংশ নিয়েছে।   

আয়োজকরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে এই নিয়ে তৃতীয়বারের মতো এই মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর আগে ২০০৭ ও ২০০৮ সালে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে এবারের প্রেক্ষাপট ও আয়োজন আগের দুই বারের চেয়ে আরো ব্যাপক ও ভিন্নতা দিয়েছে নতুন নতুন প্রযুক্তির আগমনে।