ইউক্রেনে পুনরায় চালু হলো স্টারশিল্ডের পূর্ণাঙ্গ সেবা
ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনীর ব্যবহারের জন্য স্পেসএক্সের তৈরি সামরিক স্তরের স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক ‘স্টারশিল্ড’-এর ওপর আরোপিত গতির সীমাবদ্ধতা অবশেষে তুলে নেওয়া হয়েছে। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইভগেনি খমারা নিশ্চিত করেছেন যে, নেটওয়ার্কটি পুনরায় তার স্বাভাবিক গতিতে কাজ শুরু করেছে।
এর আগে প্রায় ১০ দিন ধরে এই স্পিড ক্যাপ বা বিধিনিষেধের কারণে ঘণ্টায় ১০০ মাইলের (১৬০ কিলোমিটার) বেশি গতিতে উড়তে থাকা ইউক্রেনীয় ড্রোনগুলো উপগ্রহ সংযোগ হারাচ্ছিল। ফলে রণক্ষেত্রে সামরিক অভিযানের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পাশাপাশি ড্রোনগুলো সরাসরি হামলার মুখামুখি হওয়ার চরম ঝুঁকিতে পড়েছিল।
ট্রাম্প-মাস্ক ফোনালাপ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি স্পেসএক্সের সিইও ইলন মাস্কের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন এবং ইউক্রেনের ওপর থেকে স্টারশিল্ডের এই গতির সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানান।
উল্লেখ্য, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাম্প্রতিক কিছু রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে ট্রাম্প ও মাস্ক উভয়েই সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা করে আসছিলেন।
ইলন মাস্ক এক বার্তায় দাবি করেন, ইউক্রেন তাদের নীতি লঙ্ঘন করে আক্রমণাত্মক ড্রোন হামলায় স্টারলিঙ্ক ব্যবহার করছিল। তিনি সতর্ক করে আরও বলেন, স্টারলিঙ্ক সংযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে ইউক্রেনের ফ্রন্টলাইন ধসে পড়তে পারে।
বেসরকারি প্রযুক্তির ওপর সামরিক নির্ভরতা ও তদন্তের দাবি
হোয়াইট হাউস বা ট্রাম্প প্রশাসন স্পেসএক্সের এই বিধিনিষেধের সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, কোনো সরকারি আদেশে এই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়নি।
তবে একটি বাণিজ্যিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের একক সিদ্ধান্তে সংবেদনশীল যুদ্ধের গতিপথ এবং একটি দেশের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রভাবিত হওয়ার এই ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গন ও মার্কিন কংগ্রেসে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।
কোনো বেসরকারি একক প্রতিষ্ঠানের ওপর সামরিক নির্ভরতার ঝুঁকি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই মার্কিন আইনপ্রণেতারা এ ঘটনার পেছনের সত্যতা উদ্ঘাটনে আনুষ্ঠানিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
ডিবিটেক/বিএমটি । সূত্র: টেকক্রাঞ্চ





