বিজ্ঞান যোগাযোগে জাতীয় পর্যায়ে সেরা
ফেমল্যাব একাডেমিতে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হুমায়রা
- হুমায়রা তাফশির সারা জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন
- ২২ স্কুলের ৪৪ শিক্ষার্থী প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়
- চেলটেনহ্যাম বিজ্ঞান উৎসবে যুক্তরাজ্য সফর করবেন হুমায়রা
জটিল বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও গণিতের ধারণাকে মাত্র তিন মিনিটে সহজ, স্পষ্ট ও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপনের দক্ষতায় ফেমল্যাব একাডেমি বাংলাদেশ ২০২৬-এর জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন লন্ডন স্কুল অব ইংলিশের শিক্ষার্থী হুমায়রা তাফশির সারা। জাতীয় পর্যায়ের এই বিজ্ঞান যোগাযোগ প্রতিযোগিতায় প্রথম রানার-আপ হয়েছেন স্যার জন উইলসন স্কুলের ওয়ারদা ফাতিমা খান এবং দ্বিতীয় রানার-আপ হয়েছেন সেন্ট জোসেফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের মো. জিয়াউল হক রেয়ান।
৭ সেপ্টেম্বর, সোমবার ঢাকার ফুলার রোডে ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রাঙ্গণে ফেমল্যাব একাডেমি বাংলাদেশ ২০২৬-এর গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠিত হয়। দেশের পরবর্তী প্রজন্মের বিজ্ঞান যোগাযোগকারীদের তুলে ধরতে আয়োজিত এবারের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ ও প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে।
ফেমল্যাব একাডেমি নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত একটি স্টেম (বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত) যোগাযোগ প্রতিযোগিতা। এতে প্রতিযোগীদের কোনো পাওয়ারপয়েন্ট স্লাইড, ডিজিটাল সহায়তা বা লিখিত নোট ব্যবহার না করে খালি মঞ্চে হাতে বহনযোগ্য উপকরণ ব্যবহার করে তিন মিনিটের মধ্যে একটি জটিল বৈজ্ঞানিক, প্রকৌশল বা গাণিতিক ধারণা ব্যাখ্যা করতে হয়।
প্রতিযোগীদের মূল্যায়নে মূলত তিনটি বিষয় বিবেচনা করা হয়—বিষয়বস্তু, স্পষ্টতা ও উপস্থাপনার আকর্ষণীয়তা। অর্থাৎ শুধু কোনো বৈজ্ঞানিক বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান থাকলেই হয় না; সেটি অন্যদের কাছে কতটা সহজবোধ্য ও আগ্রহ তৈরি করে উপস্থাপন করা যায়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
এবারের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশজুড়ে ২২টি স্কুলের ৪৪ জন প্রার্থী অংশ নেন। গত বছর ১১টি স্কুলের ৩১ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। আঞ্চলিক পর্যায়ে মোট ৩৯ জন শিক্ষার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সেখান থেকে ১০ জন গ্র্যান্ড ফিনালের জন্য নির্বাচিত হন।
গ্র্যান্ড ফিনালের ১০ প্রতিযোগী সাতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করেন। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—স্যার জন উইলসন স্কুল, লন্ডন স্কুল অব ইংলিশ, কিডস ক্যাম্পাস স্কুল, প্যারামাউন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ম্যাপল লিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ঢাকা, গ্রেস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এবং সেন্ট জোসেফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল।
অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মার্কেটপ্রধান জুনায়েদ আহমেদ বলেন, “ফেমল্যাব আসলে ফাইনালিস্টরা কতটা জানেন, তা পরীক্ষা করছে না। বরং তাঁরা যা জানেন, সেটি নিয়ে অন্যদের কতটা আগ্রহী করে তুলতে পারেন, সেটি পরীক্ষা করছে। কোনো বিষয় জানা এবং সেটি অন্যকে বোঝাতে পারা দুটি ভিন্ন দক্ষতা। আজকের নম্বরের দুই-তৃতীয়াংশ নির্ভর করছে একজন প্রতিযোগী কতটা ভালোভাবে বোঝাতে পারছেন তার ওপর, শুধু তিনি কতটা জানেন তার ওপর নয়।”
গ্র্যান্ড ফিনালের উপস্থাপনাগুলো মূল্যায়ন করেন তিন সদস্যের বিচারক প্যানেল। এতে ছিলেন ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের বিজনেস ইমপ্রুভমেন্ট বিভাগের প্রধান আহসানুল আজাদ, আইসিডিডিআর,বির গবেষণা সহকারী ফারিয়া মারহা এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. সালেকুল ইসলাম।
গ্র্যান্ড ফিনালের আগে ২৬ ও ২৭ আগস্ট জাতীয় পর্যায়ের ১০ ফাইনালিস্ট দুই দিনের একটি মাস্টারক্লাসে অংশ নেন। যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানবিষয়ক টেলিভিশন উপস্থাপক ও মাস্টার ট্রেইনার ডালাস ক্যাম্পবেলের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এই মাস্টারক্লাসে মঞ্চে উপস্থিতি, গল্প বলার কৌশল ও উপস্থাপনার দক্ষতার ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হিসেবে হুমায়রা তাফশির সারা ব্রিটিশ কাউন্সিলের অর্থায়নে যুক্তরাজ্যের চেলটেনহ্যাম বিজ্ঞান উৎসবে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। তাঁর এই সফরের সব খরচ বহন করবে ব্রিটিশ কাউন্সিল।
এ ছাড়া প্রতিযোগিতার ১০ ফাইনালিস্টই বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পুরস্কার পেয়েছেন। গোযায়ান বিজয়ী হুমায়রাকে ১০ হাজার টাকার ভ্রমণ ভাউচার এবং অন্য নয়জন ফাইনালিস্টকে তিন হাজার টাকা করে ভ্রমণ ভাউচার দিয়েছে। গরুর ঘাস ফ্যাশন পোশাকে ২০ শতাংশ ছাড়ের ভাউচার দিয়েছে।
প্রথম আলো ফাইনালিস্টদের ১২ মাসের ডিজিটাল ই-পেপার সাবস্ক্রিপশন দিয়েছে। এর আওতায় কিশোর আলো ও বিজ্ঞান চিন্তার ই-সংস্করণও রয়েছে। গ্র্যাবগো সব ফাইনালিস্টকে প্রিমিয়াম ব্যাকপ্যাক এবং হেডগিয়ার কাস্টম ক্যাপ দিয়েছে।
সনদ বিতরণ ও শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্কুলের অধ্যক্ষ, মেন্টর ও অতিথিদের অংশগ্রহণে নেটওয়ার্কিং পর্বের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়। এবারের আয়োজনের মাধ্যমে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জটিল বিষয়কে সহজ ভাষায় সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান যোগাযোগ, সৃজনশীল উপস্থাপন এবং মঞ্চভিত্তিক যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
//ডিবিটেক/এমআরএমপি/এসএমই /এমআইএস //





