• ইন্টারনেটের মানই হবে ডিজিটাল বৈষম্যের প্রধান নির্ধারক: বিটিআরসি চেয়ারম্যান

২০২৯ সালের মধ্যে বন্ধ হতে পারে ২জি, স্মার্টফোনের দাম কমাতে ইএমআই ও সিম-লকের সিদ্ধান্ত

২০২৯ সালের মধ্যে বন্ধ হতে পারে ২জি, স্মার্টফোনের দাম কমাতে ইএমআই ও সিম-লকের সিদ্ধান্ত
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১৩:৫৫  

ভবিষ্যতে ডিজিটাল বৈষম্য বা ডিজিটাল বিভাজন (Digital Divide) কেবল ইন্টারনেট সংযোগের ওপর নির্ভর করবে না, বরং ইন্টারনেটের মান (Quality of Service) হবে বৈষম্যের প্রধান নির্ধারক। সংযোগ, ডিভাইস, ডিজিটাল সাক্ষরতা ও প্রয়োজনীয় সহায়ক ব্যবস্থার সমন্বিত বিকাশ ছাড়া প্রকৃত ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদুল বারী।

​বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর হোটেল শেরাটনে গ্রামীণফোন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি দেশের টেলিযোগাযোগ খাতের নানাবিধ চিত্র তুলে ধরেন।

​বিটিআরসি চেয়ারম্যান জানান, দেশের ৯৮.৯ শতাংশ পরিবারের কাছে মোবাইল সংযোগ থাকলেও কভারেজের বাইরে থাকা ৩৫ শতাংশ মানুষের ক্ষেত্রে এখনও "কানেক্টিভিটি গ্যাপ" রয়েছে। এছাড়া দেশের মোট জনসংখ্যার মাত্র ৪৪ থেকে ৪৭ শতাংশ নিয়মিত ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। বর্তমানে প্রায় ৯০ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী মোবাইল ব্রডব্যান্ডের ওপর নির্ভরশীল, যা দীর্ঘমেয়াদে একটি বড় কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা। পাশাপাশি গ্রাম ও শহরের ইন্টারনেট ব্যবহারের বৈষম্যও এখনও প্রকট।

​সেবার মান ও ইন্টারনেটের পরিমাপ পদ্ধতি নিয়ে মোবাইল অপারেটরদের সাথে একটি অভিন্ন মানদণ্ডে বিটিআরসি একমত হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী প্রান্তিক থেকেই সারাদেশে মোবাইল নেটওয়ার্কের সেবার মানের তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে। এছাড়া ফোরজি সেবা জোরদার করতে ইতোমধ্যে ৭০০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম নিলাম সম্পন্ন হয়েছে।

​স্মার্টফোনের দাম কমানো ও ডিভাইসের প্রাপ্যতা বাড়াতে সরকার ইএমআই (EMI) সুবিধা, সিম-লক প্রযুক্তির অনুমোদন এবং মোবাইল ওয়ালেটের মাধ্যমে ডিভাইস কেনার সুব্যবস্থা জোরদার করছে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির কারণে প্রসেসর ও হাই-স্পিড মেমোরির দাম বাড়ায় ভবিষ্যতে এআই স্মার্টফোনের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন। এছাড়া পরিচালনা ব্যয় কমাতে ২০২৯ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে ২জি (2G) নেটওয়ার্ক বন্ধের লক্ষ্য নিয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে বলেও জানান তিনি।

​ডিজিটাল সাক্ষরতার ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের ৮৫ শতাংশেরই মৌলিক ডিজিটাল দক্ষতা নেই। তাই প্রতিটি পরিবারে অন্তত একজন দক্ষ ব্যক্তি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারগুলোকে অনলাইনভিত্তিক ‘ডিজিটাল লাইটহাউস’-এ রূপান্তর এবং পারিশ্রমিকভিত্তিক ‘ডিজিটাল অ্যাম্বাসেডর’ তৈরির ওপর জোর দেন।

//ডিবিটেক/আইএইচ/এমআই//