ইতিহাস গড়ে ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের ক্লাবে অ্যাপল
বিশ্বের দ্বিতীয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাজারমূল্যে পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলার স্পর্শ করে নতুন রেকর্ড গড়েছে মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। পুঁজিবাজারে মার্কিন এই শেয়ারের দরবৃদ্ধির ফলে মঙ্গলবার লেনদেনের একপর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটির মোট বাজারমূল্য ৫.০৩৬ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। সেমিকন্ডাক্টর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার পর ইতিহাসে দ্বিতীয় কোম্পানি হিসেবে এই অভূতপূর্ব অর্জন নিজেদের ঝুলিতে নিয়েছে আইফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি।
পণ্য চাহিদা ও মেগা পরিকল্পনা
লেনদেনের শুরুতে অ্যাপলের শেয়ার দর ১.৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে প্রতি শেয়ারের মূল্য দাঁড়ায় ৩৪২.৮৯ ডলারে। এর মাধ্যমে চলিত মাসের শুরুতেই এনভিডিয়াকে পেছনে ফেলে বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ স্থানটি পুনরুদ্ধার করে অ্যাপল। চলতি বছরে অ্যাপলের শেয়ারের দর বেড়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ, যা সিলিকন ভ্যালির অন্যান্য শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনায় বেশ লক্ষণীয়।
অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই অবকাঠামো ও ডাটা সেন্টার তৈরিতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে নগদ অর্থের ঘাটতি ও ঋণের মুখে পড়ছে, সেখানে অ্যাপল এই অন্ধ প্রতিযোগিতার বাইরে থেকে বুদ্ধিদীপ্ত কৌশল গ্রহণ করেছে। নিজস্ব এআই মডেল তৈরির পেছনে বিপুল অর্থ ঢালার বদলে গুগল নির্মিত এআই প্রযুক্তিকে নিজেদের সিরি সেবায় সমন্বিত করেছে তারা। এতে মেগা অবকাঠামোগত বিশাল খরচ এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
ভোক্তা ধরে রাখার নতুন কৌশল
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ম্যাকবুক ও আইপ্যাডের দাম কিছুটা বাড়ালেও মূল চালিকাশক্তি আইফোনের দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্তটি অ্যাপলের পণ্যের চাহিদা বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কায় ক্রেতারা আগের চেয়েও বেশি সংখ্যায় আইফোন কেনায় নজর দেন।
একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রে আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ক্লার্নার সহযোগিতায় একটি নতুন পণ্য ইজারা বা লিজিং প্রকল্প চালু করেছে অ্যাপল। এর আওতায় আইফোনের মূল্য একবারে পরিশোধের বদলে সাশ্রয়ী মাসিক কিস্তিতে ডিভাইস ব্যবহারের সুযোগ পাবেন গ্রাহকেরা।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফরেস্টারের মতে, সরাসরি আইফোনের দাম না কমিয়ে গ্রাহকদের মনস্তাত্ত্বিক স্বস্তি দিতে এবং বিক্রির গতি বাড়াতে এটি একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী পদক্ষেপ। সব মিলিয়ে আগামী প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদনে ১৫ শতাংশের বেশি রাজস্ব বৃদ্ধির আশাবাদ ব্যক্ত করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।
ডিবিটেক/বিএমটি । সূত্র: রয়টার্স





