টার্মিনাল-৩ চালু না হওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রাম-সিলেট ব্যবহারের আহ্বান

শাহজালালে অতিরিক্ত আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে স্থগিতাদেশ

  • যাত্রী ও উড়োজাহাজের চাপ সামলাতে নতুন ফ্লাইট অনুমোদন স্থগিত
  • অতিরিক্ত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চট্টগ্রাম ও সিলেটে পরিচালনার আহ্বান
  • টার্মিনাল-৩ চালু হলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ইঙ্গিত

শাহজালালে অতিরিক্ত আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে স্থগিতাদেশ
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১৪:৪৫  

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী ও উড়োজাহাজের ক্রমবর্ধমান চাপ সামাল দিতে অতিরিক্ত নির্ধারিত আন্তর্জাতিক যাত্রীবাহী ফ্লাইট পরিচালনার অনুমোদন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। টার্মিনাল-৩ পূর্ণাঙ্গভাবে চালু না হওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে।

এ বিষয়ে বেবিচক ইতোমধ্যে ৩৮টি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসের কাছে নির্দেশনাপত্র পাঠিয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, যেসব এয়ারলাইনসের বাংলাদেশে পরিচালন বেস (Operational Base) নেই, তাদের ক্ষেত্রে বর্তমানে অনুমোদিত সময়সূচি ও ফ্লাইট ফ্রিকোয়েন্সির বাইরে অতিরিক্ত নির্ধারিত যাত্রীবাহী ফ্লাইটের আবেদন গ্রহণ করা হবে না। কারণ, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালন সক্ষমতা বর্তমানে ব্যবহারিক সীমায় পৌঁছেছে।

বেবিচক আরও জানিয়েছে, পূর্বে কোনো স্লট (Slot) বরাদ্দ থাকলেও সেটিকে অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার অনুমোদন হিসেবে গণ্য করা যাবে না। নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকা অবস্থায় স্লট বরাদ্দের ভিত্তিতে অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগও থাকবে না।

চট্টগ্রাম ও সিলেটে ফ্লাইট বাড়ানোর আহ্বান
শাহজালাল বিমানবন্দরের ওপর চাপ কমাতে অতিরিক্ত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য এয়ারলাইনসগুলোকে চট্টগ্রামের হযরত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে বেবিচক।

যেসব বিদেশি এয়ারলাইনসের বাংলাদেশে অপারেশনাল বেস নেই, তারা চাইলে এই দুই বিমানবন্দর ব্যবহার করে অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার অনুমোদনের জন্য আবেদন করতে পারবে।

টার্মিনাল-৩ চালু হলে বাড়বে সক্ষমতা
বেবিচকের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডোর আবু সাঈদ মেহবুব খান বলেন, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওপর অপারেশনাল চাপ কমাতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, টার্মিনাল-৩ চালু হলে বিমানবন্দরের যাত্রী হ্যান্ডলিং ও পরিচালন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। তখন অতিরিক্ত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার ওপর বর্তমান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে।

দৈনিক ৩১৬টি উড়োজাহাজ চলাচল
বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিদিন গড়ে ১৪০ থেকে ১৬০টি আন্তর্জাতিক যাত্রীবাহী, ১২৫ থেকে ১৪০টি অভ্যন্তরীণ এবং ১০ থেকে ১৬টি আন্তর্জাতিক কার্গো ফ্লাইট পরিচালিত হয়। এছাড়া ব্যক্তিমালিকানাধীন হেলিকপ্টার চলাচলও রয়েছে।

সব মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩১৬টি উড়োজাহাজ বিমানবন্দরটি ব্যবহার করছে। এর ফলে রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে, টার্মিনাল, অ্যারোব্রিজ, চেক-ইন কাউন্টার, ইমিগ্রেশন এবং ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং ব্যবস্থার ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার হিসেবে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওপর চাপ কমাতে আঞ্চলিক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো এবং টার্মিনাল-৩ দ্রুত পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা এখন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ চাহিদা।
//ডিবিটেক/বিটিও/এমআইএস//