ম্যাকবুক এয়ারে কেন ফ্যান ব্যবহার করা হয় না
অ্যাপলের জনপ্রিয় ল্যাপটপ সিরিজ 'ম্যাকবুক এয়ার'-এ কোনো কুলিং ফ্যান ব্যবহার করা হয় না। ইন্টেল প্রসেসর বাদ দিয়ে ২০২০ সালের শেষের দিকে নিজস্ব 'এম-সিরিজ' চিপসেট চালু করার পর থেকেই এই বাহ্যিক পরিবর্তন আনে অ্যাপল। ফ্যান না থাকা সত্ত্বেও কেন এই ল্যাপটপটি সচল থাকে এবং এতে কী সুবিধা বা অসুবিধা রয়েছে, তা অনেকের কাছেই কৌতূহলের বিষয়।
অ্যাপল সিলিকন প্রসেসর ও প্যাসিভ কুলিং
মূলত অ্যাপলের নিজস্ব এম-সিরিজ প্রসেসরের বিদ্যুৎ-দক্ষতা বা পাওয়ার ইফিসিয়েন্সির কারণেই ফ্যান বাদ দেওয়া সম্ভব হয়েছে। পূর্বে ব্যবহৃত ইন্টেল চিপের তুলনায় এসব আধুনিক প্রসেসর অনেক কম তাপে এবং কম বিদ্যুতে বেশি কার্যক্ষমতা দিতে পারে।
ল্যাপটপটি ঠান্ডা রাখতে ফ্যানের সক্রিয় বাতাসের বদলে একটি অ্যালুমিনিয়াম ধাতব হিট স্প্রেডার বা প্যাসিভ কুলিং মেকানিজম ব্যবহার করা হয়েছে। এটি প্রসেসরের বাড়তি উত্তাপ পুরো অ্যালুমিনিয়াম কেসিংয়ে ছড়িয়ে দিয়ে বাইরে বের করে দেয়। ফলে সাধারণ কাজ করার সময় কোনো ধরনের ফ্যানের শব্দ ছাড়াই সম্পূর্ণ নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে ল্যাপটপটি।
ফ্যান না থাকার ভালো ও মন্দ দিক
ফ্যান না থাকার সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হলো কোনো প্রকার যান্ত্রিক আওয়াজ না হওয়া। অনেক গেমিং বা ভারী ল্যাপটপে একটানা ফ্যান ঘোরার শব্দ বিরক্তির কারণ হয়, যা ম্যাকবুক এয়ারে নেই। পাশাপাশি ফ্যান ও এর সম্পর্কিত যন্ত্রাংশ সরে যাওয়ায় ল্যাপটপটি আগের সংস্করণের তুলনায় হালকা হয়েছে এবং ব্যাটারি ব্যাকআপও কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে এর কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। একটানা দীর্ঘসময় ৪কে ভিডিও এডিটিং বা ভারী গেম খেলার মতো উচ্চ ক্ষমতার কাজ করলে ল্যাপটপটি বেশ উত্তপ্ত হতে পারে। এমন অবস্থায় ডিভাইসের তাপমাত্রা সহনীয় পর্যায়ে রাখতে প্রসেসর স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার কাজের গতি কিছুটা কমিয়ে দেয়, যাকে 'থার্মাল থ্রোটলিং' বলা হয়। ফলে খুব ভারী কাজের ক্ষেত্রে কাজের গতি কিছুটা ধীর হতে পারে।
কার জন্য কোনটি উপযোগী?
সাধারণ ব্যবহারকারী, শিক্ষার্থী, লেখক কিংবা অফিসে স্বাভাবিক কাজ করা পেশাজীবীদের জন্য নিরশব্দ ও হালকা ম্যাকবুক এয়ার চমৎকার একটি ডিভাইস। তবে যারা প্রতিনিয়ত গ্রাফিক্স বা ভারী ভিডিও রেন্ডারিংয়ের কাজ করেন, তাদের জন্য মেমোরি ও সক্রিয় ফ্যান কুলিং ব্যবস্থা সমৃদ্ধ 'ম্যাকবুক প্রো' সিরিজ বেশি কার্যকর হতে পারে।
ডিবিটেক/বিএমটি





