সাইবার বুলিং অভিযোগে তদন্তে আইটি ফরেনসিক
ভাইরাল ভিডিও ঘিরে শিক্ষিকার জিডি
- ভাইরাল ভিডিওকে ঘিরে থানায় জিডি
- অভিযুক্ত ফেসবুক আইডি আইটি ফরেনসিকে পাঠানো
- আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়েছে কি না, খতিয়ে দেখছে শিক্ষা বিভাগ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে অপপ্রচার, হয়রানি এবং সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রাণী পাল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। অভিযোগে উল্লেখিত ফেসবুক অ্যাকাউন্টগুলো শনাক্তে আইটি ফরেনসিক বিশ্লেষণ শুরু করেছে পুলিশ।
২৭ জুলাই, সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান।
পুলিশ জানায়, সম্প্রতি ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার একটি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ধারণ করা বিউটি রাণী পালের একটি রিল ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে শাড়ি পরা অবস্থায় একটি বাংলা গানের সঙ্গে তাকে বিভিন্ন ভঙ্গিতে হাঁটতে দেখা যায়। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
পরবর্তীতে ভিডিওকে কেন্দ্র করে অপপ্রচার, ব্যক্তিগত হয়রানি এবং সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অভিযোগ এনে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। জিডিতে উল্লেখ করা হয়, কয়েকটি ফেসবুক আইডি থেকে তাকে অপমানজনক ও সম্মানহানিকরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জিডিতে উল্লেখিত ফেসবুক আইডিগুলো শনাক্তের জন্য আইটি ফরেনসিক পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, ‘ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিদিন’ এবং ‘ইব্রাহিম খলিল’ নামের ফেসবুক আইডিসহ অভিযোগে উল্লেখিত অন্যান্য অ্যাকাউন্টও তদন্তের আওতায় রয়েছে। ফরেনসিক বিশ্লেষণ ও তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, ভাইরাল ভিডিওটি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আচরণবিধি বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নির্দেশিকার কোনো লঙ্ঘন করেছে কি না, তা প্রশাসনিকভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখাওয়াত এরশেদ বলেন, প্রাথমিক পর্যালোচনায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক যাচাই-বাছাই অব্যাহত রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত ভিডিও বা তথ্য ছড়িয়ে দিয়ে কাউকে লক্ষ্য করে অপমান, হয়রানি বা সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগ উঠলে তা প্রযুক্তিগত ও আইনগত উভয় দৃষ্টিকোণ থেকেই তদন্তের বিষয়। তাই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তথ্য শেয়ার ও মন্তব্য করার ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি।
//ডিবিটেক/ ডিপিও/ এমএসআই//





