ওটিটি যুগে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় গুরুত্বারোপ তথ্যমন্ত্রীর

প্রযুক্তি বদলাচ্ছে সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ: স্বপন

  • প্রযুক্তির রূপান্তরে বদলাচ্ছে সংবাদ গ্রহণের ধরণ
  • মিসইনফরমেশন মোকাবিলায় বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার আহ্বান
  • ওয়েজবোর্ড, টিআরপি ও বিজ্ঞাপন নীতিতে কাজ করছে সরকার

প্রযুক্তি বদলাচ্ছে সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ: স্বপন
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১৮:৪৬  

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ সাংবাদিকতা পেশায় নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। সংবাদপত্রের গণ্ডি পেরিয়ে এখন মানুষ বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস ও ওটিটি (ওভার-দ্য-টপ) প্ল্যাটফর্মে সংবাদ গ্রহণ করছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাংবাদিকদের দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব আরও বাড়াতে হবে।

সোমবার সকালে বরিশাল সার্কিট হাউজের সম্মেলনকক্ষে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট আয়োজিত এবং বরিশাল জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত ‘বরিশাল বিভাগের সাংবাদিকদের কল্যাণে করণীয় বিষয়ক মতবিনিময় সভা’-য় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বর্তমানে মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন শনাক্ত করা অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। প্রযুক্তির বহুমাত্রিক ব্যবহারে সাংবাদিকতার পরিধি যেমন বেড়েছে, তেমনি ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্যও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। তাই সাংবাদিকদের প্রধান দায়িত্ব হবে তথ্য যাচাই করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করা।

তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে তথ্যের প্রবাহ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। এর মধ্যে থেকে নির্ভুল ও বিশ্বাসযোগ্য তথ্য আলাদা করা কঠিন হয়ে উঠেছে। কেউ কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তথ্য দূষণের জন্যও সাংবাদিকতার অপব্যবহার করছেন। এ কারণে দায়িত্বশীল ও তথ্যনির্ভর সাংবাদিকতার গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতা পেশা বর্তমানে বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মুখে। অধিকাংশ শিল্পপ্রতিষ্ঠান মুনাফার উদ্দেশ্যে গণমাধ্যমে বিনিয়োগ করলেও সাংবাদিকতা পেশাকে দীর্ঘমেয়াদে টিকিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতামূলক কাঠামো এখনো গড়ে ওঠেনি।

তিনি বলেন, সাংবাদিকরা সমাজ ও রাষ্ট্রের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে রাষ্ট্রের দর্পণ হিসেবে কাজ করেন। তাদের স্বাধীন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা না থাকলে কোনো গণতান্ত্রিক ও সভ্য রাষ্ট্র টেকসইভাবে এগিয়ে যেতে পারে না। তাই রাষ্ট্রের স্বার্থেই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাকে টিকিয়ে রাখা জরুরি।

মন্ত্রী জানান, গণমাধ্যম খাতকে আরও শক্তিশালী ও পেশাদার করতে সরকার সাংবাদিকদের জন্য ওয়েজবোর্ড, সম্পাদক নীতিমালা, পত্রিকার বিজ্ঞাপন নীতি, প্রচারসংখ্যা নির্ধারণ ব্যবস্থা এবং টেলিভিশন রেটিং পয়েন্ট (টিআরপি)-সংক্রান্ত নীতিমালা নিয়ে কাজ করছে।

তিনি মেধাবী, দক্ষ ও পেশাদার সাংবাদিকদের পেশায় ধরে রাখতে সরকার, গণমাধ্যম মালিক এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

সভায় বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল বাছিরের সভাপতিত্বে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য খন্দকার কাওছার হোসেন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শাহজাহান সাজু এবং বরিশাল জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আযাদ আলাউদ্দীন বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
//ডিবিটেক/আইএইচআইপি/এমআইএস//