ফোন বন্ধ থাকলেও কেন চার্জ কমে?

ফোন বন্ধ থাকলেও কেন চার্জ কমে?
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১০:০০  

জরুরি মুহূর্তে চার্জ বাঁচানোর আশায় অনেকেই ব্যবহৃত স্মার্টফোনটি পুরোপুরি বন্ধ করে রেখে দেন। তবে ফোন বন্ধ করে ড্রয়ারে রেখে দেওয়ার কিছুদিন পর চালুর সময় দেখা যায় আগের মতো চার্জ আর অবশিষ্ট নেই। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, যন্ত্র পুরোপুরি বন্ধ থাকলেও ব্যাটারির চার্জ শূন্য হওয়া থামে না। এর পেছনে অভ্যন্তরীণ ইলেকট্রনিক ব্যবস্থাপনা ও ব্যাটারির রাসায়নিক প্রক্রিয়া দায়ী।

অভ্যন্তরীণ সার্কিট ও রাসায়নিক নিঃসরন
মোবাইল ফোন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকা অবস্থায়ও এর ভেতরের একটি বিশেষ সার্কিট চালু থাকে। এটিকে বলা হয় 'ক্লক-অ্যান্ড-ওয়েক' সার্কিট। পাওয়ার বোতাম চাপলে যেন ফোনটি সাথে সাথে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে এবং চালু হওয়ার পর সঠিক সময় ও তারিখ প্রদর্শন করতে পারে, সেজন্য এটি সামান্য পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করে।

তবে ব্যাটারির চার্জ কমে যাওয়ার প্রধান কারণ হলো লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির নিজস্ব রাসায়নিক ক্ষয় প্রক্রিয়া। বন্ধ থাকা অবস্থায়ও এই ব্যাটারি প্রতি মাসে গড়ে এক থেকে দুই শতাংশ শক্তি হারায়। ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রার চেয়ে বেশি গরম স্থানে রাখা হলে এই ক্ষয়ের গতি আরও দ্রুত হয়।

ব্যাটারি ভালো রাখার সঠিক নিয়ম
দীর্ঘদিন কোনো ফোন ব্যবহার না করে রেখে দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে অ্যাপলসহ প্রধান প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাটারি ৫০ শতাংশ চার্জ থাকা অবস্থায় সেটি বন্ধ করার পরামর্শ দেয়। পুরোপুরি চার্জ করে কিংবা একদম শূন্য চার্জে ফোন ফেলে রাখা উচিত নয়। দীর্ঘদিন চার্জ ছাড়া পড়ে থাকলে ব্যাটারির তামার সংগ্রাহক গলে গিয়ে ভেতরের রাসায়নিক গঠন স্থায়ীভাবে নষ্ট হতে পারে, যা ব্যাটারির ধারণক্ষমতা কমিয়ে দেয় বা শর্ট সার্কিটের ঝুঁকি বাড়ায়।

অব্যবহৃত ফোনটি অন্তত প্রতি ছয় মাস পর বের করে পুনরায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ দিয়ে শুষ্ক ও ঠান্ডা স্থানে সংরক্ষণ করা উচিত। শতভাগ চার্জ না হলেও এই সচেতনতায় মোবাইলের ব্যাটারির আয়ু ও কর্মক্ষমতা বহু বছর বজায় রাখা সম্ভব।

 ডিবিটেক/বিএমটি