সেমিকন্ডাক্টর ও এআই শিল্পে বৈশ্বিক নেতৃত্ব দেওয়ার অঙ্গীকার আইসিটি উপদেষ্টার
বিশ্ব জয় করতে তৈরি দেশের তরুণ মেধাবীরা: রেহান আসিফ আসাদ
- সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে ১০০% ভ্যাট অব্যাহতি এবং সর্বাত্মক সরকারি সহায়তার আশ্বাস
- বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুলে অত্যাধুনিক ল্যাব এবং এআই জিপিইউ (GPU) সেন্টারের উদ্যোগ
- জনতা টাওয়ার’কে এআই নির্ভর জিপিইউ (GPU) কম্পিউটিং সেন্টারে রূপান্তরের কাজ শুরু
চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের মূল শক্তি হলো সংযোগ, সেমিকন্ডাক্টর এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। এই প্রযুক্তির যুগে নিজেদের অবস্থান কেবল নির্ধারণ করাই নয়, বিশ্বজুড়ে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো মেধা ও সম্ভাবনা বাংলাদেশের তরুণদের রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি, টেলিকম ও বিজ্ঞান বিষয়ক উপদেষ্টা প্রকৌশলী রেহান আসিফ আসাদ।
২৫ জুলাই, শনিবাররাজধানীর তেজগাঁওয়ের নভো থিয়েটারে আয়োজিত ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি, ইলেকট্রনিক্স, এআই অ্যান্ড রোবোটিক্স সামিট-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা তার দীর্ঘ বৈশ্বিক কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, বিগত ২৫ বছর বিশ্বকে বাইরে থেকে দেখার পর সরকারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে দেশীয় সম্ভাবনা অনুধাবন করার সুযোগ হয়েছে। দেশীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তরুণ শিক্ষার্থীদের সাইবার নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন আন্তর্জাতিক মানের। তারা যে মানের সফটওয়্যার তৈরি করছে, তা দেশের আইটি চাহিদাকে স্বাবলম্বী করতে সক্ষম এবং কোটি ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচাতে পারে। তরুণদের এই বৈশ্বিক স্বপ্ন দেখতে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সঠিক মেন্টরিং ও সুযোগ সুবিধা দেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।
প্রযুক্তি খাতের বিকাশে সরকারের বিভিন্ন সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের কথা জানিয়ে প্রকৌশলী রেহান আসিফ আসাদ বলেন, সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য ১০০% ভ্যাট ছাড়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং এর ধারাবাহিকতায় অন্যান্য কর সহজীকরণেও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ চলছে। এছাড়া প্রাথমিক স্তর থেকেই শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক জ্ঞানের জন্য স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অত্যাধুনিক ল্যাব সুবিধা তৈরির প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। উদ্ভাবক ও শিক্ষার্থীদের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন প্রসেসিং সুবিধা দিতে জাপানি ও কোরীয় অংশীদারদের সহায়তায় ‘জনতা টাওয়ার’কে এআই নির্ভর জিপিইউ (GPU) কম্পিউটিং সেন্টারে রূপান্তরের কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি। প্রতিবছর বের হওয়া ২০ থেকে ৩০ হাজার তরুণ গ্র্যাজুয়েটকে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে বিশ্ব বাজার উপযোগী করে তোলার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন উপদেষ্টা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন ডাক, টেলিযোগাযোগ, আইসিটি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব এম আনোয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম এ জব্বার। সম্মেলনের মূল কী-নোট উপস্থাপন করেন যুক্তরাষ্ট্রের পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি সেমিকন্ডাক্টর ও ডিপ-টেক কৌশল প্রণয়ন উদ্যোগের আহ্বায়ক অধ্যাপক মুহাম্মদ মুস্তফা হুসাইন।
//ডিবিটেক/আইএইচ/এমআইএস//





