১৫০ কোটি টাকার থোক বরাদ্দ ও পরামর্শক ব্যয় নিয়ে পরিকল্পনা কমিশনের প্রশ্ন

পায়রা বন্দরের ১৭৫ কোটি টাকার আইসিটি প্রকল্পে আপত্তি

  • পায়রা বন্দরে ১৭৫ কোটি টাকার আইসিটি পোর্ট অপারেটিং সিস্টেম প্রকল্পে ১৫০ কোটি টাকার থোক বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন
  • প্রতি পরামর্শকের পেছনে মাসে গড়ে সাড়ে ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ের যৌক্তিকতা ও বিশদ ব্যাখ্যা তলব
  • সরঞ্জাম, সফটওয়্যার ও প্রশিক্ষণের আইটেমভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ হিসাব না পাওয়া পর্যন্ত অনুমোদন আটকে দিল কমিশন

পায়রা বন্দরের ১৭৫ কোটি টাকার আইসিটি প্রকল্পে আপত্তি
১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:৪৬  

পায়রা বন্দরকে আধুনিক সমুদ্রবন্দর হিসেবে পরিচালনার লক্ষ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিনির্ভর (আইসিটি) পোর্ট অপারেটিং সিস্টেম ও সংশ্লিষ্ট সুবিধাদি সংযোজনের জন্য ১৭৫ কোটি টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) নিয়ে আপত্তি তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন। বিশেষ করে মোট ব্যয়ের প্রায় ৮৬ শতাংশ বা ১৫০ কোটি টাকা নির্দিষ্ট আইটেমভিত্তিক না দেখিয়ে ‘থোক’ বরাদ্দ হিসেবে উপস্থাপন করায় প্রকল্পটির অনুমোদন আটকে দেওয়া হয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) কার্যপত্র অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৯ সালের জুন মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাবিত এ প্রকল্পের তিনটি প্রধান খাতেই প্রায় ১৫০ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে আইসিটি সরঞ্জামের জন্য ৯৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা, পরামর্শক সেবার জন্য ২৭ কোটি ১৪ লাখ টাকা এবং কম্পিউটার ও সফটওয়্যারের জন্য ২৫ কোটি ৬১ লাখ টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু কোন সফটওয়্যার কত মূল্যে কেনা হবে কিংবা কোন আইসিটি যন্ত্রের স্পেসিফিকেশন কী, তার সুস্পষ্ট বিবরণ নথিতে নেই।

এছাড়া প্রকল্পে ১৮৮ জন-মাসের পরামর্শক সেবার জন্য প্রস্তাবিত ব্যয়ে গড়ে প্রতি পরামর্শকের মাসিক সম্মানী দাঁড়ায় প্রায় ১৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এত উচ্চ ব্যয়ের কাজের পরিধি ও বিশেষজ্ঞের ধরন নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে কমিশন।

পাশাপাশি পায়রা বন্দরের নিজস্ব স্থায়ী কার্যালয় থাকা সত্ত্বেও অফিস ভাড়া, নতুন আসবাবপত্র ও ফটোকপিয়ার কেনা, অতিরিক্ত দায়িত্বে ৯ জন প্রেষণে নিয়োগ এবং প্রশিক্ষণ খাতের অনির্দিষ্ট থোক বরাদ্দ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। প্রকল্পের ৯০ শতাংশ সরকারি ঋণ এবং ১০ শতাংশ নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ব্যয়ের ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের শর্তাবলী মেনে ডিপিপি পুনর্গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, আইএমও, সোলাস ও আইএসও মানদণ্ড অনুসারে বার্ষিক ১০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাওয়া পণ্য পরিবহন ও জাহাজ চলাচল পরিচালনায় ডিজিটাল অপারেটিং সিস্টেমটি অত্যাবশ্যক। তবে পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, অটোমেশনের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও আইটেমভিত্তিক স্বচ্ছ ও বিস্তারিত ব্যয় বিভাজন ছাড়া শতকোটি টাকার এই প্রকল্প ছাড় দেওয়া হবে না।
//ডিবিটেক/ এনএপি/এমআইএসটি/এনপিবি//