এআই, সেমিকন্ডাক্টর ও বায়োটেকে বিনিয়োগ বাড়াতে আহ্বান ফকির মাহবুব আনামের
জাতীয় সেমিকন্ডাক্টর সামিটে ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর, বায়োটেকনোলজি ও রোবোটিক্সই হবে ভবিষ্যৎ অর্থনীতির ভিত্তি। তিনি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের এই খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান এবং জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গঠনে গবেষণা ও উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সেমিকন্ডাক্টর, বায়োটেকনোলজি, ইলেকট্রনিক্স ও রোবোটিক্সকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি উল্লেখ করে এসব খাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
২৫ জুলাই, শনিবার রাজধানীর বিজয় স্মরণীর নভোথিয়েটারে অনুষ্ঠিত জাতীয় সেমিকন্ডাক্টর সামিটে বক্তব্যে তিনি বলেন, এসব প্রযুক্তি শুধু নতুন উদ্ভাবনের ক্ষেত্র নয়, বরং শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং জাতীয় প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য কেবল প্রযুক্তি ব্যবহার নয়, বরং প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তর করা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে স্টেম (বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত) শিক্ষার প্রসার এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইতোমধ্যে স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, শিক্ষা, শিল্প উৎপাদন ও সরকারি সেবার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একইভাবে বায়োটেকনোলজি খাদ্য নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও পরিবেশ সংরক্ষণে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে। অন্যদিকে রোবোটিক্স ও আধুনিক ইলেকট্রনিক্স শিল্প উৎপাদনশীলতা ও সেবার মান বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ফকির মাহবুব আনাম জানান, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জাতীয় বায়োটেক কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। এই কমিশনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, শিল্পখাত, স্টার্টআপ এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সমন্বিত সহযোগিতা গড়ে তোলা হবে, যাতে গবেষণাকে বাণিজ্যিক প্রযুক্তি ও শিল্পে রূপান্তর করা সম্ভব হয়।
তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য বাংলাদেশকে জীবপ্রযুক্তি গবেষণা ও শিল্পায়নের একটি আঞ্চলিক কেন্দ্রে পরিণত করা এবং প্রযুক্তির সুফল দেশের প্রতিটি নাগরিকের কাছে পৌঁছে দেওয়া। একই সঙ্গে তরুণ উদ্যোক্তা, গবেষক, শিক্ষার্থী, ফ্রিল্যান্সার ও শিল্পখাতকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
চীনে অনুষ্ঠিত বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলনে (ওয়ার্ল্ড এআই কনফারেন্স) অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বৈশ্বিক প্রযুক্তি উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং ‘কাউকে পিছিয়ে না রাখা’ নীতির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। সেই দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করে বাংলাদেশও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রযুক্তি উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে।
তিনি দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে বলেন, বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলছে। সেমিকন্ডাক্টর, এআই ও ডিপ-টেক খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে নতুন শিল্প ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং সরকার এ বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেবে।
মন্ত্রী বলেন, তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতাকে কাজে লাগাতে সরকার বদ্ধপরিকর। গবেষণা, শিল্প ও একাডেমিয়ার সমন্বিত অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক প্রযুক্তি মানচিত্রে একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়াই সরকারের লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব এম আনোয়ার হোসেন এবং বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম এ জব্বার।
সম্মেলনের মূল কী-নোট উপস্থাপন করেন যুক্তরাষ্ট্রের পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি সেমিকন্ডাক্টর ও ডিপ-টেক কৌশল প্রণয়ন উদ্যোগের আহ্বায়ক অধ্যাপক মুহাম্মদ মুস্তাফা হুসাইন।
//ডিবিটেক/আইএইচ/এমএসআই//
:





