ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে মিরপুর ডেল্টা মেডিকেল কলেজে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি
সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে ২০ হাজার টাকার পরিবর্তে ১৫ হাজার টাকা ভাতা দেওয়ার প্রতিবাদে ঢাকার মিরপুর ডেল্টা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ করছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। বর্তমান ভাতা ২০ হাজারে উন্নীত করা, অবৈতনিকদের ৫ হাজার টাকা ফিক্সড করা, অন-ডিউটি ডক্টরস রুমের আধুনিকায়ন ও নিরাপদ কর্মপরিবেশসহ চার দফা দাবিতে এই আন্দোলন চলছে। দাবি না মানলে আগামীকাল থেকে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
দেশের সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মাসিক ভাতা ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হলেও সরকারের সেই প্রজ্ঞাপন ও সিদ্ধান্ত অমান্য করার অভিযোগ উঠেছে রাজধানীর মিরপুরের ডেল্টা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিরুদ্ধে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিয়ম বহির্ভূতভাবে ইন্টার্নদের মাত্র ১৫ হাজার টাকা ভাতা প্রদান করায় এর প্রতিবাদে এবং চার দফা দাবিতে ১০ জুন, বুধবার হাসপাতালের সামনে ব্যাপক বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন ভুক্তভোগী চিকিৎসকেরা।
সকালে হাসপাতালের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা, যা চারপাশের সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে এক বিশাল মানববন্ধনে রূপ নেয়। এই কর্মসূচিতে হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পাশাপাশি ডেল্টা মেডিকেল কলেজের বিভিন্ন ব্যাচের সাধারণ শিক্ষার্থীরাও সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেন এবং হাসপাতাল প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বৈষম্যমূলক অভিযোগ তুলে ধরেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হাসপাতালের রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে তারা দিন-রাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের ন্যায্য ও আইনি দাবিগুলো অমীমাংসিত রেখে দেওয়ায় তা কাজের মান এবং চিকিৎসকদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর চরম নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। দাবি আদায়ের লক্ষ্যে গত ৭ জুন থেকেই হাসপাতালের পরিচালনা পর্ষদ ও মূল প্রশাসনকে লিখিতভাবে অবহিত করে অনির্দিষ্টকালের জন্য শান্তিপূর্ণ কর্মবিরতি পালন করা হচ্ছিল। কিন্তু বিগত তিন দিনেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সমস্যা সমাধানে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ বা আন্তরিকতা দেখায়নি, যার প্রেক্ষিতে আজ তারা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন।
বিক্ষুব্ধ চিকিৎসকেরা দাবি করেন, সরকারি পে-স্কেল ও প্রজ্ঞাপনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ইন্টার্নদের বর্তমান মাসিক ভাতা ১৫ হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধি করে অবিলম্বে ২০ হাজার টাকা করতে হবে। একই সাথে একই হাসপাতালে যারা বর্তমানে সম্পূর্ণ অবৈতনিক (নন-পেইড) হিসেবে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন, মানবিক ও পেশাদার দিক বিবেচনা করে তাদের জন্য ন্যূনতম পাঁচ হাজার টাকা মাসিক ভাতার স্থায়ী ব্যবস্থা করতে হবে। এ ছাড়া প্রতি মাসের প্রথম ৭ কর্মদিবসের মধ্যে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বকেয়া এবং নিয়মিত বেতন-ভাতা পরিশোধ নিশ্চিত করার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা করার জোর দাবি জানান তাঁরা।
আন্দোলনরত চিকিৎসকেরা হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ সুযোগ-সুবিধার তীব্র সংকট তুলে ধরে বলেন, অন-ডিউটি ইন্টার্নদের জন্য নির্ধারিত কক্ষে পর্যাপ্ত জায়গা, ব্যক্তিগত লকার ও বিশ্রামের জন্য প্রয়োজনীয় বেডের কোনো ব্যবস্থা নেই। তারা অবিলম্বে চিকিৎসকদের কক্ষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং পুরুষ ইন্টার্নদের কক্ষটি দ্রুত শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) করার দাবি জানান। একই সঙ্গে ডিউটি চলাকালীন চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও শারীরিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত চিকিৎসাসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় সিকিউরিটি গার্ডের ব্যবস্থা করার দাবি তোলা হয়। ইন্টার্নরা অভিযোগ করেন, এর আগেও বেতন বৃদ্ধি নিয়ে আন্দোলন করা হলে তৎকালীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নানা ভয়-ভীতি দেখিয়ে এবং বিভিন্ন ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে জোরপূর্বক আন্দোলনকে দমিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু এবার ন্যায্য অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরবেন না। দাবি আদায়ের পরবর্তী কর্মসূচি সম্পর্কে আলটিমেটাম দিয়ে তাঁরা বলেন, যদি অবিলম্বে এই যৌক্তিক চার দফা দাবি-অর্থাৎ বেতন কাঠামো পুনর্বিবেচনা, নিয়মিত বেতন প্রদান, কক্ষের সুযোগ- সুবিধা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা না হয়, তবে আগামীকাল থেকে আরও কঠোর ও সর্বাত্মক কর্মসূচির ডাক দেওয়া হবে।
//ডিবিটেক/এমভি/ইকে//





