এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি আবেদনে সার্ভার বিপর্যয়, ক্যাপাসিটি বাড়ানোর চেষ্টা

একসঙ্গে লক্ষাধিক শিক্ষকের হিটের কারণে বেসরকারি স্কুল-কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি আবেদনের সার্ভার ডাউন হয়ে গেছে। মাউশি মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল জানিয়েছেন, সার্ভারের ক্যাপাসিটি বাড়িয়ে দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে, তবে সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। গত ৬ মে জারি হওয়া সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী দুই বছর চাকরি পূর্ণ হওয়া শিক্ষকেরা নিজ জেলা বা স্বামী-স্ত্রীর কর্মস্থলে বদলির সুযোগ পাচ্ছেন।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি আবেদনে সার্ভার বিপর্যয়, ক্যাপাসিটি বাড়ানোর চেষ্টা
১০ জুন, ২০২৬ ১৭:২৮  

বেসরকারি স্কুল ও কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হতেই তীব্র কারিগরি জটিলতা তৈরি হয়েছে। ১০ জুন, বুধবার দুপুরে একসঙ্গে লক্ষাধিক শিক্ষক-কর্মচারী আবেদন সংক্রান্ত সফটওয়্যারে প্রবেশ (হিট) করার চেষ্টা করায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) সার্ভারটি সাময়িকভাবে ডাউন হয়ে যায়। এর ফলে অধিকাংশ শিক্ষকই তাদের আবেদন প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারেননি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানেরাও শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় তথ্য ইনপুট দিতে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।

মাউশি সূত্র জানিয়েছে, এই উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং জরুরি ভিত্তিতে সার্ভারের ডেটা ধারণক্ষমতা বা ক্যাপাসিটি বাড়ানোর জন্য কারিগরি টিম কাজ করে যাচ্ছে।

সার্ভার ডাউন এবং প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের তথ্য দেওয়ার সময়সীমা বৃদ্ধির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল জানান, সার্ভার ডাউনের বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে। সার্ভারের ক্যাপাসিটি বৃদ্ধি করা সম্ভব হলেই এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়ে যাবে এবং সেই লক্ষ্যেই বর্তমানে কাজ করা হচ্ছে। তবে চলমান ভোগান্তির কারণে তথ্য প্রদানের সময়সীমা বাড়ানো হবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে মহাপরিচালক স্পষ্ট করেন যে, সময় বৃদ্ধির বিষয়ে মাউশির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্কুল-কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য একটি সংশোধিত বদলি নীতিমালা জারি করে, যা অনুমোদন দেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক। এই নতুন নীতিমালার আলোকে সফটওয়্যারটি আপডেট করার জন্য গত ১০ মে টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডকে চিঠি পাঠায় মাউশি।

পরবর্তীতে গত ১৮ মে সংশোধিত নীতিমালার সকল শর্ত যুক্ত করে সফটওয়্যারটি পুরোপুরি আপডেট করা হয় এবং তা মাউশি কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়।

নতুন সংশোধিত বদলি নীতিমালার নিয়ম অনুযায়ী, কোনো শিক্ষক বদলি হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর সেখানে ন্যূনতম দুই বছর কর্মরত থাকার পর পরবর্তী বদলির জন্য পুনরায় আবেদন করার সুযোগ পাবেন। মাউশি সরকারের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক শূন্যপদের তালিকা অনলাইনে প্রকাশ করার পর, প্রকাশিত শূন্য পদের বিপরীতে শিক্ষকদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করা হবে। এক্ষেত্রে সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, সহকারী প্রধান বা একই বিষয়ের শিক্ষকেরা সমপদ শূন্য থাকা সাপেক্ষে প্রতি বছর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন, বদলির আদেশ এবং নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন।

নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, আবেদনকারী শিক্ষক মূলত তার চাকরিতে যোগদানের সময় উল্লেখ করা নিজ জেলায় বদলির জন্য অগ্রাধিকার পাবেন। তবে নিজ জেলায় পদ শূন্য না থাকলে, তিনি নিজ বিভাগের যেকোনো জেলার শূন্য পদের বিপরীতেও আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া বিশেষ ক্ষেত্রে শিক্ষকেরা স্বামী বা স্ত্রীর নিজ জেলা অথবা স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল জেলায় (সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলে) বদলির জন্য আবেদন করার সুযোগ পাবেন, তবে সব ক্ষেত্রেই প্রথম যোগদানের পর চাকরির বয়স ন্যূনতম দুই বছর পূর্ণ হতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন এই নীতিমালাটি দ্রুতই ওয়েবসাইটে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

//ডিবিটেক/ডিসিএন/এমইউএম//