এনএফসি প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্মার্টফোনে সাইবার হামলা বেড়েছে ১৮৮ শতাংশ:

স্মার্টফোনে এনএফসি (নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন) প্রযুক্তি ব্যবহার করে আর্থিক প্রতারণা ও তথ্য চুরির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্যাসপারস্কির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস লক্ষ্য করে পরিচালিত এনএফসি-ভিত্তিক ম্যালওয়্যার হামলা আগের বছরের তুলনায় ১৮৮ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন ধরনের এসব হামলায় ব্যবহারকারীরা নিজেরাই অজান্তে অর্থ স্থানান্তর করে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।

এনএফসি প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্মার্টফোনে সাইবার হামলা বেড়েছে ১৮৮ শতাংশ:
১০ জুন, ২০২৬ ১৬:০৬  

স্মার্টফোনে এনএফসি (NFC) প্রযুক্তি ব্যবহার করে অর্থ চুরি ও প্রতারণার ঘটনা দ্রুত বাড়ছে বলে সতর্ক করেছে বৈশ্বিক সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্যাসপারস্কি। প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস লক্ষ্য করে পরিচালিত ৩৫ হাজার ৬০০টি এনএফসি-ভিত্তিক ম্যালওয়্যার হামলা প্রতিহত করা হয়েছে। ২০২৫ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ১২ হাজার ৩০০। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে হামলার পরিমাণ বেড়েছে ১৮৮ শতাংশ।

ক্যাসপারস্কি জানিয়েছে, এনএফসি প্রযুক্তির মাধ্যমে স্মার্টফোন ও ব্যাংক কার্ডের মধ্যে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে সাইবার অপরাধীরা নতুন ধরনের প্রতারণা চালাচ্ছে। বর্তমানে সুপারকার্ড এক্স, ফ্যানটমকার্ড, এনগেট এবং এনএফসিগেটের ক্ষতিকর সংস্করণ ব্যবহার করে এসব আক্রমণ পরিচালিত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে রাশিয়া, তবে ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকাতেও এ ধরনের হামলার বিস্তার দ্রুত ঘটছে।

গবেষকদের মতে, হামলাকারীরা মূলত দুটি কৌশল ব্যবহার করছে। প্রথমটি ‘ডাইরেক্ট এনএফসি’, যেখানে বিভিন্ন অজুহাতে ব্যবহারকারীকে ক্ষতিকর অ্যাপ ইনস্টল করানো হয় এবং পরে ব্যাংক কার্ডটি স্মার্টফোনের সঙ্গে স্পর্শ করতে বলা হয়। এ সময় কার্ডের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অপরাধীদের হাতে চলে যেতে পারে।

দ্বিতীয় ও তুলনামূলকভাবে আরও বিপজ্জনক পদ্ধতি হলো ‘রিভার্স এনএফসি’। এই কৌশলে আক্রান্ত স্মার্টফোন ব্যবহার করে এটিএম বা পেমেন্ট টার্মিনালের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর করা হয়। ফলে ব্যবহারকারী নিজেই অজান্তে প্রতারকদের কাছে অর্থ পাঠিয়ে দেন।

ক্যাসপারস্কির প্রধান নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ সের্গেই গোলভানভ বলেন, “আগে হামলাকারীরা মূলত ডাইরেক্ট এনএফসি কৌশল ব্যবহার করত। এখন রিভার্স এনএফসি পদ্ধতির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। এটি আরও বিপজ্জনক, কারণ ভুক্তভোগীরাই নিজের হাতে অর্থ স্থানান্তর করেন। ফলে প্রতারণামূলক লেনদেনকে বৈধ লেনদেন থেকে আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়ে।”

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে এই ধরনের ম্যালওয়্যার আরও উন্নত হতে পারে এবং বিশ্বের আরও বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ক্যাসপারস্কির সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ দিমিত্রি কালিনিন জানান, এনএফসি প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রথম আলোচিত হামলার ঘটনা প্রকাশ্যে আসে ২০২৩ সালের শেষ দিকে। শুরুতে ইউরোপে এ ধরনের আক্রমণ দেখা গেলেও পরে রাশিয়া এবং অন্যান্য অঞ্চলেও একই ধরনের ম্যালওয়্যার ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে সাইবার অপরাধীরা এসব টুলকে ‘ম্যালওয়্যার-অ্যাজ-এ-সার্ভিস’ হিসেবে সরবরাহ করছে, যার ফলে হুমকির পরিধি আরও দ্রুত বিস্তার লাভ করছে।

ব্যবহারকারীদের নিরাপদ থাকতে শুধুমাত্র অফিসিয়াল অ্যাপ স্টোর থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করার পরামর্শ দিয়েছে ক্যাসপারস্কি। পাশাপাশি অপরিচিত উৎস থেকে কোনো অ্যাপ ইনস্টল না করা, এটিএম ব্যবহারের সময় অচেনা ব্যক্তির নির্দেশনা অনুসরণ না করা এবং মোবাইল ডিভাইসে নির্ভরযোগ্য নিরাপত্তা সফটওয়্যার ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

//ডিবিটেক/আরআই/এমআই//