বিশেষ শ্রেণির চলচ্চিত্র পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের কার্যকর মাধ্যম: কর্মশালায় বক্তারা

পেশাভিত্তিক চলচ্চিত্রে সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তির সমন্বয়ের মাধ্যমে জ্ঞান স্থানান্তরের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের প্রত্যয় নিয়ে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও বিসিটিআইয়ের যৌথ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানান, চিকিৎসা ও শিক্ষার মতো পেশাগত খাতে দক্ষতা বাড়াতে এবং জ্ঞানভিত্তিক আর্কাইভ তৈরিতে বিশেষায়িত চলচ্চিত্র কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

বিশেষ শ্রেণির চলচ্চিত্র পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের কার্যকর মাধ্যম: কর্মশালায় বক্তারা
১০ জুন, ২০২৬ ১৩:৩০  
১০ জুন, ২০২৬ ১৫:৪০  

পেশাভিত্তিক বা বিশেষ শ্রেণির চলচ্চিত্র নির্মাণে সৃজনশীলতা ও আধুনিক প্রযুক্তির নিখুঁত সমন্বয় ঘটাতে পারলে জ্ঞান স্থানান্তরের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে, যা চিকিৎসাসহ বিভিন্ন পেশাগত ক্ষেত্রে দক্ষতা উন্নয়নের অন্যতম কার্যকর মাধ্যমে পরিণত হতে পারে। যদিও এর নির্মাণে নীতিগত ও কারিগরি কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তবুও আন্তঃবিভাগীয় সহযোগিতা, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং নীতিমালা সংস্কারের মাধ্যমে এই খাতের ব্যাপক সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো সম্ভব। 

১০ জুন, বুধবার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল (NICVD) এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (BCTI)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত “বিশেষ শ্রেণির চলচ্চিত্র নির্মাণ, প্রদর্শন এবং এর মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে পেশাদারিত্ব বৃদ্ধি, সমস্যা ও সম্ভাবনা” শীর্ষক এক অনন্য কর্মশালায় দেশের শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসক, শিক্ষাবিদ ও চলচ্চিত্র গবেষকেরা এসব কথা বলেন। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)-এর গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক মো. আল আমিন রাকিব।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্রাটেজি, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞানচর্চার এই যুগে বিশেষায়িত চলচ্চিত্র দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এ ধরনের সময়োপযোগী উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের চিকিৎসা, শিক্ষা ও গণমাধ্যম খাতের মধ্যে আরও গভীর ও কার্যকর সহযোগিতা গড়ে উঠবে। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবদুল ওয়াদুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে বক্তারা পেশাভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণে সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তির মেলবন্ধনের ওপর বিশেষ জোর দেন।

কর্মশালার উন্মুক্ত আলোচনা ও প্যানেল সেশনে আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী আবুল কালাম মোহাম্মদ শামসুদ্দিন, বিশিষ্ট চলচ্চিত্র নির্মাতা ও পরিচালক ডা. বুলবুল বিশ্বাস, ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (আইইউবি) মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ইমরান ফেরদৌস, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের কার্ডিওলজি বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর মোহাম্মদ উল্লাহ ফিরোজ এবং বিসিটিআইয়ের উপপরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ মোকছেদ হোসেন। আলোচকেরা উল্লেখ করেন, বিশেষ শ্রেণির চলচ্চিত্র কেবল তাৎক্ষণিক প্রশিক্ষণের মাধ্যম নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী জ্ঞানভিত্তিক আর্কাইভ গড়ে তোলার অনন্য সুযোগ সৃষ্টি করে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মূল্যবান সম্পদ হয়ে থাকবে। বিশেষ করে চিকিৎসা ও চলচ্চিত্র—এই দুই ভিন্ন ক্ষেত্রের সমন্বয়ে নির্মিত বিশেষায়িত চলচ্চিত্র ভবিষ্যতের চিকিৎসা প্রশিক্ষণ ও গবেষণার আবহকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করে তুলতে পারে, যা দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. আবদুল ওয়াদুদ চৌধুরী বলেন, হৃদরোগ চিকিৎসাসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত ক্ষেত্রে দক্ষতা উন্নয়ন, গবেষণা এবং পারস্পরিক জ্ঞান বিনিময়ের জন্য বিশেষ শ্রেণির চলচ্চিত্র অত্যন্ত যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে পারে। এই উদ্যোগ দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবা ও পেশাগত প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার গুণগত উন্নয়নে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে। কর্মশালার শেষ পর্বে অনুষ্ঠিত প্রাণবন্ত মুক্ত আলোচনায় দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের ডাক্তার, শিক্ষার্থীবৃন্দ, গবেষক, তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।

উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা বাংলাদেশে বিশেষ শ্রেণির চলচ্চিত্র নির্মাণ ও প্রদর্শনের পথ সুগম করতে একটি সুনির্দিষ্ট জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর আধুনিকায়ন এবং বিভিন্ন খাতের মধ্যে আন্তঃবিভাগীয় সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

//ডিবিটেক/এমআই/ইকে//