ফেসবুক পোস্টে ওসমান হাদির বোনের অভিযোগ

হত্যা মামলার বাদী হওয়া নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নোংরামি ও মিথ্যাচার চলছে

শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার বাদী হিসেবে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরের নাম আসা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিহতের বোন মাসুমা হাদি। ফেসবুকে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে তিনি প্রশাসনের ভূমিকা, চিকিৎসা প্রক্রিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা ‘মিথ্যাচার’ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

হত্যা মামলার বাদী হওয়া নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নোংরামি ও মিথ্যাচার চলছে
৫ জুন, ২০২৬ ১৪:৩৪  

শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার বাদী হিসেবে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিহতের বোন মাসুমা হাদি। একই সঙ্গে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘নোংরামি’ ও ‘মিথ্যাচার’ চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

৬ জুন, শুক্রবার নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে মাসুমা হাদি এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, এতদিন পরিবারের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র হলেও ভাইয়ের কথা ভেবে তিনি মুখ খোলেননি। তবে মামলার বাদী হওয়া নিয়ে দুই দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেভাবে আলোচনা চলছে, তাতে বাধ্য হয়ে তিনি বিষয়টি পরিষ্কার করছেন।

ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার দিনের বর্ণনা দিয়ে তিনি লেখেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি ঢাকায় গিয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছান এবং পুরো সময় ভাইয়ের পাশেই ছিলেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, তার উপস্থিতিতে কেন প্রশাসনের লোকজন এসে আব্দুল্লাহ আল জাবেরের কাছ থেকে মামলার কাগজে স্বাক্ষর নিলেন।

মাসুমা হাদি দাবি করেন, ওসমান হাদির ভাই ওমর ফারুক তখন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। একই রিকশায় থাকায় তার শরীর ও পোশাকেও রক্তের দাগ ছিল। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারের সঙ্গে আলোচনা না করে কীভাবে জাবের মামলার বাদী হলেন, সেটি পরিষ্কার করার দাবি জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, “জাবের যদি আমার নলছিটির ছেলে না হতো, তাহলে কোনো প্রশ্ন ছিল না। কিন্তু ওসমান গণির জীবনে তার ছোট আপু কতটা জড়িত, সেটা সবাই জানে। সেই ছোট আপুর কাছে না এসে কার অনুমতিতে জাবের বাদী হলো, সেটা জানতে চাই।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওমর ফারুকের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র নিয়ে সমালোচনারও জবাব দেন মাসুমা হাদি। তিনি জানান, ওমরের ব্যবহৃত ঘড়ি, ব্লেজার ও মোবাইল ফোন বহু আগেই কেনা হয়েছিল এবং না জেনে কেউ যেন “নোংরামি” না করেন।

চিকিৎসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রথমদিকে পরিবারের পক্ষ থেকেই ওসমান হাদিকে দেশের বাইরে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ওমর ফারুক ব্যক্তিগত অর্থায়নে থাইল্যান্ডে নেওয়ার জন্য ৫২ লাখ টাকার টিকিটও কাটেন। পরে সরকার বিষয়টি জানার পর চিকিৎসার দায়িত্ব নেয় এবং দ্বিতীয় দফায় সিঙ্গাপুরে মেডিকেল ডকুমেন্ট পাঠানো হলে তা গ্রহণ করা হয়।

পোস্টের শেষদিকে মাসুমা হাদি বলেন, “একজন বিপ্লবীকে সম্মান করতে হলে তার পরিবারকে নিয়ে কীভাবে এত মিথ্যাচার করা যায়? সম্মান করতে না পারলেও কিছু না জেনে অসম্মান করার অধিকার কারও নেই।”

//ডিবিটেক/এডি/ইকে//