কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের দাবি, ভবিষ্যৎ মহামারি মোকাবিলায় এটি হতে পারে যুগান্তকারী অগ্রগতি

এআই দিয়ে তৈরি ‘সুপার ভ্যাকসিন’ মানুষের শরীরে সফল পরীক্ষা, বলছেন বিজ্ঞানীরা

এআই দিয়ে তৈরি ‘সুপার ভ্যাকসিন’ মানুষের শরীরে সফল পরীক্ষা, বলছেন বিজ্ঞানীরা
৫ জুন, ২০২৬ ১২:৪৩  

নিত্যনতুন ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এবং সম্ভাব্য মহামারির আশঙ্কার মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে সম্পূর্ণ নতুন ধরনের এক ‘সুপার ভ্যাকসিন’ তৈরি করেছেন বিজ্ঞানীরা। যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের দাবি, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ভ্যাকসিনের প্রধান উপাদান সম্পূর্ণভাবে এআই দিয়ে নকশা করা হয়েছে এবং তা মানুষের শরীরে সফলভাবে পরীক্ষাও করা হয়েছে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গবেষকদের মতে এই প্রযুক্তি মহামারি মোকাবিলার প্রস্তুতিতে একটি মৌলিক পরিবর্তন আনতে পারে। কারণ, এই ভ্যাকসিন শুধু বর্তমান ভাইরাস নয়, ভবিষ্যতে মহামারির কারণ হতে পারে এমন ভাইরাস থেকেও মানুষকে সুরক্ষা দিতে সক্ষম হতে পারে।

গবেষকরা জানান, ভ্যাকসিনটি মূলত করোনাভাইরাসের বিভিন্ন ভ্যারিয়েন্ট এবং পশু থেকে মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে এমন সম্ভাব্য ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।

বর্তমানে ভ্যাকসিন প্রযুক্তি মূলত ভাইরাসের বিদ্যমান ধরনকে লক্ষ্য করে তৈরি হয়। তবে ভাইরাসের দ্রুত মিউটেশন বা রূপ পরিবর্তনের কারণে অনেক সময় প্রচলিত টিকা দ্রুত কার্যকারিতা হারায়। এ কারণেই করোনা ও ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকা নিয়মিত হালনাগাদ করতে হয়।

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জোনাথন হিনি বলেন, “আমরা সব সময় ভাইরাসের চেয়ে পিছিয়ে থাকি। আমরা এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করার চেষ্টা করছি, যা নতুন মহামারি ছড়ানোর আগেই মানুষকে সুরক্ষা দিতে পারবে।”

গবেষণা দলটি প্রথমে বিভিন্ন করোনাভাইরাসের পরিচিত জেনেটিক কোড সংগ্রহ করে। এরপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে এসব কোড বিশ্লেষণ করে এমন একটি ‘সুপার-অ্যান্টিজেন’ তৈরি করা হয়, যা মানবদেহের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে ভাইরাসের পরিবর্তিত ধরন শনাক্ত ও মোকাবিলায় প্রশিক্ষিত করে।

অ্যান্টিজেন হলো ভ্যাকসিনের সেই মূল উপাদান, যা শরীরকে ক্ষতিকর ভাইরাস চিনতে ও তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

অধ্যাপক হিনি বলেন, “এআইয়ের নকশা করা অ্যান্টিজেন মানুষের শরীরে পরীক্ষার ঘটনা এটিই প্রথম। মানবতার মঙ্গলের জন্য আমরা এই প্রযুক্তি দিয়ে যা করতে পারছি, তা সত্যিই চমৎকার।”

গবেষকরা আরও জানান, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইতোমধ্যে ফ্লু ও ইবোলার বিরুদ্ধে কার্যকর ভ্যাকসিন তৈরির কাজও শুরু হয়েছে।

ভ্যাকসিনটির নিরাপত্তা যাচাই করতে প্রথম ধাপে ৩৯ জন মানুষের ওপর পরীক্ষা চালানো হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ২০০ জনের ওপর দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষা চলছে। এতে রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার কার্যকারিতা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন গবেষকরা।

বিজ্ঞান সাময়িকী ‘জার্নাল অব ইনফেকশন’-এ প্রকাশিত গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার ওপর ভ্যাকসিনটির প্রভাব এখনো সীমিত পর্যায়ে থাকলেও এটি বিজ্ঞানীদের মধ্যে ব্যাপক আশার সঞ্চার করেছে।

//ডিবিটেক/এপিবি/ইকে//