ফলোআপ

এমটিএফই-এ পাচার টাকা উদ্ধার হলো যেভাবে

এমটিএফই-এ পাচার টাকা উদ্ধার হলো যেভাবে
৩০ মার্চ, ২০২৬ ১৩:২৩  

ব্লকচেইন বিশ্লেষণ টুল ব্যবহার করে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণামূলক প্ল্যাটফর্ম এমটিএফইয়ের (মেটারভার্স ফরেন এক্সচেঞ্জ) মাধ্যমে৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৪ কোটির বেশি) দেশে ফেরত এনেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

৩১ মার্চ, সোমবার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির সদর দফতরে অনুষ্ঠিত  সংবাদ সম্মেলনে টাকা উদ্ধারের কৌশল বর্ণণা করতে গিয়ে এ তথ্য দিয়েছেন সংস্থাটির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) ডিআইজি মো. আবুল বাশার তালুকদার।

তিনি জানান, সিআইডি তদন্ত করে জানতে পারে ২০২২ সালের জুন থেকে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে এমটিএফই। ফেসবুক ও ইউটিউবে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে দ্রুত লাভের প্রলোভন দেখিয়ে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা হয়। ব্যবহারকারীদের ভার্চুয়াল ট্রেডিং অ্যাকাউন্টে ডিজিটাল ডলার দেখানো হলেও বাস্তবে এসব লেনদেন ছিল সম্পূর্ণ ভুয়া। কৃত্রিমভাবে লাভ দেখিয়ে নতুন বিনিয়োগ আনাই ছিল তাদের মূল কৌশল।

আবুল বাশার বলেন,শুরুতে কিছু অর্থ ফেরত দিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করে চক্রটি। পরে ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ কার্যক্রম বন্ধ করে উধাও হয়ে যায় তারা। বিনিয়োগকারীদের অর্থ বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেটে স্থানান্তরের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়।

তদন্তে প্রাপ্ত ফলের বরাত দিয়ে সিআইডির এ কর্মকর্তা বলেন, প্রতারণার মাধ্যমে আদায়কৃত প্রায় ৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ ওকেএক্স-এ সংরক্ষিত ছিল। ব্লকচেইন বিশ্লেষণ টুল ব্যবহার করে এ অর্থের সঙ্গে প্রতারণা চক্রের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করা হয়। পরবর্তীতে ওকেএক্স-এর লিগ্যাল টিমের সঙ্গে যোগাযোগ করে আইনগত প্রক্রিয়ায় অর্থ ফেরতের উদ্যোগ নেয় সিআইডি। আদালতের নির্দেশনায় রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের মালিবাগ শাখায় সিআইডির নামে একটি সরকারি হিসাব খোলা হয়। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যভিত্তিক অ্যাসেট রিয়েলিটি লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে পাচারকৃত ক্রিপ্টোকারেন্সি বৈধ মুদ্রায় রূপান্তরের ব্যবস্থা করা হয়।সব প্রক্রিয়া শেষে ৩৬ লাখ ২২ হাজার ৯৯৮ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ সোনালী ব্যাংকের ওই হিসাবে জমা হয়, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৪ কোটি ১৪ লাখ টাকার বেশি।  বর্তমানে মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের মধ্যে অর্থ ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি এমটিএফই চক্রের মাধ্যমে পাচার হওয়া বাকি অর্থ শনাক্ত ও উদ্ধারের কাজও চলমান রয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের জুন মাসে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে এমটিএফই। ডলারে মুনাফা লাভের প্রলোভনে গ্রাহকদের ফাঁদে ফেলে দুবাই ভিত্তিক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এমটিএফই।  ২০২৩ সালে হঠাৎ সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় এমটিএফই। এর মধ্যেই গ্রাহকদের থেকে হাতিয়ে নেয় কয়েক হাজার কোটি টাকা। ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয় সেই অর্থ। এরপর ২০২৩ সালের আগস্টে খিলগাঁও থানায় এক ভুক্তভোগীর মামলার সূত্র ধরে তদন্তে নামে সিআইডি। প্রায় বছরখানেকের চেষ্টায় একটি চীনা ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ কোম্পানির কাছ থেকে পাচারকৃত ৪৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা ফিরিয়ে এনেছে সিআইডি। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সাইবার প্রতারণা দমনে এই উদ্যোগকে একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। 

ডিবিটেক/ডিএইচই/ইকে

এমটিএফই প্রতারণার ৪৪ কোটি টাকা ফেরত এনেছে সিআইডি