১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফে থাকছে ছয় শর্ত

১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফে থাকছে ছয় শর্ত
১৬ মার্চ, ২০২৬ ০০:০০  

অনূর্ধ্ব ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণের সুদ ও আসল সরকার পরিশোধ করবে। তবে এই সুবিধা বাস্তবায়নে ছয়টি শর্ত নির্ধারণ করেছে সরকার। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নেতৃত্বাধীন সরকার।

এ বিষয়ে গত ১২ মার্চ অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট অনুবিভাগ এবং ১৫ মার্চ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে পৃথক সরকারি আদেশ জারি করা হয়েছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপ-সচিব মো. মামুনুর রশিদ স্বাক্ষরিত ওই আদেশে বলা হয়েছে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধের জন্য চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট থেকে ১ হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ ৩৩ হাজার ৪৮০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এই সুবিধা কার্যকর করতে ব্যাংকগুলোকে কয়েকটি শর্ত মানতে হবে। প্রথমত, সুদ আরোপের পরবর্তী সময়ের যে অনারোপিত সুদ রয়েছে তা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো তাদের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন সাপেক্ষে মওকুফ করবে। দ্বিতীয়ত, Suspense হিসাবে স্থানান্তরিত ১৩৭ কোটি ৫৮ লাখ ৩৯ হাজার ৮২৫ টাকা ৬৮ পয়সা ব্যাংকগুলো নিজ দায়িত্বে অবলোপন করে দায় নিষ্পত্তি হিসেবে গণ্য করবে এবং এ সংক্রান্ত কোনো মামলা থাকলে তা প্রত্যাহার করবে।

তৃতীয়ত, বাংলাদেশ ব্যাংক যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এসব তথ্য পর্যায়ক্রমে নিরীক্ষা (অডিট) সম্পন্ন করবে এবং নিরীক্ষিত চূড়ান্ত হিসাব সরকারের কাছে পাঠাবে। সেই হিসাবের ভিত্তিতে সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে অর্থ পরিশোধ করবে। চতুর্থত, সরকারের পক্ষ থেকে দায় গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে কৃষকের বিরুদ্ধে থাকা সব মামলা ব্যাংকগুলোকে অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে এবং কৃষক যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন তা নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রতি মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে জানাতে হবে।

পঞ্চমত, কোনো ব্যাংক প্রকৃত দায়ের চেয়ে বেশি অর্থ গ্রহণ করেছে বলে প্রমাণিত হলে সেই অতিরিক্ত অর্থ সুদসহ সরকারকে ফেরত দিতে হবে। আর ষষ্ঠত, বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারি সব আর্থিক বিধি-বিধান ও নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।

এদিকে কৃষকদের সেবাকে আরও সহজ ও কার্যকর করতে আগামী ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ থেকে নতুন কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচি শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং প্রথম ধাপে প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ কৃষকের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

ডিবিটেক/এমএআর/ইকে