কম ব্যয়ে মাছের উৎপাদন ব্যয় বাড়াতে আইপিআরএস প্রযুক্তি উদ্ভাবন

কম ব্যয়ে মাছের উৎপাদন ব্যয় বাড়াতে আইপিআরএস প্রযুক্তি উদ্ভাবন
২৯ নভেম্বর, ২০২৫ ২০:২৯  
৩০ নভেম্বর, ২০২৫ ০০:৫৪  

মাছের উৎপাদন  ব্যয় কমাতে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করার কথা জানালেন প্রাণ আরএফএল চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আহসান খান চৌধুরী। তিনি বলেন, আমরা মৌলভীবাজারে একটা ফার্ম নিয়েছি। এটা ১ হাজার ৮০০ বিঘার একটা ফার্ম হবে। আমরা এখানে কার্প মাছের চাষ করবো। আইপিআরএস প্রযুক্তিতে চাষ হবে। আমাদের বাংলাদেশে আইপিআরএস প্রযুক্তি বিগত দিনে ছিল না, চীনে ছিল। এই আইপিআরএস প্রযুক্তি মানে মাছ খাবে কম বাড়বে বেশি। এটা হলো আইপিআরএস প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তিতে মাছকে ভালোভাবে এক্সারসাইজ করানো হবে। একটা টানেলের মধ্যদিয়ে, এতে মাছ খুব অল্প সময়ে বড় হবে। এই প্রযুক্তি আমরা আনতে যাচ্ছি। বাংলাদেশে বোধহয় এটা তৃতীয় ফার্ম হবে। গোদাগাড়ীতেও (রাজশাহী) আমাদের ফার্ম আছে। এই মাছের জন্য আমরা কাজ করবো।

বাংলাদেশ কৃষি সাংবাদিক ফোরামের (বিএজেএফ) আয়োজনে ২৯ নভেম্বর, শনিবার  রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘কৃষি ও খাদ্যে রাজনৈতিক অঙ্গীকার’ শীর্ষক চার দিনব্যাপী সম্মেলনের তৃতীয় দিনে ‘কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে রাজনৈতিক অঙ্গীকার’ শীর্ষক সভায় এমনটাই জানান তিনি। 

বিএজেএফের সাধারণ সম্পাদক আবু খালিদের সঞ্চালনায় এতে সভাপতিত্ব করেন বিএজেএফ সভাপতি সাহানোয়ার সাইদ শাহীন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আহসান খান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের কৃষি ক্ষেত্রে এখনো অনেক বিপ্লব সাধন হয়নি। আমি মনে করি আমাদের অনেক দূর এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ আছে। আমরা আগাবো। কৃষির ক্ষেত্রে বলবো যে, আপনার রোলটা আপনি বোঝেন, আরও প্রগতিশীল কৃষির জন্ম দেন বাংলাদেশে। ভালো কৃষি বাংলাদেশের জন্য নিয়ে আসেন যেন বাংলাদেশের কৃষক আরও এগিয়ে যান। তাই একটু নতুন চিন্তাভাবনার দরকার। প্রতি কয়েক বছরে ইন্ডাস্ট্রি যদি ডিফল্টে গিয়ে কিছু রিসেট বাটনে টিপ না দেওয়া হয়, তাহলে বোধহয় ইন্ডাস্ট্রি প্রপারলি আগাতে পারবে না। আমি মনে করি কৃষিরও কিন্তু রিসেট বাটনের দরকার আছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের মাছে আগাতে হবে, আমাদের মুরগিতে আগাতে হবে, হর্টিকালচারে আগাতে হবে। আমরা আমাদের কথা যেটা বলবো সেটা হচ্ছে—আমারা যারা ব্যবসায়ী আছি, আমরা ব্যবসা করবো। আমরা এক জায়গা থেকে মাছ কিনবো, আরেক জায়গায় বিপণন করবো এবং কেনা-বেচার মধ্যে যেটা লাভ, আমরা পরিমিত লাভ করবো। আর যখন আমরা বেশি লাভ করি তখন সাংবাদিকরা আমাদের ধরিয়ে দেবেন যে আমাদের জন্য লাভ করাটা পরিমিত হচ্ছে না। তাহলে কিন্তু জবাবদিহিমূলক বাংলাদেশ আসবে, সুন্দর বাংলাদেশ আসবে এবং কৃষি মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আসতে পারবে।

কালেক্টিভ ফার্মিংয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রাণ-আরএফএলের চেয়ারম্যান বলেন, আজ থেকে ৩০ বছর আগে থাইল্যান্ডের কৃষির অবস্থান বাংলাদেশের মতোই ছিল। বাট তাদের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে তারা ব্যাপক পরিবর্তন করেছে এবং কৃষিতে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। আশা করি আপনাদের তত্ত্বাবধানে এবং আমাদের সবার সমষ্টিগত প্রয়াসে কৃষি আগামীদিনে আরও এগিয়ে যাবে।

ডিবিটেক/এএইচ/ওআর