সেতু বিভাগ এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষে ডিজিটাল হাজিরা চালু

সেতু বিভাগ এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষে ডিজিটাল হাজিরা চালু
২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৯:০২  

সেতু ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সেতু বিভাগ ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণের জন্য বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয় সেতু ভবনের প্রবেশ মুখে ডিজিটাল হাজিরা সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে। সেতু বিভাগ এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের (বিবিএ) সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ শতভাগ ডিজিটাল হাজিরা (Electronic Attendance) ব্যবস্থার আওতায় ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে অফিস কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।

সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী কর্মস্থলে যথাসময়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই আধুনিকায়ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে বলে ২৬ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয় থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

সূত্রমতে, ডিজিটাল হাজিরা সিস্টেমে মাল্টি-বায়োমেট্রিক আইডেন্টিফিকেশন টার্মিনাল (ZKTeco G4 Pro) ব্যবহার করা হচ্ছে। এই সিস্টেমে মুখাবয়ব, আঙুলে ছাপ, আরএফআইডি কার্ড এবং পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ব্যবহারকারীর পরিচয় যাচাই করা হয়। ব্যবহারকারী ডিভাইসের সামনে দাঁড়িয়ে ক্যামেরায় মুখ স্ক্যান করে বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরে আঙুল রাখে, অথবা কার্ড/পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে। ডিভাইসের অভ্যন্তরীণ সফ্টওয়্যার ইনপুট ডাটা সংরক্ষিত ডাটাবেজের সাথে তুলনা করে মিল পাওয়া গেলে Verification Successful দেখায় এবং দরজা খুলে দেয় বা উপস্থিতি (Attendance) রেকর্ড করে এবং মাসিক ভিত্তিতে এই হাজিরার রিপোর্ট সংগ্রহ করা যায়।

সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে ও যথাসময়ে কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত এবং সরকারি সেবা সময়মতো প্রদানের লক্ষ্যে এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ডিজিটাল হাজিরার মাধ্যমে কর্মস্থলে সঠিক সময়ে উপস্থিতি এবং প্রস্থান নিশ্চিত করা হচ্ছে, যা সামগ্রিক কর্মপরিবেশে এক ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। বাংলাদেশের উত্তরণের যাত্রায় কর্মকর্তা-কর্মচারীগণের সময়ানুবর্তিতা ও স্বচ্ছতা অন্যতম শর্ত হিসেবে কাজ করবে। 

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) ও অতিরিক্ত সচিব আলতাফ হোসেন সেখ বলেন, ডিজিটাল হাজিরার প্রবর্তন কেবল সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করে না, বরং এটি একটি আধুনিক ও স্মার্ট প্রশাসন গড়ার ভিত্তি। এর ফলে সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে এবং প্রকল্পের কাজে গতি সঞ্চার হচ্ছে। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের কর্মচারীগণও এই পদ্ধতিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, এই ব্যবস্থা কাজের মূল্যায়নকে আরও বস্তুনিষ্ঠ এবং সার্থক করে তুলেছে।

ডিজিটাল হাজিরায় অত্যাধুনিক বায়োমেট্রিক ডিভাইসের মাধ্যমে কর্মকর্তা-কর্মচারীগণের উপস্থিতি রেকর্ড করা হচ্ছে, যার ফলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যে-কোনো সময় কেন্দ্রীয় সার্ভারের মাধ্যমে হাজিরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে পারছেন এবং ম্যানুয়াল হাজিরা খাতা পরিহার করার মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব এবং আধুনিক দাপ্তরিক সংস্কৃতি চর্চা করা হচ্ছে।

ডিবিটেক/এনডি/এমইউএম