অনুমতি ছাড়াই রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভারতীয় ৯ কর্মকর্তার দেশত্যাগ

অনুমতি ছাড়াই রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভারতীয় ৯ কর্মকর্তার দেশত্যাগ
২৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ২০:৫৫  

বাগেরহাটের রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের (বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড বিআইএফপিসিএল) ভারতীয় ৯ কর্মকর্তা কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই দেশত্যাগ করেছেন। পূর্বানুমতি ছাড়া এভাবে চলে যাওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে প্ল্যান্ট কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি তাৎক্ষণিক বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ লিখিত ভাবে স্থানীয় থানাকেও অবহিত করেছেন বলে জানিয়েছে বাগেরহাট জেলার পুলিশ সুপার হাসান চৌধুরী। তার ভাষ্যা অনুযায়ী, রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ৯ জন ভারতীয় কর্মকর্তার বিনা অনুমতিতে চলে যাওয়া বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা খতিয়ে দেখছেন।

চলে যাওয়া ৯ কর্মকর্তা হলেন– ন্যাশনাল থারর্মার পাওয়ার কোম্পানির (এনটিপিসি) ভারত থেকে প্রেশনে পাওয়ার প্ল্যান্টে কর্মরত জি এম সিউজ প্রতিম বর্মণ, জিএম বিশ্বজিৎ মণ্ডল, জিএম এন সুরায়া প্রকসা রায়, এজিএম কেসাবা পলাকী, ডিজিএম সুরেয়া কান্ত মন্দেকার, ডিজিএম সুরেন্দ্র লম্বা, এজিএম পাপ্পু লাল মিনা, ডিজিএম অর্নিবাণ সাহা সিএফ ও ইমানুয়েল পনরাজ দেবরাজ।

প্ল্যান্ট সূত্রে জানা গেছে, ২৪ জানুয়ারি, শনিবার সকালে খাবারের টেবিলে ওই কর্মকর্তাদের না পেয়ে কর্তৃপক্ষ খোঁজখবর নিতে শুরু করে। একপর্যায়ে জানা যায়, তারা কাউকে না জানিয়েই প্ল্যান্ট থেকে বের হয়ে গেছেন। এদিন দুপুরের দিকে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে তাদের ভারতে ঢোকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। এরপর প্রকল্প পরিচালক রামানাথ পূজারীকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানান নিরাপত্তাহীনতার অজুহাতে তারা বাংলাদেশ ছেড়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট এলাকায় সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আনসারসহ চার স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকার পরেও এভাবে চলে যাওয়াটি রহস্যজনক। চলে যাওয়ার আগে তারা কখনোই নিরাপত্তার বিষয়ে কোনও অভিযোগ বা উদ্বেগের কথা কর্তৃপক্ষকে জানাননি। এভাবে হুট করে দেশত্যাগ করায় কর্তৃপক্ষ বিস্মিত।

বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উপ-মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) আনোয়ারুল আজিম বলেন, ‘সকালে ডাইনিংয়ে তাদের না পাওয়ায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, তারা অনুমতি ছাড়াই ভারতে চলে গেছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কী কারণে তারা এভাবে চলে গেলেন, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

ডিবিটেক/বিটিএ/ইকে