কুমিল্লায় সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠিত
বিজ্ঞান-প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ শ্রম উপদেষ্টার
কুমিল্লার কোটবাড়ীতে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়টির নিজস্ব ক্যাম্পাসে ২৩ জানুয়ারি, শুক্রবার দ্বিতীয় সমাবর্তন করলো সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (সিসিএন-ইউএসটি)। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য কর্তৃক মনোনীত হয়ে সভাপতিত্ব করেন বর্তমান সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) ড. এম শাখাওয়াত হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেছেন, আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। আজ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ওপরই বিশ্বের অগ্রগতি নির্ভরশীল, আর এই ধারার সাথে তাল রাখতে রাষ্ট্রের জন্য প্রয়োজন যথাযথ দক্ষতাসম্পন্ন গ্র্যাজুয়েট। আমি যখন প্রথম চীন নামের রাষ্ট্রে যাই, তখন দেশটি দেখে মনে হয়েছিল তারা কারও সঙ্গে প্রতিযোগিতায় আসতে পারবে না। কিন্তু এবার চীনে গিয়ে মনে হয়েছে, বিশ্বের সব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি যেন ওই দেশেই রয়েছে।
উপদেষ্টা বলেন, জীবনে দ্রুত সফলতা কামনা করা স্বাভাবিক, কিন্তু প্রকৃত সফলতা আসে ধৈর্য, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে। নিজের দুর্বলতাকে চিহ্নিত করে সেটিকেই সফলতার দিকে অগ্রসর হওয়ার শক্তিতে রূপান্তর করতে হবে। জীবনের লক্ষ্য স্থির করে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে গেলেই সফলতার পথ খুঁজে পাওয়া যাবে।
সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জনকে শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতি নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক আস্থার প্রতিফলন হিসেবে অভিহিত করে ড. এম শাখাওয়াত হোসেন বলেন, এই আস্থা গড়ে উঠেছে সময়, দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনা এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে, গ্র্যাজুয়েটদের সাফল্যের মাধ্যমে। এই আস্থা ধরে রাখাই ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এবং এই দায়িত্ব এখন সমাবর্তনোত্তর গ্র্যাজুয়েটদেরই বহন করতে হবে।
তিনি চীনের একটি আধুনিক বন্দর পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ‘সেই বন্দরটি মাত্র পাঁচজন তরুণ তথ্যপ্রযুক্তিবিদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছিল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে তারা পুরো বন্দর পরিচালনা করছিল। আমাদের শিক্ষার্থীদেরও প্রযুক্তিতে আরও বেশি দক্ষতা অর্জন করতে হবে। তরুণদের মধ্যে উদ্ভাবনী শক্তি থাকতে হবে, তাহলেই দেশ অনেক দূর এগিয়ে যাবে।’
অ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিজ অব বাংলাদেশ (এপিইউবি)-এর চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. সানোয়ার জাহান ভুঁইয়া এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের উপদেষ্টা মো. তাজুল ইসলাম এবং বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. মো. তারিকুল ইসলাম চৌধুরী।
স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক প্রকৌশলী ড. মো. শাহজাহান। সমাবর্তন অনুষ্ঠানের সভাপতির নিকট স্নাতক পর্যায়ের ৩২৬ জন এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ২৬ জন—মোট ৩৫২ জন শিক্ষার্থীকে গ্র্যাজুয়েট ঘোষণার জন্য অনুমতি উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. জামাল নাসের।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য ও শিক্ষকবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ, সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান, সদস্য, উপাচার্য, উপ-উপাচার্য এবং ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এই সমাবর্তনে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সময়কালে বিভিন্ন অনুষদ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিপ্রাপ্ত মোট ৩৫২ জন গ্র্যাজুয়েটকে ডিগ্রি দেওয়া হয়। এদিকে সমাবর্তনে সর্বোচ্চ সিজিপিএ পেয়ে চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন মোসাম্মৎ মাহমুদা আক্তার এবং তানজিদা চৌধুরী প্রমি। এছাড়া, বিওটি অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন ২ জন, ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন ৩ জন, ডিনস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন ৭ জন।
প্রসঙ্গত, সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ২০২৩ সালের ৫ নভেম্বর। ওই সমাবর্তনে ৫৪৬ জন গ্র্যাজুয়েট অংশ নিয়েছিলেন।
ডিবিটেক/আরসি/ইকে



