চাঁদাবাজি বন্ধে ‘ডিজিটাল পাহারাদার’ অ্যাপ আনছে জামায়াত
চাঁদাবাজি নির্মূলে সড়ক ও পরিবহন খাত থেকে শুরু করে ভূমি ও রিয়েল এস্টেট খাতে কঠোর এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি জানিয়েছে, সরকার গঠনের সুযোগ পেলে চাঁদাবাজি রুখতে সিসি ক্যামের সঙ্গে প্রত্যক্ষ নজরদারির পাশাপাশি চাঁদাবাজির অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির জন্য 'ডিজিটাল পাহারাদার' নামে একটি বিশেষ অ্যাপ ও ওয়েবসাইট চালু করবে। এক্ষত্রে মোট ১৩টি সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কথাও জানিয়েছে দলটি।
জামায়াতে ইসলামীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ২৩ জানুয়ারি, শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত পাঁচটি ফটোকার্ডের মাধ্যমে এসব প্রতিশ্রুতি জনসমক্ষে তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাবি, আধুনিক প্রযুক্তি, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে দেশকে একটি সম্পূর্ণ চাঁদাবাজিমুক্ত রাষ্ট্রে রূপান্তর করা সম্ভব।
চাঁদাবাজির অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির জন্য 'ডিজিটাল পাহারাদার' নামে একটি বিশেষ অ্যাপ ও ওয়েবসাইট চালুর ঘোষণা দিয়ে বলা হয়েছে, ‘এর মাধ্যমে অভিযোগ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই শেষে প্রতিবেদন দেওয়া হবে। একই সঙ্গে অভিযোগকারীর নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে’।
দলটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, বাংলাদেশকে চাঁদাবাজিমুক্ত রাষ্ট্রে পরিণত করার অঙ্গীকার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আল্লাহর ইচ্ছা ও জনগণের ভোটে সরকার গঠনের সুযোগ পেলে আধুনিক প্রযুক্তি ও কঠোর আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের সব খাত থেকে চাঁদাবাজি নির্মূল করা হবে।
ঘোষণায় বলা হয়, সড়ক ও পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি বন্ধে চাঁদাবাজি-প্রবণ সড়কগুলোতে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে মনিটরিং চালু করা হবে। পাশাপাশি সব ফাঁড়ি ও চেকপোস্টে প্রত্যক্ষ নজরদারি বাড়ানো হবে। কোনো অভিযোগ পাওয়া মাত্রই দ্রুত তদন্ত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া এই খাতে চাঁদাবাজি প্রতিরোধে স্বাধীন ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত মনিটরিং সেল গঠন এবং জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি।
ভূমি ও রিয়েল এস্টেট খাতে চাঁদাবাজি বন্ধে ফি ও ট্যাক্স অনলাইনে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা চালুর কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ভূমি রেকর্ডসহ প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র অনলাইনে অ্যাক্সেসযোগ্য করা হবে, যাতে জমি কেনাবেচার সময় কেউ চাঁদাবাজি করতে না পারে। জমি লেনদেনের সময় চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়।
ঘোষণায় আরও বলা হয়, চাঁদাবাজদের পরিচয় প্রকাশ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দৃশ্যমান আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
ডিবিটেক/ এমইউএম/ ইকে







