প্রযুক্তিভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে মেহেরপুরে স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম ‍উন্নয়ন এবং আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন

ফ্যাসিস্ট হওয়া রুখে দিতে গণভোটের বিকল্প নেই

ফ্যাসিস্ট হওয়া রুখে দিতে গণভোটের বিকল্প নেই
২৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৩:৪১  

বিগত দিনে যে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন তার হাতেই ক্ষমতা ছিল। তিনিই সংসদীয় নেতা, সরকারপ্রধান, মন্ত্রিপরিষদ নেতা, বিচার বিভাগ নিয়ন্ত্রণ করেন। বিচার বিভাগের ওপর ক্ষমতা প্রয়োগ করেন। তার হাত ধরেই নিয়াগ হন প্রধান বিচারপতি। সংসদে আইনও পাস করা হয়। তার ইচ্ছার বাইরে গিয়ে পুলিশ প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন, দুদক কেউই কাজ করতে পারে না। ফলে বারবার ফ্যাসিস্ট ফিরে আসে। এজন্য এই দেশে ক্ষমতার ভারসম্য, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা দরকার।’

তাই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সবাইকে ‌‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। তিনি বলেছেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দুই হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ দেওয়ার পরও প্রধানমন্ত্রী যাতে আবারও স্বৈরাচারী না হয়ে উঠতে পারে, সেজন্য পরিবর্তনের পক্ষে হ্যাঁ ভোটের কোনো বিকল্প নেই।’

২৩ জানুয়ারি, শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতাধীন বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বাস্তবায়িত মেহেরপুর আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার উদ্বোধানকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান। আইটি ট্রেনিং ইনকিউবেশন সেন্টার স্থান দ্বিতীয় সংশোধিত প্রকল্পের আওতায় ৬৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ১০ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে এই আইটি পার্ক।

উদ্বোধনী বক্তব্যে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, মেহেরপুরের মতো উদীয়মান জেলায় টেকসই উন্নয়নের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং প্রযুক্তিভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টিই সবচেয়ে জরুরি। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে মেহেরপুরে আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে।

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, “তিনি বলেন, এই কেন্দ্রের মাধ্যমে তিনটি প্রধান উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথমত, স্থানীয় উদ্যোক্তা ও আইটি-ভিত্তিক ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলোকে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সহায়তা দিয়ে স্টার্টআপ হিসেবে গড়ে তোলা। দ্বিতীয়ত, শিক্ষার্থী ও তরুণদের ফ্রিল্যান্সিং, ই-কমার্স ও আইসিটি দক্ষতায় প্রশিক্ষণ দিয়ে মানসম্মত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। তৃতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে শিল্পখাতের কার্যকর সংযোগ তৈরি করে শিক্ষা ও বাস্তব দক্ষতার মধ্যকার ব্যবধান কমানো।

বিশেষ সহকারী আরও বলেন, ট্রেনিং সেন্টারটিতে আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব, স্টার্টআপ স্পেস, ইনকিউবেশন সুবিধা এবং ১৫০ আসনের একটি অডিটোরিয়াম থাকবে। এসব সুবিধা উদ্যোক্তা উন্নয়ন, ব্যবসায়িক প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে ব্যবহার করা হবে। তিনি বলেন, “এখানে প্রদত্ত সকল প্রশিক্ষণ জাতীয় স্কিল ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (NSDA) কর্তৃক ভেরিফায়েড হবে, যাতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা দেশ-বিদেশে এর স্বীকৃতি পান।”

স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড ও আইডিয়া প্রকল্পের প্রসঙ্গে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, “স্থানীয় উদ্যোক্তারা চাইলে এখান থেকেই সরকারি স্টার্টআপ ফান্ড, প্রশিক্ষণ ও বিনিয়োগ সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারবেন। এতে ঢাকাকেন্দ্রিক বৈষম্য অনেকটাই কমে আসবে।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (‌ঐকমত্য) মনির হায়দার বলেন,“আইটি খাতে দক্ষ জনবল তৈরি করতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র অত্যন্ত কার্যকর। মেহেরপুরের তরুণদের জন্য এটি একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।” তিনি আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টরটির সর্বোত্তম ব্যবহারের জন্য মেহেরপুরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের সদস্য (যুগ্ম সচিব) মোহাম্মদ সাইফুল হাসান বলেন, “বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ সারাদেশে আইটি অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণে কাজ করছে। মেহেরপুরের এই কেন্দ্র সেই উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।”

অনুষ্ঠানের শুরুতে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব "স্পেশালাইজড আইসিটি ট্রেনিং ফর কলেজ টিচার্স" শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করেন এবং আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার প্রাঙ্গণে গাছের চারা রোপণ করেন। বিশেষ অতিথি মনির হায়দার‌ও এসময় আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার প্রাঙ্গণে গাছের চারা রোপণ করেন।

অনুষ্ঠানে মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. শেখ বখতিয়ার উদ্দিন, মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবির,  মেহেরপুরের পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়, প্রকল্প পরিচালক আরিফুজ্জামান সহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, প্রশিক্ষণার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ডিবিটেক/জেএনপি/এমজেইউ/ইকে