দ্বিগুণ হবে স্মার্টফোনের ব্যবহার, কমবে ডেটার দামঃ ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব
অবৈধ স্মার্টফোন আমদানি মোকাবিলায় ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালু এবং শুল্ক কাঠামো সংস্কারের মাধ্যমে স্থানীয় উৎপাদন আমদানির তুলনায় আরও আকর্ষণীয় করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। এর মাধ্যমে স্মার্টফোনের পেনিট্রেশন বছর খানেকের মধ্যেই দ্বিগুণ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
পাশাপাশি নতুন পলিসিতে ফাইবারাইজেশন উন্মুক্ত করে দেয়ায়" "তৃতীয় ও চতুর্থ সাবমেরিন কেবল যুক্ত হওয়ায় ডেটার দামও কমে যাবে”, যোগ করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী।
ডিভাইস শিল্পের বিনিয়োগ সুরক্ষায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অবস্থান তুলে ধরে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেছেন, যদি আমরা দেশের ডিভাইস শিল্পের দিকে তাকাই, দেখি স্মার্টফোন ব্যবহারের হার প্রায় ৪১–৪৫ শতাংশ। ২০২১ সালে বছরে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের স্মার্টফোন বিক্রি হয়েছিল। কিন্তু ভুল নীতি ও কিছু অবৈধ আমদানির কারণে এ সংখ্যা কমে বছরে প্রায় ৮ বিলিয়নে নেমে এসেছে।
বাংলাদেশে মোবাইল উৎপাদনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বিশেষ সহকারী বলেন, সরকার সর্বদা এই শিল্পের পাশে থাকবে যাতে এটি আরও বিকশিত হতে পারে এবং বিনিয়োগ সুরক্ষিত থাকে। আসলে ডিভাইস শিল্পের সাফল্য নির্ভর করে বৈধ স্থানীয় উৎপাদন ও বৈধ আমদানির মধ্যে সঠিক ভারসাম্যের ওপর। আমরা যদি কর কাঠামোকে যৌক্তিক করি, তবে আরও অনেক কোম্পানি বাংলাদেশে আসবে। সঠিক প্রণোদনা থাকলে স্মার্টফোন ব্যবহার ৪০ শতাংশ থেকে ৭০ এমনকি ৮০ শতাংশেও পৌঁছাতে পারে।”
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব আরও বলেন, বর্তমানে আমরা অবৈধ স্মার্টফোন আমদানি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি। আগামী ১৬ ডিসেম্বর এনইআইআর (NEIR) সক্রিয় হবে। একইসঙ্গে আমদানি শুল্ক কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা হবে যাতে স্থানীয় উৎপাদন সুরক্ষিত থাকে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন যাত্রার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে আছে। এই যাত্রায় দক্ষতা উন্নয়ন, শিল্প ও একাডেমিয়ার দক্ষতার ব্যবধান কমানো অত্যন্ত জরুরি। একইসঙ্গে আমাদের তরুণদের মানসম্মত কর্মসংস্থান তৈরি করাও বড় লক্ষ্য।
এছাড়াও ডিজিটাল গভর্নেন্স কাঠামোতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াবে এবং স্মার্টফোন ব্যবহারের হার বৃদ্ধি করবে বলে মনে করেন প্রধান উপদেষ্টার এই বিশেষ সহকারী।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, “আমাদের সাইবার নীতি, ডেটা সুরক্ষা নীতি এবং ডেটা গভর্নেন্স/ নিয়ন্ত্রণ কাঠামো আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করবে এবং ডিজিটাল ইকোসিস্টেমে জনগণের আস্থাকে আরও দৃঢ় করবে।
২ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অবস্থিত হাইটেক পার্কে তিনটি প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের কমার্শিয়াল অপারেশন ও নির্মাণকাজের উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধা উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী।
এদিন প্রথমে স্মার্ট হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের কমার্শিয়াল অপারেশন কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। এরপর হেভেন্স লাইট প্রাইভেট লিমিটেডের এআই ও আইওটি ভিত্তিক স্মার্ট লাইটিং এবং হোম অটোমেশন পণ্য উৎপাদ কারখানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এক ক্লিকে। তারপর দেশীয় ব্রান্ডের বাংলা কারস এর দ্বিতীয় ইভি কারখানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
ডিবিটেক/আইএইচ/ওআর



