৩ ডিসেম্বরের মধ্যে ব্যঙ্গাত্মক কন্টেন্ট অপসরাণের নির্দেশ; ভার্চুয়াল হাজিরার আদেশ 

 ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে ব্যঙ্গাত্মক কন্টেন্ট অপসরাণের নির্দেশ; ভার্চুয়াল হাজিরার আদেশ 
২৩ নভেম্বর, ২০২৫ ২২:২৬  

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ গণমাধ্যমে বিচারপতি-বিচারকদের নিয়ে অবমাননাকর ও ব্যঙ্গাত্মক সব ধরনের ছবি, লেখা অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের ভার্চ্যুয়ালি হাজিরার আবেদন বিষয়ে ‌'আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্যে' বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আদালতের বিচারক। 

২৩ নভেম্বর, রবিবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত দুই সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আদালতে এই মন্তব্য করেন। এছাড়াও সেনা কর্মকর্তাদের ভার্চ্যুয়ালি হাজিরা দেওয়ার সুযোগ চেয়ে করা আবেদন  বিষয়ে কোনো আদেশ না দিয়ে এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ৩ ডিসেম্বর। একই দিনে অবমাননাকর ও ব্যঙ্গাত্মক এসব ভিডিও, ছবি ও লেখা অপসারণ করে  বিটিআরসির চেয়ারম্যান ও তথ্যসচিবকে প্রতিবেদন দিতে বলেন ট্রাইব্যুনাল।

এর আগে সকাল ১০টায় সেনা কর্মকর্তাদের ট্রাইব্যুনালে আনা হয়  এবং বেলা ১১টার দিকে তাদের ট্রাইব্যুনালে তোলা হয়। ট্রাইব্যুনাল বসেন ১১টা ২০ মিনিটে।

এসময় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারপতি-বিচারকদের নিয়ে অবমাননাকর ও ব্যঙ্গাত্মক সব ধরনের ছবি, লেখা অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশনকে (বিটিআরসি)। একইঙ্গে অবমাননাকর ও ব্যঙ্গাত্মক এসব ভিডিও, ছবি ও লেখা অপসারণ করে আগামী ৩ ডিসেম্বর বিটিআরসির চেয়ারম্যান ও তথ্যসচিবকে প্রতিবেদন দিতে বলেন ট্রাইব্যুনাল-১।

ট্রাইব্যুনাল বলেন, তাদের নজরে এসেছে এই ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ গণমাধ্যমে মনগড়া ও বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। অবমাননাকর, অপমানজনক, তাচ্ছিল্যপূর্ণ ছবি ও তথ্য, মন্তব্য, বিবৃতি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সব ধরনের গণমাধ্যম থেকে সরাতে হবে। ট্রাইব্যুনালের ভাবমূর্তি, মর্যাদা ও সম্মানের ক্ষতি না করে এবং আইন লঙ্ঘন না করে গণমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে লেখা বা যেকোনো কিছু করার কথাও বলেন ট্রাইব্যুনাল।

আসামিপক্ষের আইনজীবীর এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল বলেছেন, এটি করা যাবে না। যেখানে সাবেক প্রধান বিচারপতি সশরীর হাজির হচ্ছেন, সেখানে সেনা কর্মকর্তাদের জন্য ছাড় কেন। আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। একইসঙ্গে আসামিপক্ষের আইনজীবীর উদ্দেশে 'অসুবিধা অনুভব করলে সরকারকে মামলা উঠিয়ে নিতে' বলেন ট্রাইব্যুনাল।

শুনানি শেষে দুপুরে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এমনটাই জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, তারা (আসামি সেনা কর্মকর্তারা) ভার্চ্যুয়ালি হাজিরা দিতে চেয়েছেন। ট্রাইব্যুনাল এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন যে আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। দেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি কারাগারে আছেন, তাঁকে হাজির হতে হয় সশরীর। আপিল বিভাগের সাবেক বিচারক, সাবেক জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী, বিভিন্ন পর্যায়ের আসামিরা নিয়মিত সশরীর হাজিরা দেন। এখানে ভিন্ন কোনো ঘটনা ঘটেনি, যে কারণে বিশেষ বিবেচনায় কাউকে ভার্চ্যুয়ালি হাজিরা দেওয়ার বিষয়টি অনুমোদন দিতে হবে। এটা ট্রাইব্যুনাল প্রয়োজন মনে করেন না। ট্রাইব্যুনাল মনে করেন, সব নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তারপরও আসামিপক্ষের আবেদন শুনবেন ট্রাইব্যুনাল।

গণরোষে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সংঘটিত গুম-নির্যাতনের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের দুটি মামলায় আসিমিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ও বর্তমান ২৩ সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ২৮ জন। তাদের মধ্যে ১৩ সেনা কর্মকর্তা গ্রেফতার আছেন।

ডিবিটেক/পিএ/মুইম