আশুলিয়া-বাইপালের ভূমিকম্পটি নরসিংদীর আফটারশক: ভূমিকম্প গবেষণা কেন্দ্র

আশুলিয়া-বাইপালের ভূমিকম্পটি নরসিংদীর আফটারশক: ভূমিকম্প গবেষণা কেন্দ্র
২২ নভেম্বর, ২০২৫ ২২:৫৭  

শত বছরের মধ্যে ২১ নভেম্বর, শুক্রবার  ঢাকার সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছে। বাংলাদেশে টানা ভূমিকম্প নিয়ে জনমনে আতঙ্ক বাড়ছে। শুক্রবারের শক্তিশালী কম্পনের পর ২৪ ঘণ্টা না যেতেই আবারও রাজধানীর আশপাশে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। গাজীপুরের বাইপালে রেকর্ড হওয়া এই কম্পনটি নরসিংদীর মাধবদীতে সংঘটিত ভূমিকম্পের আফটারশক বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র।

২২ নভেম্বর, শনিবার সকাল ১০টা ৩৬ মিনিট ১২ সেকেন্ডে রিখটার স্কেলে ৩ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্পটি রেকর্ড করা হয়। এর উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর পলাশ উপজেলায়।যদিও এই ভূমিকম্পনটির উৎপত্তিস্থল সাভারের বাইপাইল বলে জানানো হয়েছিল, পরে বিকেলে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, বাইপা্ইল নয়, এটির উৎপত্তিস্থল আসলে নরসিংদীর পলাশে। বিশ্লেষণে সমস্যার কারণে এই ভুল হয়েছিল বলে জানায় আবহাওয়া অধিদপ্তর।

ভূমিকম্প গবেষণা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবায়েত কবির বলেন, ‘আজ সকালে অনূভূত কম্পনটি ছিল গতকালের ভূমিকম্পের আফটারশক। আফটারশক সাধারণত মূল উৎপত্তিস্থল থেকে ১০–২০ কিলোমিটার দূরেও হতে পারে। এটির উৎস ছিল নরসিংদীর পলাশ অঞ্চলে।”

রুবায়েত কবির আরও বলেন, “গত ১০০ বছরে ঢাকায় এমন ভূমিকম্প হয়নি। আমরা বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছি।”এর আগে শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৯ মিনিটে রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এতে নরসিংদী, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে দুই শিশুসহ ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন ছয় শতাধিক মানুষ।

এই কম্পন বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের বিভিন্ন স্থানেও অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের পর থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প ঝুঁকি মানচিত্র অনুযায়ী বাংলাদেশকে তিনটি জোনে ভাগ করা হয়েছে—

জোন–১: সর্বোচ্চ ঝুঁকিপ্রবণ অঞ্চল
ফল্ট লাইনের নিকটবর্তী হওয়ায় এসব এলাকা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিযুক্ত। এর মধ্যে রয়েছে—
    সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের ৯টি জেলা
    ঢাকা বিভাগের টাঙ্গাইল, গাজীপুর, নরসিংদীর কিছু অংশ
    পুরো কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
    পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির বিভিন্ন অংশ

জোন–২: মাঝারি ঝুঁকিপ্রবণ এলাকা
দেশের মধ্যাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকা এই জোনে।

জোন–৩: নিম্ন ঝুঁকিপ্রবণ এলাকা
ভূমিকম্প ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম
খুলনা, যশোর, বরিশাল,পটুয়াখালী।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবন নির্মাণে দুর্বল কাঠামো, অতিরিক্ত জনঘনত্ব এবং দুর্যোগ প্রস্তুতির ঘাটতি ঢাকাকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে ফেলেছে।

শক্তিশালী মূল কম্পনের পর আফটারশক স্বাভাবিক ঘটনা। সাম্প্রতিক কম্পনের পর মানুষজন আশঙ্কা করছেন বড় ধরনের ভূমিকম্প হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছে, পরবর্তী কয়েক দিন ছোট-বড় আফটারশক হতে পারে। বড় কম্পনের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ঝুঁকি কমাতে ভবন কাঠামো পরীক্ষা, সচেতনতা এবং নিরাপত্তা প্রস্তুতি জরুরি।
ডিবিটেক/ডিটি/ইক