আইওএআই-এ বাংলাদেশের বোঞ্জসহ ৩ পদক জয়

আইওএআই-এ বাংলাদেশের বোঞ্জসহ ৩ পদক জয়
৮ আগষ্ট, ২০২৫ ১৫:৩৫  
৮ আগষ্ট, ২০২৫ ২২:৩৪  

চীনের বেইজিংয়ে কৃত্রিমবুদ্ধিমত্তা নিয়ে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডের দ্বিতীয় আসরে দুটি ব্রোঞ্জ ও একটি অনারেবল মেনশন পদক জিতেছে বাংলাদেশ। অলিম্পিয়াডে বিশ্বের ৭৩টি দেশের ৮৬টি দল অংশগ্রহণ করে। 

বাংলাদেশ থেকে ব্রোঞ্জজয়ী আইওএআই ২০২৫ পদকপ্রাপ্তরা হলেন- রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের শিক্ষার্থী মো. রিয়াসাত ইসলাম এবং সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরেফিন আনোয়ার। এই দু’জন ছাড়াও প্রতিযোগিতায় সম্মানজনক সম্মাননা পেয়েছেন নটরডেম কলেজের শিক্ষার্থী মিসবাহ উদ্দিন ইনান।

প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে অংশ নিয়েছিলো আরও একজন  নটরডেম কলেজের শিক্ষার্থী আবরার শহিদ। 

৮ আগস্ট, শুক্রবার বাংলাদেশ সময় দুপুরে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশ দলনেতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইআইটির পরিচালক অধ্যাপক ড. বি এম মইনুল ইসলাম জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে অনুষ্ঠিত আলাদা দুটি আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডের এই ভার্সনে গতবার কোনো পদক পায়নি বাংলাদেশ। এবার দুটি ব্রোঞ্জ দিয়ে পদক পাওয়া শুরু হলো। আমাদের শিক্ষার্থীদের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক, সেই প্রত্যাশা।

বেইজিং থেকে বাংলাদেশ দলের দলনেতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক বি এম মইনুল হোসেন বলেন, “বিশ্বমঞ্চে নিজের দেশকে সম্মানিত করতে পারার মত আনন্দের তুলনা হয়না। অলিম্পিয়াড জগতে বাংলাদেশকে এখন সবাই চেনে, সমীহ করে। এবারের অলিম্পিয়াডে আমাদের সর্বকনিষ্ঠ সদস্যই সবচেয়ে ভালো করেছে। এতে বোঝা যায় যে আমাদের শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।”

ব্রোঞ্জপদকজয়ী দলের কনিষ্ঠ সদস্য রিয়াসাত ইসলাম বলেন, “এই অর্জন শুধু আমাদের দলের নয়, এটি বাংলাদেশের। ভবিষ্যতে আরও ভালো ফল নিয়ে আসার জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করব।”

ব্রোঞ্জপদকজয়ী দলের আরেকজন সদস্য আরেফিন আনোয়ার বলেন, “আমি অত্যন্ত গর্ববোধ করছি দেশের জন্য কিছু করতে পেরে। আমার স্বপ্ন ছিল দেশের পতাকাকে যেন বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে পারি।” 

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস টেকনোলজি-এর উপাচার্য ড. এ বি এম শওকত আলী বলেন, “বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক AI অলিম্পিয়াড ২০২৫-এ বাংলাদেশের দুটি ব্রোঞ্জ পদক জয়ের খবরটি সত্যিই আনন্দের। আমাদের তরুণ প্রজন্মের এই অসাধারণ সাফল্যে আমি অত্যন্ত গর্বিত। আমাদের শিক্ষার্থীরা যে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় নিজেদের মেধা ও দক্ষতার প্রমাণ দিতে সক্ষম হয়েছে, তা ভবিষ্যতের জন্য এক দারুণ অনুপ্রেরণা। এটি প্রমাণ করে, সঠিক সুযোগ ও দিকনির্দেশনা পেলে আমাদের তরুণরা যেকোনো আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের সেরাটা দিতে পারে।” 

বাংলাদেশ এআই অলিম্পিয়াডের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক রিভচ্যাটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল হাসান প্রতিযোগীদের, তাঁদের মেন্টরসহ বাংলাদেশ এআই অলিম্পিয়াডের সঙ্গে জড়িত সকলকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “আমাদের কিশোরদের এই সফলতা আমাদের সবাইকেই উজ্জিবিত করেছে।”

ডেটাসফট সিস্টেমসের প্রেসিডেন্ট এম মনজুর মাহমুদ বলেন, “এই বিজয় বাংলাদেশের প্রযুক্তিপ্রেমী তরুণদের মধ্যে নতুন করে উদ্দীপনা জাগাবে এবং এআই-এর মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে তাদের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে তুলবে। এই সাফল্যকে আমি দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের এক নতুন দিগন্তের সূচনা হিসেবে দেখি।”

দলের মেন্টর ও কোচড‍্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট-এর সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজম খান বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীরা প্রমাণ করেছে যে বাংলাদেশের তরুণরা বিশ্বমঞ্চে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের লড়াইয়ে সমান তালে প্রতিযোগিতা করতে পারে। এই পদক আসলে  অসংখ্য ঘন্টা পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও দলগত প্রচেষ্টার গর্বিত স্বীকৃতি। তাদের এই প্রচেষ্টা আমাদেরকে আশাবাদী করে, যে বাংলাদেশও বিশ্বমানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক উদ্ভাবনে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারবে।”

চলতি বছরের ১৭ই মে "বাংলাদেশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অলিম্পিয়াড" এর জাতীয় পর্ব সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজিতে (বিইউবিটি)। দুই ধাপে বাছাইয়ের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে সর্বমোট ১৭১ জন শিক্ষার্থী মেশিন লার্নিং এবং ২৩৫ জন কুইজ কনটেস্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটে দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার মাধ্যমে জাতীয় দল নির্বাচন করা হয়।