নতুন টাকা চেনে না মেট্রোরেলের ভেন্ডিং মেশিন!
পবিত্র ঈদুল আজহার আগে ১ জুন নতুন নকশার ২০, ৫০ ও ১০০০ টাকার নোট বাজারে ছাড়ে বাংলাদেশ ব্যাংক। এক মাসের মাথায়ও এই তিনটি নোট চিনতে পারছে না মেট্রোরেলের বিভিন্ন স্টেশনে স্থাপিত ভেন্ডিং মেশিন। উত্তরা উত্তর, উত্তরা সেন্টার, উত্তরা দক্ষিণ, পল্লবী, মিরপুর ১১, মিরপুর ১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সচিবালয়, মতিঝিল এবং কমলাপুর এর কোনো ভেন্ড মেশিনেই কাজ করে না নতুন ছাপা টাকাগুলো।
এই তিনটি নোট দিয়ে টিকিট কাটতে গেলে বারবারই গ্রাহককে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। আর মনিটরে লেখা ওঠে ‘লেনদেন প্রক্রিয়াটিতে ত্রুটি আছে। সাহায্যের জন্য অপেক্ষা করুন। সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখিত।’
এমন বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে মেট্রোরেলের টিকিট কাউন্টার থেকে তাকে জানানো হয়, গ্রাহক যে নতুন টাকায় টিকিট কাটার চেষ্টা করছেন, তা এখনো ভেন্ডিং মেশিনে দেওয়া হয়নি। ফলে যাত্রীদের অনেকেই টাকা থাকা সত্ত্বেও ভেন্ডিং মেশিন থেকে টিকিট কিনতে পারছেন না।
তবে এ বিষয়ে ভেন্ডর মেশিনের বুথে কোনো বিজ্ঞপ্তি না থাকায় কয়েক দফা চেষ্টা করেন যাত্রীরা। এরপর বিফল হয়ে বাধ্য হয়েই নির্দিষ্ট কাউন্টারে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটতে যেতে হয় তাদের। এতে প্লাটফর্মে অনেককেই ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়।
যাত্রীদের সঙ্গে আলাপকালে জানাযায়, এক মাসের বেশি সময় আগে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারে নতুন সিরিজের টাকার নোট বাজারে ছেড়েছে। কিন্তু এখনেও ভেন্ডিং মেশিনের সফটাওয়্যারে আপডেট দেওয়া হয়নি। আবার নতুন টাকা দিয়ে নির্দিষ্ট কাউন্টারে টিকিট কাটতে গেলে, তারা টাকা কয়েকবার উল্টিয়ে-পাল্টিয়ে দেখে এ নোট আসল না নকল। এতে যাত্রীদের সময় নষ্ট হয়।
মেট্রোরেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখনও নতুন সিরিজের টাকা বাজারে সবার হাতে যায়নি। নির্দিষ্ট ব্যাংকগুলোতেও নতুন টাকা এক সঙ্গে পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি তাদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে। শিগগির নতুন টাকা সংগ্রহ করে ভেন্ডিং মেশিনের সফটাওয়্যারে দেওয়া হবে। এ কাজটি করতে অন্তত আরও তিন-চার মাস সময় লাগবে।
এ বিষয়ে ডিএমটিসিএলের এমআরটি-৬ এর প্রকল্প পরিচালক মো. জাকারিয়া জানিয়েছেন, ঈদের আগে সব ব্যাংকে টাকা দিতে পারেনি বাংলাদেশ ব্যাংক। আবার যে কয়েকটি ব্যাংকে টাকা গেছে, তার কোনোটিতে ১০০০ টাকার নোট গেছে। আবার কোনো ব্যাংকে ২০ টাকার নোট গেছে। যার ফলে তারা কাজটা শুরু করতে পারেননি। তবে এখন তারা নতুন নোট সংগ্রহের চেষ্টা করেছেন। সবগুলো টাকা পেলে তা ভেন্ডিং মেশিনের সফটাওয়ারে দেওয়া হবে।







