জিনিয়াস অলিম্পিয়াডে ত্ব-সীন-জারিফের ব্রোঞ্জ জয়
প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান প্রতিযোগিতা জিনিয়াস অলিম্পিয়াড ২০২৫ এ অংশ নিয়ে ব্রোঞ্জ জিতলো বাংলাদেশের দুই কিশোর। ইলেকট্রনিক বর্জ্যের ক্ষতিকারক উপাদান ধ্বংস করে তা পুনর্ব্যবহারযোগ্য করার প্রযুক্তি ভিত্তিক সাশ্রয়ী সল্যুশন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পানির মান পরীক্ষার ডিভাইস তৈরি করে বিজ্ঞান ক্যাটাগরিতে দেশের জন্য এই সম্মাননা বয়ে এনেছে তারা। এরা হলেন রাজশাহীর শহীদের এইচএম কামরুজ্জামান সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী মোঃ ত্বসীন ইলাহী এবং ঢাকা সেন্ট জোসেফ সেকেন্ডারি স্কুলে অধ্যায়নরত জাবীর জারিফ আখতার।
নিউ ইয়র্কের রচেস্টার শহরে অবস্থিত রচেস্টার ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (আরআইটি) ক্যাম্পাসে চার দিন ধরে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতা শেষে স্থানীয় সময় ১৩ জুন বিকেলে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন জিনিয়াস অলিম্পিয়াড পরিচালক ড. ফেহমি ডেমকাচি। ব্রাজিল, সৌদি আরব, মেক্সিকো, যুক্তরাজ্য, ভারত, আলবেনিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, হাঙ্গেরি, বসনিয়া হার্জেগোভিনা, থাইল্যান্ড, হংকং, উত্তর মেসোডোনিয়া, লিথুনিয়া, ইউক্রেন এবং গ্রিসের সঙ্গে এক কাতারে এই সম্মাননা অর্জন করেছে তরুণ দুই খুদে উদ্ভাবক।
এই বিভাগে স্বর্ণপদক জিতেছে যুক্তরাজ্যের আভিভা ওয়াং, অ্যালিসা ওয়াং, ম্যাক্সওয়েল হো, ঝাং লিউ, চার্লোট ফুসকো, অ্যান্ড্রি জু, রিত্তিক সুরেন, অস্টিন ঝাং, রেজিনা আয়্যুবি, তনয় পাঞ্জা,; কানাডার হাউ চেং লি; আজার বাইজানের সামিরা জাফরি, জাসুর রাসুলজাদি; থাইল্যান্ডের নাপাত লোসাথিমনতম, ক্রিসপং থাঙ্কানতন, পিসিত আরসিরাওয়িচিয়া; দক্ষিণ কোরিয়ার ইউকি ইকেদা, সিউনজিয়ান লি; ইন্দোনেশিয়ার ক্যালিসতা পুত্রি, ফায়দাজা ঘাইদা সালিম; বসনিয়া হার্জেগোভিনার ইনেস আঞ্জুম, মোজাম্বিকের ক্লেটন মানহেনজু মুনচাঙ্গা, ইয়ৈাতান্নি জোয়াও মুনচাঙ্গা; চীনের জিয়াওইয়া ইয়ান এবং ভারতের আদিয়া কাঞ্চন।
অলিম্পিয়াডে এ বছর বিশ্বের ৭০টিরও বেশি দেশ এবং ৩৪টি মার্কিন অঙ্গরাজ্য থেকে এক হাজার ৬৯৮টি প্রকল্প জমা পড়ে। এর মধ্যে মাত্র ১০ শতাংশ প্রকল্প ব্রোঞ্জ পদকের জন্য নির্বাচিত হয়। সম সংখ্যক প্রকল্প জিতেছে সিলভার পদক। আর স্বর্ণ পদক পেয়েছে স্বর্ণ পদক। দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান এবং ম্যাকাও এর প্রতিযোগীরা অর্জন করেছে এই সম্মাননা। বিজনেস গোল্ড মেডেল পেয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য এবং কানাডা। কোডিংয়ে এক স্বর্ণ পদক জিতেছে দক্ষিণ কোরিয়া। রোবটিক্স-এ মেক্সিকো আজারবাইজান ও ইউক্রেন জিতেছে জিনিয়াস অলিম্পিয়াড স্বর্ণ পদক।
একক প্রচেষ্টায় এবং নিজস্ব খরচে বৈশ্বিক এই জিনিয়াস প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে অংশ নিয়েই বিশ্বের সামনে পুরনো ই-বর্জ্য ব্যবহার করে পানির দূষণ শনাক্ত ও পরিশোধনের একটি সাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব এবং টেকসই সমাধান উপস্থাপন করে ত্বসীন ও জারিফ। উচ্চ ভোল্টেজের প্লাজমা ব্যবহার করে ইলেকট্রনিক বর্জ্য শোধন করে তাদের তৈরি পানির বিষুদ্ধতা নির্ণয় করে দেখায় প্রতিযোগিতায়। তাদের তৈরি পানি বিষুদ্ধকরণ ডিভাইসটি মেশিন লার্নিং ও হার্ডওয়্যার সফটওয়্যার ইন্টিগ্রেশন এর মাধ্যমে কাজ করে।
বিজয়ের পর তাদের ভাষ্য ছিলো- এই অর্জন শুধুমাত্র একটি পদক নয় — এটি বাংলাদেশের প্রতিটি তরুণ উদ্ভাবকের জন্য একটি বার্তা যে, চ্যালেঞ্জের মাঝেও আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের অবস্থান তৈরি করা সম্ভব।
ত্বসীন জানান, কম্পিটিশনটা অনেক কঠিন ছিল বিশেষ করে বিদেশি প্রতিযোগীদের সাথে পারাটা আমাদের জন্য বেশ কষ্টসাধ্য ছিল। প্রতিযোগিতার জন্য প্রথমে রিসার্চ পেপার লিখতে হয়েছে। এরপর প্রজেক্ট বানিয়ে সেটি উপস্থাপন করতে হয়েছে। বিচারকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবের পাশাপাশি ডিভাইসটি নির্ভুলতার প্রমাণ দিতে হয়েছে। প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে কোনো স্পন্সর না পাওয়ায় ব্যক্তিগত খরচেই তারা অংশ নিয়েছেন। তবে ভেন্যুতে পৌঁছানোর পর সব খরচই বহন করেছে রচেস্টার ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি।
পুরস্কার বিতরণীতে নিজ দেশের পতকা গায়ে জড়িয়ে অ্যাঙ্গোলা, আজারবাইজান, ব্রাজিল, ইতালি, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, মেক্সিকো, নর্থ মেসিডোনিয়া থেকে আগত প্রতিযোগীদের জন্মদিন উদযাপন করে আয়োজক কর্তৃপক্ষ। আরআইটি কমিউনিটির পক্ষ থেকে জিনিয়াস অলিম্পিয়াডের সহ আয়োজক মার্ক মাঞ্জের অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন।
প্রসঙ্গত, দেশের পক্ষে জিনিয়াস অলিম্পিয়াডে প্রথম সম্মাননা বয়ে আনা ত্বসীন ইলাহী এর আগেও নাসা কনরাড চ্যালেঞ্জের গ্লোবাল ফাইনালিস্ট ছিলেন এবং একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক অর্জন করেছেন। আর জাবীর জারিফ আকতার স্টকহোম জুনিয়র ওয়াটার প্রাইজ-এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছে।







