আইওএআই অলিম্পিয়াডের বাংলাদেশ জাতীয় দল ঘোষণা
ইনান, রাহিক, রিয়াসাত ও আরেফিন যাচ্ছেন বেইজিং
আন্তর্জাতিক এআই অলিম্পিয়াডে (আইওএআই) দ্বিতীয়বারের মত অংশ নিতে যাচ্ছে ৪ সদস্যের বাংলাদেশ দল। এই দলের সদস্যরা হলেন- নটর ডেম কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মিসবাহ উদ্দিন ইনান ও আবরার শাহিদ রাহিক এবং রাজউক উত্তরা মডেল স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো: রিয়াসাত ইসলাম ও সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী আরেফিন আনোয়ার।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আগামী ২-৯ আগস্ট, চীনের বেইজিং এ অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করবে এই দল। এই দলের সদস্য ইনান এর আগে আইএওআই- তে রৌপ্য পদ পেয়েছে। এছাড়াও ২০২১ সাল থেকে ইন্টারন্যাশনাল রোবট অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ করছে এবং সেখানে স্বর্ণপদক পেয়েছে।
অপর সদস্য রাজউক উত্তরা মডেল স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো: রিয়াসাত ইসলাম প্রথমবারের মতো আইওএআই-এর জন্য নির্বাচিত হয়েছে। রিয়াসাত তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞান ক্লাব, আইআর ক্লাব, মডেল ইউনাইটেড নেশনসের কার্যক্রমে যুক্ত। রিয়াসাত ২০২৫ সালের বাংলাদেশ এআই অলিম্পিয়াডের জাতীয় পর্বে সেকেন্ড রানারআপ হয়েছে।
এছড়া নটর ডেম কলেজের একাদশ শ্রেণির আরেকজন শিক্ষার্থী আবরার শাহিদ রাহিক ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত হওয়া আন্তর্জাতিক এআই অলিম্পিয়াডে (IAIO) অংশগ্রহণ করে ব্রোঞ্জ পদক লাভ করে এবং আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াড ২০২২- এ স্বর্ণপদক ও রৌপ্য পদক জিতেছে।
আর সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী আরেফিন আনোয়ার প্রথম আন্তর্জাতিক এআই অলিম্পিয়াড (IAIO)- ২০২৪ এ রৌপ্য পদক জয়ী। আরেফিন ২০২০ সাল থেকে ইন্টারন্যাশনাল রোবট অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ করছে এবং ২০২২ সালে স্বর্ণপদকসহ ভিন্ন ভিন্ন সময়ে রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ পেয়েছে।
এর আগে গত ২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ এআই অলিম্পিয়াডের কার্যক্রম শুরু হলে সারাদেশের এক হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী নিবন্ধন করে। ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত বিভিন্ন অনলাইন এবং অফলাইন কর্মশালা, নমুনা প্রতিযোগিতা ও বিশেষ প্রশিক্ষণ আয়োজনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংক্রান্ত জ্ঞান ও দক্ষতা যাচাই করা হয়। এসব কার্যক্রমে দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, এবং শিল্পখাতের অভিজ্ঞজনেরা প্রশিক্ষক হিসেবে অংশ নেন।
এ ছাড়া প্রতিযোগিতার ধরন ও পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা দিতে আয়োজকরা বিভিন্ন প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে। মার্চ ও এপ্রিল মাস জুড়ে অনুষ্ঠিত হয় একাধিক ওয়ার্কশপ ও প্র্যাকটিস সেশন, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা অলিম্পিয়াডের ফরম্যাট, প্ল্যাটফর্ম এবং সমস্যার ধরন সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞতা লাভ করে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য একটি আয়োজন ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ মক কনটেস্ট, যেখানে কুইজ ও প্রোগ্রামিং,উভয় ধরণের সমস্যা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
অপরদিকে ৩০ এপ্রিল একটি অনলাইন প্রোগ্রামিং প্র্যাকটিস কনটেস্ট অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে একটি প্রতিষ্ঠিত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদেরকে বাস্তব প্রতিযোগিতার পরিবেশে কোডিং চর্চার সুযোগ দেওয়া হয়।
অলিম্পিয়াডের আঞ্চলিক পর্বে অংশগ্রহণকারীদের সমস্যা সমাধানের দক্ষতা যাচাই করার লক্ষ্যে ৩ মে অনুষ্ঠিত হয় একটি অনলাইন প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা। এর ঠিক এক সপ্তাহ পর, ১০ মে অনলাইন এআই কুইজ প্রতিযোগিতার প্রাথমিক বাছাই পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ এআই অলিম্পিয়াড ২০২৫-এর জাতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয় ১৭ মে ২০২৫ তারিখে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজিতে (BUBT)। এই পর্বের মূল আকর্ষণ ছিল মেশিন লার্নিং প্রতিযোগিতা, যেখানে ১৭১ জন নির্বাচিত প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করে। এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদেরকে পাইথন প্রোগ্রামিংয়ের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হয়, পাশাপাশি তাদের ডেটা বিশ্লেষণ ও মডেল তৈরির দক্ষতাও মূল্যায়ন করা হয়। এখান থেকেই নির্বাচিত করা হয় শীর্ষ ১৬ জনকে, যাদের নিয়ে ২৩-২৪ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজিতে (IIT DU) আয়োজন করা হয় দুই দিনের প্রশিক্ষণ ক্যাম্প। এই ক্যাম্পে শিক্ষার্থীদের উন্নত এআই ধারণা, সমস্যা বিশ্লেষণ, দলগত কাজ ও প্রেজেন্টেশনের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ৩১ মে অনুষ্ঠিত ক্যাম্প পারফরমেন্স টেস্ট-এর ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয় IOAI ২০২৫-এর জন্য বাংলাদেশের জাতীয় দল।
বাংলাদেশের পক্ষে এই চারজন মেধাবী শিক্ষার্থী আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অংশগ্রহণ করবেন এবং আমাদের তরুণ সমাজের এআই-ভিত্তিক সক্ষমতা তুলে ধরবেন। এই প্রতিযোগিতাটি বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (BdOSN) এবং বিএইউবিট-এর যৌথ ব্যবস্থাপনায় আয়োজন করা হয়। ২০২৫ সালের আসরে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান-রেভ চ্যাট, ব্রেইন স্টেশন ২৩, ইনটেলিজেন্ট মেশিনস এবং ক্রিয়েটিভ আইটি ইনস্টিটিউট। পাশাপাশি, আয়োজনের পার্টনার হিসেবে যুক্ত ছিল জনপ্রিয় কিশোর ম্যাগাজিন ‘কিশোর আলো’ এবং বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকাশনা ‘বিজ্ঞানচিন্তা’।







