অ্যাপে এক পাতার রিটার্ন দাখিলের সুযোগ চায় এমসিসিআই
আগামী বাজেট ‘শাস্তিমূলক’ না করে ‘সহায়তামূলক’ করার আহ্বান জানিয়ে করের আওতা বাড়াতে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে এক পাতার ডিজিটাল রিটার্ন দাখিলের সুযোগ চালুর প্রস্তাব দিয়েছে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই)। একইসঙ্গে বছরে ১০০ বা ১ হাজার টাকার ‘প্রতীকী’ ন্যূনতম কর ব্যবস্থা চালু করে নতুন করদাতা ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতকে করের আওতায় আনার প্রস্তাবও দিয়েছে সংগঠনটি। ডিজিটাল করব্যবস্থার অংশ হিসেবে আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমসের জন্য পৃথক প্ল্যাটফর্মের পরিবর্তে সমন্বিত ‘ইউনিফাইড ট্যাক্সপেয়ার প্রোফাইল’ চালুর এবং একই সঙ্গে ভ্যাট কাঠামো সহজীকরণ, ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট স্বয়ংক্রিয়করণ এবং আপিল ও ট্রাইব্যুনালে অনলাইন শুনানি চালুর সুপারিশও করা হয়।
২৫ এপ্রিল, শনিবার রাজস্ব ভবনে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় এসব প্রস্তাব করা হয়।
সভায় প্রতীকী কর চালুর ব্যাখ্যায় এমসিসিআই সভাপতি কামরান টি রহমান বলেন, “বর্তমানে ১ কোটির বেশি ই-টিআইএন ধারী থাকলেও নিয়মিত রিটার্ন দাখিল করছেন অর্ধেকেরও কম। এটা আমাদের কর কাঠামোর বড় দুর্বলতা। চেম্বারের পক্ষ থেকে বারবার তাগিদ দেওয়ার পরেও বাজেটে এর প্রতিফলন নগণ্য। দেশের অর্থনীতির প্রায় ৯০ শতাংশ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের ওপর নির্ভরশীল। ফলে এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে অর্থপূর্ণভাবে করের আওতায় আনা না গেলে জাতীয় কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি করা কার্যত অসম্ভব।
“এমতাবস্থায় নতুন করদাতাদের করভীতি দূর করতে এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতকে সম্পৃক্ত করতে আমরা বছরে মাত্র ১০০ বা ১০০০ টাকার একটি ‘প্রতীকী ন্যূনতম কর’ প্রবর্তন এবং মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ‘ওয়ান-পেজ ডিজিটাল রিটার্ন' দাখিল ব্যবস্থা প্রচলনের প্রস্তাব করছি”- যোগ করেন কামরান।
তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, নিম্ন জিডিপি প্রবৃদ্ধি, উচ্চ সুদহার এবং ডলার সংকটের কারণে দেশীয় শিল্প খাত কঠিন সময় পার করছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ অবস্থায় আগামী বাজেটে ব্যবসা ও বিনিয়োগ সহায়ক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
পিএসআর ব্যবস্থার সহজীকরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে ৩৯টি ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক পিএসআর ব্যবসা পরিচালনায় জটিলতা সৃষ্টি করছে এবং ব্যবসা সহজীকরণ ব্যাহত করছে। তাই এ ব্যবস্থাকে সরল, যৌক্তিক ও ডিজিটালভাবে যাচাইযোগ্য করার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় করের আওতা বাড়াতে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা বলেন। তিনি বলেন, আয়কর রিটার্ন দাখিল ব্যবস্থা এখন পুরোপুরি অনলাইনে নেওয়া হয়েছে এবং এটি সাধারণ করদাতাদের জন্য সহজ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৪৪ লাখ ই-রিটার্ন জমা পড়েছে, যেখানে কাগজে রিটার্নের সংখ্যা ৩ লাখেরও কম। এতে বোঝা যায় অনলাইন রিটার্ন ব্যবস্থা জনপ্রিয় হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ই-রিটার্ন ব্যবস্থায় কর হিসাব, রেয়াত ও করযোগ্য আয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত হয়। ফলে, ভুল হিসাবের ঝুঁকি কমে গেছে এবং করদাতাদের হয়রানিও কমবে।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, উৎসে কর কর্তন (ই-টিডিএস) ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ডিজিটাল করা হলে বিভিন্ন উৎস থেকে অর্জিত আয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে করদাতার রিটার্নে যুক্ত হবে। এতে করদাতাদের জন্য প্রক্রিয়া আরো সহজ হবে।
‘সবচেয়ে বেশি কর ফাঁকি তামাক খাতে হয়’ মন্তব্য করে তা কমানোর পরিকল্পনায় এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, “এই মুহূর্তে আমার লিকেজ সবচেয়ে বেশি হচ্ছে টোব্যাকোতে। আমরা যেটা শুনি, কমপ্লায়েন্ট ট্যাক্সপেয়ার আর যারা নন-কমপ্লায়েন্ট ট্যাক্সপেয়ার, যেটা ওদের মার্কেট শেয়ার, আমরা তার কাছাকাছিও কোনো রেভিনিউ পাই না।
“তো আমরা যদি টোব্যাকো দিয়ে শুরু করব। আমরা প্রত্যেকটা টোব্যাকোর এখন যে ব্যান্ডরোলগুলো ব্যবহার করা হয়, সেগুলোর টোটালি কালার পরিবর্তন, এবং যে স্টাইলে আঠা দেওয়া হয় সেগুলো পরিবর্তন করব। এবং সেখানে এয়ার কোড, যেটা অত্যাধুনিক, অথবা কিউআর কোড, এগুলো যদি চালু করি, তাহলে আমরা টোটাল জিনিসটাকেই সিস্টেমে নিয়ে আসতে পারব। তখন আমার ট্যাক্স বেইজ এবং ভ্যাটের বেইজ, দুইটাই বড় হয়ে যাবে বলে আমরা মনে করি।”
এ সময় সিগারেটে থাকা বর্তমানের ৮৩ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক, ভ্যাট ও স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ আর বাড়ানো হবে না না হলেও দাম আরো বাড়ার ইঙ্গিত মেলে তার কথায়। এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, “টোব্যাকো থেকে রেভিনিউ বাড়াতে হবে। টোব্যাকোকে আরও কস্টলি করতে হবে। কিন্তু ট্যাক্স যে রেট আছে ৮৩ পার্সেন্ট, এটা বাড়বে না।”
ডিবিটেক/এমএআর/এমইউআইএম







