ডিআরইউতে থাইরয়েড পরীক্ষা ও মুক্ত আলোচনা 

দেশের অধিকাংশ মানুষ হরমোন জনিত রোগে আক্রান্ত  সুচিকিৎসা নিশ্চিতে এন্ড্রোক্রাইন ইন্সটিটিউটের দাবি

দেশের অধিকাংশ মানুষ হরমোন জনিত রোগে আক্রান্ত  সুচিকিৎসা নিশ্চিতে এন্ড্রোক্রাইন ইন্সটিটিউটের দাবি
২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১৯:৫৭  

বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি মানুষ কোন না কোন হরমোন জনিত রোগে আক্রান্ত। অথচ বেশিরভাগ মানুষই এসব রোগ সম্পর্কে সচেতন নয়। তবে এই চিকিৎসা কার্যক্রমে সামগ্রিক সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিশেষায়িত হাসপাতাল অথবা এন্ড্রোক্রাইন ইন্সটিটিউট করা প্রয়োজন। চিকিৎসকরা জানালেন, বাংলাদেশে হরমোনজনিত স্বাস্থ্য সমস্যা নীরবে মহামারির আকার ধারণ করছে। বর্তমানে দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ কোনো না কোনো হরমোনজনিত সমস্যায় ভুগছেন। তবে এসমর্কে সঠিক জ্ঞান ও সচেতনতা না থাকায় অধিকাংশ মানুষই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয় না। তাদের ভাষায়, হরমোন জনিত রোগ নীরব ঘাতক। এর কারণে স্থূলতা, দূর্বলতা, পুরুষালী ও মেয়েলী নানান সমস্যা এমনকি বন্ধ্যাত্ব ও যৌন সমস্যার নানা রোগের উপসর্গ দেখা যায়। 

২৫ এপ্রিল, শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি ও অ্যাসোসিয়েশন অব ক্লিনিক্যাল এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট অ্যান্ড ডায়াবেটোলজিস্ট অব বাংলাদেশ (এসেডবি) আয়োজিত সাংবাদিকদের জন্য থাইরয়েড হরমোন পরীক্ষা ও মুক্ত আলোচনায় এমন অভিমত ব্যক্ত করলেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।  

মুক্ত আলোচনার প্রধান অতিথি ও এসেডবি এর সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, দেশে অন্তত ৫ কোটি মানুষ থাইরয়েড ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রাথমিক অবস্থায় সনাক্ত করা গেলে এবং সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ মারাত্মক ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। সেজন্য জনসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে পারিবারিক ও সামাজিক বোঝা দূর করতে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

ডা. মো. ফরিদ উদ্দিন আরো বলেন, হরমোন জনিত প্রায় সব রোগের চিকিৎসা বাংলাদেশে রয়েছে। বিশেষকরে  প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ও হরমোন জনিত রোগের চিকিৎসা হচ্ছে। তবে এই চিকিৎসা কার্যক্রমে সামগ্রিক সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিশেষায়িত হাসপাতাল অথবা এন্ড্রোক্রাইন ইন্সটিটিউট করা প্রয়োজন বলে মত এই বিশেষজ্ঞের। এ ব্যাপারে সরকারের সদিচ্ছা প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি। 


অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন জানান, অধিকাংশ হরমোনজনিত রোগই প্রতিরোধযোগ্য। নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্য গ্রহণ, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এই ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। 

অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা বলেন, সচেতনতা তৈরী সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে ৫০ শতাংশ ক্ষেত্রে এই ধরনের রোগ প্রতিরোধ সম্ভব। তারা জানান, মূলত জীবনযাত্রার অনিয়ম, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাবই এই সংকটের প্রধান কারণ। এ ছাড়া পরিবেশগত প্রভাব যেমন প্লাস্টিকের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার, আধুনিক প্রযুক্তির বিকিরণে হরমোন জনিত সমস্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজের এন্ডোক্রাইনোলজি ও মেটাবলিজম বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এ কে এম আমিনুল ইসলাম,রেনাটা পিএলসির হেড অব মার্কেটিং (ডার্মা পোর্টফোলিও) মো. খায়রুল ইসলাম, ডিআরইউ’র সহ-সভাপতি মেহ্দী আজাদ মাসুম, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. জাফর ইকবাল, অর্থ সম্পাদক নিয়াজ মাহমুদ সোহেল প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যনির্বাহী সদস্য ও চ্যানেল আইয়ের স্টাফ রিপোর্টার আকতার হোসেন ।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, ডিআরইউর দপ্তর সম্পাদক রাশিম মোল্লা, নারী বিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস পান্না, ক্রীড়া সম্পাদক ওমর ফারুক রুবেল, কার্যনির্বাহী সদস্য আলী আজম, মাহফুজ সাদি, সুমন চৌধুরী ও মাজাহারুল ইসলাম। 

প্রসঙ্গত, ডিআরইউ সদস্যদ্যের হরমোন পরীক্ষা অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতা করেছে রেনাটা পিএলসি।

ডিবিটেক/এনএ/ইকে