আন্তর্জাতিক বাজারে একসঙ্গে ১৫টি নতুন মডেলের ফ্রিজ উন্মোচন করলো ওয়ালটন
বাংলাদেশের প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স শিল্পে নতুন মাত্রা যোগ করে একসঙ্গে ১৫টি নতুন মডেলের ফ্রিজ উদ্বোধন করেছে দেশের নাম্বার ওয়ান রেফ্রিজারেটর ব্র্র্যান্ড ওয়ালটন। ফ্রিজের নতুন এই লাইনআপে রয়েছে প্রিমিয়াম মডেলের সাইড-বাই-সাইড স্মার্ট ফ্রিজ, ওয়াটার ডিসপেনসারযুক্ত মডেল, নন-ফ্রস্ট ফ্রিজ, টপ মাউন্ট রেফ্রিজারেটর, সোলার-পাওয়ার্ড চেস্ট ফ্রিজার, ভার্টিক্যাল ফ্রিজার, মিনিবার ফ্রিজ, বেভারেজ কুলার এবং আইসক্রিম ফ্রিজার।
আধুনিক জীবনযাপন, স্মার্ট প্রযুক্তি, বিদ্যুৎ সাশ্রয়, দৃষ্টিনন্দন ডিজাইন এবং আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ সবকিছুর সমন্বয়ে ফ্রিজের এই নতুন লাইনআপ সাজিয়েছে সুপারব্র্যান্ড ও টেক জায়ান্ট ওয়ালটন। দেশের বাজারে ওয়ালটনের নতুন মডেলের এসব ফ্রিজ ১৬ হাজার ৪৯০ টাকা থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকায় কেনা যাবে।
২৫ এপ্রিল, শনিবার বিকালে রাজধানীর ওয়ালটন কর্পোরেট অফিসে অনুষ্ঠিত “ওয়ালটন মেগা লঞ্চ” শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব নতুন মডেলের রেফ্রিজারেটর ও ফ্রিজার আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়।
সেসময় উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন ফ্রিজের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর বিদ্যা সিনহা মীম, চিফ বিজনেস অফিসার (সিবিও) মো. তাহসিনুল হক, রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন সেন্টারের প্রধান আজমল ফেরদৌস বাপ্পী, ওয়ালটনের চিফ মার্কেটিং অফিসার জোহেব আহমেদ, ভারতে ওয়ালটনের ব্যবসায়িক অংশীদার সঞ্জয় সাহাসহ অন্য ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তাগণ।
এছাড়াও ভার্চুয়াল মাধ্যমে এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়িক অংশীদারগণও অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।
অনুষ্ঠানে ওয়ালটন ফ্রিজের সিবিও মো. তাহসিনুল হক বলেন, স্থানীয় বাজারে একক আধিপত্য বজায় রাখার পাশাপাশি ওয়ালটন ইতোমধ্যে বিশ্বের ৫৫টিরও বেশি দেশে পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে ব্র্র্যান্ড বিজনেস সম্প্রসারণ করতে সক্ষম হয়েছে। আমাদের স্বপ্ন- বিশ্বের ১’শটিরও বেশি দেশে ব্র্যান্ড বিজনেস সম্প্রসারণের মাধ্যমে ওয়ালটনকে বিশ্বের অন্যতম সেরা গ্লোবাল ইলেকট্রনিক্স ব্র্যান্ডে প্রতিষ্ঠিত করা। এই স্বপ্ন পূরণের যাত্রাকে আরো বেগবান করার লক্ষ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে একসঙ্গে নতুন ১৫টি মডেলের ফ্রিজ উন্মোচন করা হলো। এর মধ্য দিয়ে স্মার্ট ও গ্লোবাল ফ্রিজিং সল্যুশনে ওয়ালটন এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলো। ফ্রিজের এই নতুন লাইনআপ আর্ন্তজাতিক বাজারে ওয়ালটন ব্র্যান্ডকে আরো সুসংসহত করার পাশাপাশি বাজার সম্প্রসারণের গতি তরান্বিত করবে বলে আশাবাদী।
অনুষ্ঠানে নতুন মডেলের ফ্রিজের উদ্ভাবনী প্রযুক্তি, ফিচারসহ অন্যান্য বিশেষ দিক তুলে ধরেন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ ওয়ালটন ফ্রিজের আরঅ্যান্ডআই সেন্টারের প্রধান আজমল ফেরদৌস বাপ্পী। তিনি জানান, মেগা লঞ্চ লাইনআপের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে সাইড-বাই-সাইড ৬২৯ লিটারের ৩২ ইঞ্চি ম্যাজিক মিরর মাল্টিমিডিয়া ডিসপ্লে সমৃদ্ধ স্মার্ট ফ্রিজ। এটি আধুনিক পরিবারের জন্য শুধু একটি রেফ্রিজারেটর নয়; বরং একটি স্মার্ট লাইফস্টাইল ডিভাইস। ফ্রিজটির মাল্টিমিডিয়া হাব থেকে ইন্টারনেট ব্রাউজিং, ইউটিউব ব্যবহার, অনলাইন শপিং এবং স্মার্ট ফিচার ব্যবহার করা যাবে। এতে রয়েছে ম্যাজিক মিরর টেকনোলজি, এআই ডক্টর, টার্বো কুলিং এবং এইট-ইন-ওয়ান কনভার্টিবল মোড। এছাড়াও এই ফ্রিজ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী এমএসও প্লাস ইনভার্টার প্রযুক্তি ও পৃথক কুলিং কন্ট্রোলের মাধ্যমে খাবার দীর্ঘসময় সতেজ রাখতে সক্ষম। আধুনিক রান্নাঘর ও স্মার্ট হোম লাইফস্টাইলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই মডেলটি তৈরি করা হয়েছে।
এছাড়া নতুন লাইনআপে রয়েছে ৬১৯ লিটারের নতুন ডিজাইনের আরও দুটি সাইড-বাই-সাইড ফ্রিজ। এই মডেলে ওয়াটার ডিসপেনসার সুবিধাসহ অ্যাকুয়া ফাউন্টেন, ডুয়াল কন্ট্রোল সিস্টেম, সুপার ফ্রিজিং, হলিডে মোড এবং এমএসও প্লাস ইনভার্টার প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে। যা ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন প্রয়োজনকে আরও সহজ ও আরামদায়ক করবে।
বিশ্বব্যাপী এনার্জি সাশ্রয়ী ও টেকসই প্রযুক্তিকে গুরুত্ব দিয়ে ওয়ালটন উন্মোচন করেছে সোলার-পাওয়ার্ড চেস্ট ফ্রিজার। চার বাস্কেটযুক্ত ২৫৫ লিটার চেস্ট ফ্রিজারে রয়েছে ১৬০ ঘণ্টা পর্যন্ত কুলিং রিটেনশন, বড় স্টোরেজ ক্যাপাসিটি, ইনসাইড ক্যাবিনেট লাইট, ফুড-গ্রেড অ্যালুমিনিয়াম ক্যাবিনেট এবং ফোরডি কুলিং সিস্টেম।
মেগা লঞ্চ লাইনআপের নন-ফ্রস্ট সেগমেন্টে ৫১৫ লিটারের নতুন মডেলের রেফ্রিজারেটরে রয়েছে এমএসও প্লাস ইনভার্টার টেকনোলজি, ডেডিকেটেড চিলার রুম, সুপার ফ্রিজিং, ইকো মোড, রিয়েল-টাইম টেম্পেরেচার স্মার্ট কন্ট্রোল সিস্টেম। ফলে দ্রæত কুলিং, স্থিতিশীল তাপমাত্রা ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় নিশ্চিত হবে।
নতুন লাইনআপে টপ মাউন্ট ক্যাটাগরিতেও নতুন ডিজাইন, ৫-স্টার এনার্জি রেটিং, অ্যারো সিন্ক টেকনোলজি, ডিইসিএস কুলিং এবং ইন্টেলিজেন্ট ইনভার্টারসহ একাধিক মডেল আনা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ওয়ালটনের নতুন ফ্রিজ লাইনআপে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের জন্য ৫০ ও ৯৩ লিটারের মিনিবার ফ্রিজ যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া রয়েছে ১৬৫ লিটারের সিঙ্গেল ডোর রেফ্রিজারেটর, যা নেপাল ও ভারতের বাজারের চাহিদা বিবেচনায় ডিজাইন ও তৈরি করা হয়েছে। এসব মডেলে রয়েছে টেম্পারড গøাস ডোর, সেমি-অটোমেটিক ডিফ্রস্ট এবং বড় সাইজের ভেজিটেবল বক্স।
কমার্শিয়াল সেগমেন্টের জন্য উন্মোচন করা হয়েছে ৭২০ লিটারের ডাবল ডোর বেভারেজ কুলার, ১০০ লিটারের সিঙ্গেল ডোর বেভারেজ কুলার এবং কার্ভড ও ¯øাইডিং ডোরযুক্ত আইসক্রিম ফ্রিজার। এগুলো রিটেইল শপ, রেস্টুরেন্ট, হোটেল, ক্যাফে ও ফুড সার্ভিস খাতের জন্য উপযোগী।
ডিবিটেক/এসএ/ইকে







