প্রযুক্তিভিত্তিক সমষ্টিগত জ্ঞানচর্চাই হবে ভবিষ্যৎ সভ্যতার কৌশলগত শক্তি: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী 

প্রযুক্তিভিত্তিক সমষ্টিগত জ্ঞানচর্চাই হবে ভবিষ্যৎ সভ্যতার কৌশলগত শক্তি: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী 
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ০০:০০  

বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতির ভবিষ্যৎ রূপরেখা এবং প্রস্তাবিত আইনি কাঠামো নিয়ে ২৫ এপ্রিল, শনিবার রাজধানীর বনানী ক্লাবের ব্যাংকুয়েট হলে অনুষ্ঠিত হলো বিশেষ ‘পলিসি ডায়ালগ’। সরকারের নীতি নির্ধারক, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, প্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তা এবং শিল্প সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা এই সংলাপে অংশগ্রহণ করেন।

বাংলাদেশ আইসিটি স্টেকহোল্ডারস এসোসিয়েশন (বিসা) আয়োজিত এই সভায় টেলিকম, ডাটা ও সাইবার সিকিউরিটি বিল, ২০২৬ বিষয়ে আলোচনা করেন বক্তারা। সংলাপে নীতিমালায় ভারসাম্যহীনতা, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ এবং ডাটা সুরক্ষায় দুর্বলতা থাকলে দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে স্পষ্টভাবে সতর্ক বার্তা দিলেন অংশগ্রহণকারীরা। তাদের ভাষায়, ডাটা প্রাইভেসি নিশ্চিত না হলে ডিজিটাল বিনিয়োগ হুমকির মুখে পড়বে। ​অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ ও অস্পষ্ট নীতিমালা স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনকে বাধাগ্রস্ত করবে। ​নীতিমালা প্রণয়নে বাস্তবতা বিবেচনা না করলে তা কার্যকর হবে না।

বিসা প্রেসিডেন্ট ফয়সাল আলিমের সভাপতিত্বে এবং উপদেষ্টা মো. শামীম আজাদ-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি আবু আবদুল্লাহ এম. সালেহ, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সহকারী সম্পাদক এইচএম সাইফ আলী খান, বিসা-এর ফাউন্ডার ও উপদেষ্টা প্রকৌশলী মো. জুয়েল।

এসময় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, প্রযুক্তিভিত্তিক আধুনিক জ্ঞান ও সৃজনশীল চিন্তার সমষ্টিগত চর্চাই ভবিষ্যৎ সভ্যতার জন্য কৌশলগত শক্তিতে পরিণত হবে। তিনি বলেন, দেশের সৃজনশীল মেধা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতাকে একত্রিত করে জাতীয় উন্নয়নের সম্পদে রূপান্তর করতে হবে।

তথ্যমন্ত্রী উপস্থিত প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনাদের এই সমবেত হওয়া শুধু উপস্থিতি নয়; আপনারা আপনাদের ক্রিয়েটিভ থিংকিংকেও এক জায়গায় নিয়ে এসেছেন। এ ধরনের সৃজনশীল চিন্তার সমষ্টিগত চর্চা জাতির জন্য একটি সম্পদে পরিণত হবে।”

তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিসা এমন একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম তৈরি করবে যেখানে দেশের প্রযুক্তি খাতের অংশীজনরা সম্মিলিতভাবে তাঁদের জ্ঞান, দক্ষতা ও চিন্তাশক্তি বিনিয়োগ করতে পারবেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব রাজনীতি, অর্থনীতি ও প্রযুক্তিতে এখন সেমিকন্ডাক্টর, রেয়ার আর্থ ম্যাটেরিয়াল এবং যোগাযোগ প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত উপাদানে পরিণত হয়েছে। আগে বৈশ্বিক সংঘাতের প্রধান কারণ ছিল জ্বালানি সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ; এখন রেয়ার আর্থ ম্যাটেরিয়াল ও প্রযুক্তিগত কাঁচামালের প্রাপ্যতাও আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও সংঘাতের বড় কারণ হয়ে উঠছে।

মন্ত্রী বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার দেশ ও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে; তাই প্রযুক্তিনির্ভর নতুন সভ্যতার চাহিদা অনুযায়ী সমসাময়িক নীতি প্রণয়নে বিশেষজ্ঞদের জ্ঞান ও পরামর্শ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিসা-এর উপদেষ্টা মোহাম্মদ সামিউল ইসলাম।

সংলাপে আরও বক্তব্য রাখেন বিসা-র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বাক্য পরিচালক সায়মা শওকত, ফেলেসিটি আইটিসি এর সিইও শরিফুল আলম, চালডাল-এর জিয়া আশরাফ সহ প্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তারা।  

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, ডিজিটাল খাতকে শক্তিশালী করতে হলে নীতিমালাকে হতে হবে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং বাস্তবসম্মত—অন্যথায় এটি উন্নয়নের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে। একারণেই তিনি দ্রুত একটি অংশগ্রহণমূলক, বাস্তবভিত্তিক এবং ভারসাম্যপূর্ণ ডিজিটাল নীতি প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতি দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। তবে একইসঙ্গে ডাটা সুরক্ষা, সাইবার ঝুঁকি এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামোর জটিলতা নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রস্তাবিত বিলসমূহ ভবিষ্যৎ ডিজিটাল ইকোসিস্টেম নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ ডিজিটাল অর্থনীতিতে এগিয়ে যাবে, ভুল নীতি হলে পুরো ইকোসিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সভাপতির বক্তব্যে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হাইটেক পার্কগুলোর মধ্যে গাজীপুরেরটা ধ্বংস হওয়ার পথে এবং যশোর হাইটেকপার্ককে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে পরিণত করা হয় বলে অভিযোগ করেন বিসা প্রেসিডেন্ট ফয়সাল আলিম।

ডিবিটেক/এমএআর/এমইউআইএম