এআই যখন ক্রেতা ও বিক্রেতা

এআই যখন ক্রেতা ও বিক্রেতা
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ০৯:০৬  

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন কেবল প্রশ্নের উত্তর দেওয়া বা ছবি তৈরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; এআই এখন নিজের মধ্যেই কেনাকাটা এবং দরদাম করতে শুরু করেছে। সম্প্রতি এআই স্টার্টআপ অ্যানথ্রোপিক ‘প্রজেক্ট ডিল’ নামে একটি বিশেষ পরীক্ষা চালিয়েছে, যেখানে মানুষের হয়ে এআই এজেন্টরাই পণ্য কেনাবেচা এবং আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন করেছে।

পরীক্ষার ধরণ ও ফলাফল
অ্যানথ্রোপিক তাদের ৬৯ জন কর্মীকে নিয়ে এই পরীক্ষামূলক বাজারটি তৈরি করেছিল। প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকে ১০০ ডলারের সমপরিমাণ বাজেট (গিফট কার্ডের মাধ্যমে) দেওয়া হয়েছিল তাদের সহকর্মীদের কাছ থেকে পণ্য কেনার জন্য। পুরো প্রক্রিয়ায় ক্রেতা এবং বিক্রেতা—উভয় পক্ষকেই প্রতিনিধিত্ব করেছে এআই এজেন্ট।

    লেনদেনের পরিমাণ: পরীক্ষায় মোট ১৮৬টি সফল চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।

    মোট মূল্য: লেনদেন হওয়া পণ্যগুলোর মোট বাজারমূল্য ছিল ৪,০০০ ডলারের বেশি।

    মডেলের প্রভাব: কোম্পানিটি মোট চারটি ভিন্ন বাজারে ভিন্ন ভিন্ন মডেল ব্যবহার করে পরীক্ষাটি চালায়। দেখা গেছে, যখন কোনো পক্ষ বেশি উন্নত এআই মডেল ব্যবহার করে, তখন তারা তুলনামূলক ভালো ডিল বা লাভজনক চুক্তি করতে সক্ষম হয়।

চমকপ্রদ পর্যবেক্ষণ
অ্যানথ্রোপিক জানিয়েছে, এই পরীক্ষার মাধ্যমে একটি ‘এজেন্ট কোয়ালিটি গ্যাপ’ বা এআই-এর দক্ষতার পার্থক্যের বিষয়টি সামনে এসেছে। দেখা গেছে, যারা অপেক্ষাকৃত দুর্বল এআই মডেল ব্যবহার করার কারণে ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তারা নিজেরাও বুঝতে পারেনি যে তারা লোকসান করছে। এছাড়া, এজেন্টদের শুরুতে দেওয়া নির্দেশাবলী পণ্যের দাম বা বিক্রির সম্ভাবনার ওপর খুব একটা প্রভাব ফেলেনি।

অ্যানথ্রোপিকের মতে, এই পরীক্ষাটি ভবিষ্যতে স্বয়ংক্রিয় বাণিজ্যিক ব্যবস্থার এক নতুন পথ উন্মোচন করল, যেখানে মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই এআই এজেন্টরা একে অপরের সঙ্গে জটিল ব্যবসায়িক আলোচনা এবং লেনদেন সেরে ফেলতে পারবে।

ডিবিটেক/বিএমটি  ।  সূত্র: টেকক্রাঞ্চ