মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে চালু হতে পারে ‘স্টার্ট-আপ বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট’

মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে চালু হতে পারে  ‘স্টার্ট-আপ বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট’
২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ২১:০৬  

স্টার্ট-আপ খাতের উন্নয়নে ‘স্টার্ট-আপ বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট’ নামে একটি উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেছেন, প্রায় ৬০০ কোটি টাকার তহবিল নিয়ে আগামী মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এটি চালু হতে পারে। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য গ্র্যান্ট দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তুলতে ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহারে জোর দিয়েছেন তিনি।

গভর্নরের ভাষায়, ৩০ জুনের পর আর কোনো বিকল্প কিউআর কোডের এক্সটেনশন দেওয়া হবে না। সবাইকে বাংলা কিউআর ব্যবহার করতে হবে। এতে লেনদেনের আন্তঃকার্যক্ষমতা নিশ্চিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

২৫ এপ্রিল, শনিবার  সচিবালয়ে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। 

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে একীভূত করা পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রমে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর। তিনি বলেন, এসব ব্যাংক এখনো সমন্বিত কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যারের আওতায় আসেনি। ফলে এক শাখা থেকে অন্য ব্যাংকের তথ্য বা সেবা পাওয়া যাচ্ছে না, যা কার্যক্রমে বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। এই সিবিএস (কোর ব্যাংকিং সিস্টেম) একীভূত করতে সময় লাগবে।

গভর্নর জানান, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছে। যার মধ্যে পুনঃমূলধনীকরণ, বেসরকারীকরণ বা একীভূতকরণের মতো সিদ্ধান্তও থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত কিছু সিদ্ধান্ত হয়নি।

গভর্নর বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাত বর্তমানে একটি জটিল পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে যাচ্ছে। উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ঋণখেলাপির আওতায় থাকলেও এর একটি বড় অংশের বিপরীতে কোনো দৃশ্যমান সম্পদ বা যথাযথ কাগজপত্র নেই।  ফলে এসব ঋণকে প্রচলিত অর্থে খেলাপি বলা কঠিন, অনেক ক্ষেত্রেই এগুলো সরাসরি অর্থ আত্মসাৎ বা চুরি হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। 

এই পরিস্থিতিতে সম্পদ পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ধীরগতির কারণ বেনামি লেনদেন ও গোপন সম্পদ শনাক্ত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন তিনি। মোস্তাকুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে খেলাপিঋণের বিপরীতে সাধারণত সম্পদ থাকে এবং বিশেষ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির মাধ্যমে তা আংশিক উদ্ধার করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আদায়যোগ্য প্রকৃত সম্পদের পরিমাণ নির্ধারণই একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান বলেন, মার্চেই বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরকার প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। এটা হাইপাওয়ার মানি, ছাপানো টাকা। অর্থাৎ এটার প্রভাবে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে।

এর ভিত্তিতে গণমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে গভর্নর বলেন, এসব তথ্য দেশের অর্থনৈতিক ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ২০ হাজার কোটি টাকা ছাপিয়ে সরকারকে দেওয়ার তথ্য কোনোভাবেই সত্য না। এর আসলে কোনো অস্তিত্ব নেই।
ডিবিটেক/জেএনও/এমইউআইএম