পেশাক খাতের নতুন প্রযুক্তি নিয়ে ২৯ এপ্রিল থেকে শুরু বিটিকেজি এক্সপো ২০২৬

পেশাক খাতের  নতুন প্রযুক্তি নিয়ে  ২৯ এপ্রিল থেকে শুরু বিটিকেজি এক্সপো ২০২৬
২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১৭:২১  

দেশের পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের উদ্যোক্তাদের কাছে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি, রং, রাসায়নিক ও যন্ত্রপাতি তুলে ধরতে রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি) প্রাঙ্গণে আগামী ২৯ এপ্রিল, বুধবার শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল টেক্সটাইল, নিটিং অ্যান্ড গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রি এক্সিবিশন (বিটিকেজি এক্সপো ২০২৬)। 

বিকেএমইএ ও ইনফরচেইন ডিজিটাল টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে  চার দিনব্যাপী এ মেলা চলবে ২ মে পর্যন্ত। মেলায় বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় ৩০টি দেশের এক হাজারেরও বেশি প্রদর্শক অংশগ্রহণ করছে। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর তালিকায় কানাডা, চীন, তাইওয়ান, বেলজিয়াম, ফ্রান্স, ভারত, জাপান, ভিয়েতনাম, তুরস্ক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলো রয়েছে। আইসিসিবির আটটি প্রদর্শনী হল জুড়ে প্রায় এক হাজার ৮০০টি বুথ নিয়ে ২০ হাজার বর্গমিটার এলাকা ব্যাপী এই আয়োজনটি বিস্তৃত থাকবে।

২৫ এপ্রিল, শনিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকরক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।

সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকরা জানান, প্রায় ৩০টি দেশের এক হাজারের বেশি প্রদর্শক এতে অংশ নেবেন। ২৯ এপ্রিল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার সম্মতি দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি থাকবেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। এছাড়া ২ মে বিকেলে সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ হাতেম জানান, তৈরি পোশাক খাত দীর্ঘদিন ধরে দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ খাত থেকে প্রায় ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় হয়েছে, যা দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি। এই খাত দেশের মোট জিডিপিতে ১২-১৩ শতাংশ অবদান রাখছে এবং ৪০ লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে শিল্পকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ ও টেকসই উৎপাদনের দিকে যেতে হবে। এ ধরনের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী সেই পথকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ হাতেম বলেন, মেলাটি আগে অন্য একটি সংগঠন আয়োজন করলেও চলতি বছর তা হয়নি। সেই প্রেক্ষাপটে উদ্যোক্তারা মনে করেছেন, ব্যবসা পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে না পারলে বাংলাদেশ বাজার হারাবে এবং রপ্তানি আদেশ অন্য দেশে সরে যাবে।


তিনি জানান, বৈশ্বিক ফ্যাশন খাত দ্রুত ‘ফাস্ট ফ্যাশন’, রিসাইক্লিং ও সার্কুলার অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে। এ অবস্থায় নতুন প্রযুক্তির বিকল্প নেই। তাই খাত সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের এসব প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করানোই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। যদিও সাধারণত জানুয়ারিতে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়, তবে নানা কারণে এবার এপ্রিল মাসে আয়োজন করা হয়েছে। আগামী বছর থেকে আবার জানুয়ারিতে ফেরার আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসহ সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতি টালমাটাল অবস্থায় রয়েছে, যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ছে। এ অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে মেলার মাধ্যমে প্রযুক্তি ও সক্ষমতা তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশসহ কানাডা, চীন, তাইওয়ান, বেলজিয়াম, ফ্রান্স, হংকং, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পণ্য ও প্রযুক্তি প্রদর্শন করবে। প্রদর্শনীতে টেক্সটাইল যন্ত্রপাতি, রং ও রাসায়নিক, সেলাই ও বয়ন প্রযুক্তি, এমব্রয়ডারি, কাটিং ও সেলাই যন্ত্র, ওয়াশিং ও ড্রাই ক্লিনিং প্রযুক্তিসহ আধুনিক সরঞ্জাম তুলে ধরা হবে।

বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ও বিকেটিজি ২০২৬ এর আহ্বায়ক ফজলে শামীম এহসান বলেন, চলমান সংকটের মধ্যেও এ ধরনের আয়োজন বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করবে। নতুন প্রযুক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। 

সূত্রমতে,  মেলার মূল আকর্ষণের পাশাপাশি শিল্প সংশ্লিষ্টদের জ্ঞান বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। প্রদর্শনী চলাকালীন বিকেএমইএ, বিইউটেক্স এবং টেক্সটাইল ট্যুডে যৌথভাবে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সেমিনারের আয়োজন করবে। যেখানে পোশাক শিল্পের বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি, আধুনিক প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক কৌশল নিয়ে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা বিস্তারিত আলোচনা করবেন। এসব আলোচনার মাধ্যমে দেশীয় উদ্যোক্তারা বৈশ্বিক বাজারের নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার দিকনির্দেশনা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। প্রদর্শনীটি প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সকল দর্শনার্থীর জন্য উন্মুক্ত থাকবে। গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল খাতের উদ্যোক্তা, টেকনিশিয়ান এবং শিক্ষার্থীদের জন্য এই এক্সপো আধুনিক যন্ত্রপাতি ও কাঁচামালের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার এক অনন্য সুযোগ করে দেবে। আয়োজকরা প্রত্যাশা করছেন, এই মেলা কেবল ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করবে না, বরং বাংলাদেশের পোশাক খাতকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

ডিবিটেক/জেএনও/ইকে