কল্পনা থেকে বাস্তবতা: ২০২৭ সালেই উড়ন্ত গাড়ি আনছে চীনা এক্সপেং
উড়ন্ত গাড়ির স্বপ্ন এবার বাস্তব হতে চলেছে। ২০২৭ সালের মধ্যেই গ্রাহকদের হাতে ‘উড়ন্ত গাড়ি’ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এক্সপেং। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ মানুষের মতো দেখতে ‘হিউম্যানয়েড রোবট’ এবং চলতি বছরেই স্বয়ংক্রিয় ‘রোবোট্যাক্সি’র ট্রায়াল শুরুর ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বেইজিং অটো শো-র আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এক্সপেং-এর প্রেসিডেন্ট ব্রায়ান গু এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার কথা জানান।
উড়ন্ত গাড়ির ব্যাপক চাহিদা
ব্রায়ান গু জানান, তাদের তৈরি উড়ন্ত গাড়ির জন্য ইতোমধ্যেই ৭,০০০-এর বেশি অর্ডার জমা পড়েছে। যার অধিকাংশ ক্রেতাই চীনের। তবে এই গাড়িগুলো আকাশে ওড়ানোর জন্য দেশটির এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। আগামী বছর থেকেই এই গাড়ির বড় আকারের উৎপাদন শুরু হবে এবং ২০২৭ সালে এটি গ্রাহকদের কাছে সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রোবোট্যাক্সি ও আন্তর্জাতিক লক্ষ্য
স্বয়ংক্রিয় যাতায়াত ব্যবস্থায় বিপ্লব আনতে চলতি বছরেই চীনের গুয়াংজু শহরে ‘রোবোট্যাক্সি’র পরীক্ষা শুরু করতে যাচ্ছে এক্সপেং। ব্রায়ান গু বলেন, ২০২৭ সালটি হবে বিশ্বজুড়ে অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে রোবোট্যাক্সি পরীক্ষার জন্য একটি ‘সংকটকাল’ বা গুরুত্বপূর্ণ বছর। আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে তারা শত শত বা হাজার খানেক রোবোট্যাক্সি তৈরি করবেন।
মানুষের বিকল্প হবে হিউম্যানয়েড রোবট
শুধু গাড়ি নয়, রোবোটিক্স জগতেও আধিপত্য বিস্তার করতে চায় এক্সপেং। ২০২৬ সালের শেষ প্রান্তিক নাগাদ তারা হিউম্যানয়েড রোবট উৎপাদন শুরু করবে। শুরুর দিকে এই রোবটগুলো রিসেপশনিস্ট বা শোরুমে ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলার কাজে ব্যবহৃত হবে। ব্রায়ান গু-র মতে, আগামী ১০ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এক্সপেং-এর গাড়ি ব্যবসার চেয়ে রোবট ব্যবসার পরিধি অনেক বড় হয়ে উঠবে।
ভক্সওয়াগনের সঙ্গে অংশীদারিত্ব
জার্মান গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভক্সওয়াগনের সঙ্গে গত মাস থেকেই যৌথভাবে বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদন শুরু করেছে এক্সপেং। এই অংশীদারিত্বকে আরও এগিয়ে নেওয়ার বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান ব্রায়ান গু। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করতে তারা প্রস্তুত।
বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশে কার্যক্রম চালানো এক্সপেং তাদের আয়ের বড় অংশ দেশের বাইরে থেকে সংগ্রহ করতে চায়। গত বছর তাদের আয়ের ১৫ শতাংশ এসেছিল বিদেশের বাজার থেকে, যা আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে ৫০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ডিবিটেক/বিএমটি । সূত্র: রয়টার্স







