বাজেট নিয়ে আইসিটি ও টেলিকম খাতের ব্যবসায়ী নেতাদের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া

আইসিটি ও টেলিকম খাতের বাজেট প্রস্তাবনায় খাত সংশ্লিষ্টরা আশাহত

আইসিটি ও টেলিকম খাতের বাজেট প্রস্তাবনায় খাত সংশ্লিষ্টরা আশাহত
২ জুন, ২০২৫ ২০:২৩  
৩ জুন, ২০২৫ ১৮:২৬  

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে দেশে উৎপাদিত মোবাইল ফোনের ওপর মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা কিছুটা কমিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। একইভাবে হার্ডওয়্যার নির্মাতাদের জন্য আড়াই শতাংশ ভ্যাট বাড়িয়ে ৭.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে আসন্ন বাজেটে। মোবাইল অপারেটরদের টার্নওভার করের পরিমাণ ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে দেড় শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। ইন্টারনেট সেবার ক্ষেত্রে উৎসে কর ১০ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হলেও সিমের ওপর সম্পূরক শুল্ক ২০ শতাংশই বলবৎ রয়েছে। উপরন্তু , অনলাইন স্ট্রিমিং ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মের ওপর ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে ভ্যাট অব্যাহতির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে রেফ্রিজারেটির এসি, লিফট উৎপাদন, মোটর কার-মোটর ভেহিক্যাল ও ইলেকট্রিক ভেহিক্যালে।

অবশ্য ৩০ জুন শেষ হতে চলা কর অব্যাহতির মেয়াদ বৃদ্ধি না করলেও প্রান্তিক খামারি ও উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে তাদের জন্য অনধিক ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত করা হয়েছে। তবে সার্বিক বিবেচনায় আশাহত হয়েছেন দেশের তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিকম খাতের ব্যবসায়ী নেতারা। তারা বলছেন, বাজেটে ব্যবসায় পর্যায়ের কর ও শুল্কের নেতিবাচক প্রভাব মূলতঃ ভোক্তা পর্যায়েই চাপ বাড়বে। করপোরেট ব্যবাসয়ীরা সুযোগ পেলেও ক্ষুদ্র ও কুটির উদ্যোক্তাদের জন্য বাজেটে কোনো সুখবর নেই। 

 
প্রস্তাবিত বাজেটে টিভির সেট-টপ-বক্স, ফ্রিজ, এসি ও হাইব্রিড গাড়ির দাম বাড়বে। অনলাইনে পণ্য বিক্রয় কমিশনের ওপর ভ্যাটের হার ১০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে এর ফলে অনলাইন কেনাকাটায় খরচ বাড়বে। নারীর ব্যবহার্য কসমেটিকস সামগ্রীর শুল্কায়নে ন্যূনতম মূল বাড়ানোর প্রস্তাব করায় ই-কমার্সে এসব নিয়ে যারা ব্যবসায় করছেন সেই উদ্যোক্তারাও চাপে পড়বেন। টিভির জন্য এলইডি বাল্বসহ একাধিক পণ্যের আমদানি শুল্ক বাড়ানোয় ইলেকট্রনিক্স পণ্যের দাম বাড়বে। তবে মাটির তৈরি পণ্য ও পাতার তৈরি তৈজসপত্রের দাম কমানো গ্রামীণ উদ্যোক্তারা ইকমার্সে কিছুটা প্রসার করতে পারেন সামনের দিনে। পরিবেশবান্ধব রিসাইক্লিং শিল্প উৎসাহিত করতে এই শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামাল সরবরাহের ক্ষেত্রে উৎসে কর কর্তনের হার এক দশমিক ৫ শতাংশ কমানোয় ই-বর্জ্য খাত কিছুটা সুযোগ পাবে। কিন্তু ইন্টারনেট সেবা থেকে উৎসে কর কর্তনের হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হলেও এর প্রভাব প্রান্তিক পর্যায়ে খুব একটা পড়বে না।

 
প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সাবেক সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবির ডিজিবাংলাটেককে বলেছেন, 

ইন্টারনেটের উপর এআইটি কমানো ভালো সিদ্ধান্ত। এতে সেবার মান বাড়াতে কিছুটা সক্ষম হবে আইএসপিগুলি। অনলাইনে বিক্রির উপর ভ্যাট ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করায় অনলাইনে কেনাকাটায় উৎসাহে ভাটা পড়বে।  ই-কমার্স-এর ক্রেতারা অনিয়ন্ত্রিত ফেসবুক-ভিত্তিক কমার্সের দিকে ঝুঁকবেন; ফলে সরকার রাজস্ব হারাবে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বরাদ্দ বেড়েছে গতবছরের সংশোধিত বাজেট থেকে। একে স্বাগত জানাই। তবে, সঠিক প্রকল্পে খরচ এবং তার নিয়মিত যাচাই প্রয়োজন। গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে অনুদান খুবই ভালো সিদ্ধান্ত। তবে ৪৯২টি প্রকল্পের জন্য মাত্র ১৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকা খুবই অপ্রতুল। আরঅ্যান্ডডি উৎসাহিত করার জন্য কোম্পানীগুলোকে কর রেয়াত দিতে হবে। তাহলে কোম্পানীগুলো আরঅ্যান্ডডি-তে ব্যয় বাড়াবে এবং তারাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অনুদান দেবে। তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ১০০ কোটি টাকার ফান্ড গঠন ভালো সিদ্ধান্ত। তবে, স্টার্টআপ ফান্ড আগেও ছিল, যদিও ন্যায়সঙ্গতভাবে সেই টাকা বিনিয়োগ করা হয়নি।

ইন্টারনেট সংযোগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সভাপতি আমিনুল হাকিম বললেন,

এখন পর্যন্ত আমরা ১০ শতাংশ আগাম করপোরেট কর দেই। এতে লাভের পূর্ব আয় কর দাঁড়াতো শতকরা ৩৬.৩৬ শতাংশ । ফলে ১০ কোটি টাকার মূলধন ৭ কোটি টাকায় নেমে যেতো। দীর্ঘ দিন ধরে এগুলো বোঝানো পর এবারের বাজেটে ইন্টারনেট সেবার ক্ষেত্রে উৎসে কর ১০ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু অন্যান্য ইক্যুইপমেন্টের উপর যে টেক্স, ভ্যাট কমেছে বলে জানা নেই। ফলে উৎসে কর ৫ শতাংশ করায় কর্পোরেট পর্যায়ে কিছুটা উপকৃত হলেও মূলত ছোট, মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য বাজেটে তেমন কিছুই নাই। অন্যদিকে প্রান্তিক পর্যায় গ্রাহকদের জন্য তেমন কোন সুখবর নেই।


ওটিটি’র ওপর শুল্ক আরোপের প্রস্তাব বিষয়ে আইএসপিএবি জ্যেষ্ঠ সহ সভাপতি সাইফুল ইসলাম সিদ্দিক বললেন,

‘মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি দেশীয় ওটিটি গড়ে উঠেছে। অনলাইন স্ট্রিমিং ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মের ওপর ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাবে এখন তারা বিদেশী ওটিটি’র কাছে মার খাবে। দেশে জনপ্রিয় হলেও বিদেশী ওটিটি থেকে কিন্তু সরকার সেভাবে কোনো আয়ও পায় না। এ ক্ষেত্রে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের ওপর ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হলে এটা বিদেশি ওটিটি প্ল্যাটফর্মেরই প্রমোট করা হবে। যারা চরকি দেখছে তাদের ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক দিতে হবে। আবার যারা সনিলিভ দেখছেন তাদের সম্পূরক শুল্ক ১০ শতাংশ পড়ছে না। আমি মনে করি, এই শুল্ক ডিজিটাল কনটেন্ট ব্যবসার ওপর নতুন বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। তাই দেশীয় ওটিটি ইন্ডাস্ট্রির বিকাশের জন্য শুরুতে দেশীয় ওটিটি প্লাটফর্মগুলোকে শুল্ক মুক্ত হওয়া উচিত।’

ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজের সিএফও মোঃ জিয়াউল আলম বললেন,

‘প্রস্তাবিত বাজেটে অনেক ক্ষেত্রেই ভ্যাট বাড়ছে। এতে গ্রাহক পর্যায়ে ফ্রিজ, এসি, লিফট ইত্যাদির দাম বাড়বে। ভোক্তার ওপর প্রেসার পরবে। তখন মার্কেটে চাহিদায় ভাটা পড়বে। তাই রেভিনিউ না বেড়ে নেতিবাচক হতে পারে।’

শাওমি বাংলাদেশরে কা‌ন্ট্রি ম‌্যা‌নেজার জিয়াউ‌দ্দিন চৌধুরী ব‌লেন,

 "আমি মনে করি ব‌া‌জে‌টে মোবাইল হ‌্যান্ড সে‌টের ওপর ভ‌্যাট অব‌্যাহ‌তি সু‌বিধা কমা‌নোর কোন প্রভাব ভোক্তা পর্যা‌য়ে পড়বে না। উৎপাদন পর্যায়ে মোবাইল হ্যান্ডসেট প্রস্তুতকারকদের লাভের পরিমাণ কিছুটা কমে যেতে পারে, তবে সেটাও খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। বেশিরভাগ মোবাইল হ্যান্ডসেট প্রস্তুতকারক প্রায় ৩০% মূল্য সংযোজন করে, এবং ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছাতে এত বেশি ব্যয় হয় না। তাই আমার ধারণা, ব্যবসায়িক পর্যায়েও এর কোনও উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে না।’

বাজেট প্রতিক্রিয়ায় ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের সংগঠন ই-ক্যাব এর সাবেক জ্যেষ্ঠ সহ সভাপতি সাহাব উদ্দিন শিপন বললেন,

‘ই-কমার্স খাত আবার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। বাজেটে একাধিক কর বৃদ্ধি প্রস্তাব এসেছে। ফলে উদ্যোক্তা, বিক্রেতা এবং গ্রাহক তিন পক্ষের ওপরই সরাসরি প্রভাব ফেলবে। বাজেট প্রস্তবনা কার্যকর হলে ই-কমার্স খাতে কমিশনের উপর ভ্যাট তিনগুণ বৃদ্ধি হবে। বর্তমান ৫% । প্রস্তাবিত ১৫% । এতে অনলাইন ব্যাবসা আর্থিক চাপ বাড়বে। বিক্রেতাদের মুনাফা কমবে । অথবা গ্রাহকদের থেকে বাড়তি মূল্য নিতে হবে।’ 

দেশের বিপিও (বিজেন প্রসেস আউটসোর্সিং) ও কল সেন্টার খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কন্ট্যাক্ট সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিংয়ের (বাক্কো) সভাপতি  তানভীর ইব্রাহিম বলেন,

বাজেট প্রস্তাবনা আইসিটি গ্রোথ ফ্রেন্ডলি মনে হয়নি।  এখানো এই খাতটির ওপর পুরো ফোকাস করা হয়নি। অথচ অন্যন্য সব খাতই এখন কোনো না কোনো ভাবে আইসিটি ব্যবহার করে। তাই এই খাতে আরো সুদৃষ্টি দেয়া দরকার। ইন্টারনেট, ডিজিটাল ডিভাইস সবার কাছে সুলভ করার পাশাপাশি বিপিও ব্যবসায় প্রসারে বিশেষ বরাদ্দ রাখা দরকার। 

বৈষম্যহীন, টেকসই ও গতিশীল অর্থনীতির ভিত তৈরিতে গঠিত আন্তর্বর্তী সরকারের একটি টাস্কফোর্স সদস্য ও বিডিজবস প্রধান নির্বাহী এবং বেসিস সাবেক সভাপতি এ কে এম ফাহিম মাশরুর বলেন,

‘আমরা বরাবরই ইন্টারনেটের দাম কমানোর জন্য বলে আসছি। মোবাইল ফোন ও ডাটার মূল্য কমাতে বাজেটে সিম ট্যাক্স প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছি। কিন্তু এবারো তা করা হয়নি। সিমের ওপর ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক থাকায় প্রস্তাবিত বাজেটে ডাটার দাম কমার বিষয়টি প্রাধান্য পেলো না। গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেট দাম কোনো সম্ভাবনাই নেই। উপরন্তু মোবাইল ফোন উৎপাদন ও সংযোজনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা কিছুটা হ্রাসপূর্বক মেয়াদ ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। ফলে দেশে উৎপাদিত ও সংযোজিত মোবাইল ফোনের দাম বাড়বে। এতে ডিজিটাল ডিভাইস বাড়বে। ওটিটির ওপর শুল্ক আরোপ করায় দেশী ওটিটিগুলো চাপে পড়বে। ইকমার্স প্লাটফর্মে কেনাকাটায় গ্রাহক আগ্রহ হারাবে। অনলাইন কেনাবেচা ফেসবুকমুখী হবে। এতে দেশীয় উদ্যোক্তা সুরক্ষার প্রত্যাশা বাস্তবায়িত হবে না।’

বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) ভাবি সভাপতিস্মার্ট টেকনোলজিস (বা) লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেছেন,

হার্ডওয়্যার নির্মাতাদের জন্য  আড়াই শতাংশ ভ্যাট বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে আসন্ন বাজেটে। ভ্যাট ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭.৫ শতাংশ প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে এই খাতে খুব সামান্য প্রভাব ফেলবে। তবে এসআরও খুঁজে এখনো উল্লেখযোগ্য তেমন কোনো সুখবর পাইনি।

ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই/ফিকি) সভাপতি  জাভেদ আক্তার বলেছেন, 

প্রস্তাবিত বাজেটে পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানিগুলোর জন্য, যাদের শেয়ারের ১০% এর কম আইপিওর মাধ্যমে ইস্যু করা হয়েছে, তাদের জন্য অতিরিক্ত ৭.৫% কর আরোপের প্রস্তাব উদ্বেগজনক। বর্ধিত হারে এই করের প্রভাব বৈষম্যমূলক বলে মনে হয়। বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের জন্য নতুন ৭.৫% অগ্রিম কর (এটি) প্রবর্তন—স্থানীয় মূল্য সংযোজন ৫০% এর নিচে হলে আর কোনো ভ্যাট প্রদানের প্রয়োজন নেই— যা কিনা বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের জন্য ভ্যাট প্রদান সহজ করবে কিন্তু এটি খরচ বাড়াতে পারে যদি মূল্য সংযোজন কম হয়। অনলাইন বিক্রয়ের উপর ভ্যাট ৫% থেকে বাড়িয়ে ১৫% করা হয়েছে, যা দেশের অনলাইন ব্যবসায়ের প্রতিষ্ঠানসমূহকে হুমকির মুখে ফেলবে এবং ব্যবসা সম্প্রসারণে বাধা সৃষ্টি করবে। ইআরপি সিস্টেমের মাধ্যমে বিক্রয় ও ক্রয়ের রেকর্ড ডিজিটালভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা, হার্ড কপি সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা ছাড়াই, ডিজিটাইজেশনের দিকে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। এটি কাগজপত্রের ব্যবহার হ্রাস করে, দক্ষতা বাড়াতে এবং তথ্য সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে সহজতর করবে।