কলড্রপ নিয়ে জিপি-কে শোকজ, প্রতিবেদন দিতে ৩ সপ্তাহ সময় পেলো বিটিসিএল, টেলিটক, টেশিস ও ডাক বিভাগ
বরাদ্দকৃত তরঙ্গ পুরোপুরি ব্যবহার করে না দেশের শীর্ষ মোবাইলফোন অপারেটর গ্রামীণফোন। কিন্তু কলড্রপ নিয়ে নিয়মিত অভিযোগ পাচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি বিটিআরসি ভবনে অনুষ্ঠিত টেলিকম অপারেটরদের ক্লোজডোর বৈঠকও হয়েছে।
কিন্তু সুরহা না হওয়ায় অপারেটরটিকে নোটিশ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। বুধবার আইসিটি বিভাগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপাকালে তিনি জানিয়েছেন, গত ১ জুলাই কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। বাকি অপারেটরদেরও নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এজন্য দুইটি ড্রাইভটেস্ট গাড়ি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কাজ শুরু করেছে। টেস্টে ত্রুটির কারণ বিষয়ে সন্তোষজনক উত্তর দিতে না পারলে বড় ধরনের জরিমানায় পড়তে পারে অপারেটরটি।
পলক বলেছেন, টেস্ট ড্রাইভের প্রাথমিক রিপোর্ট নিয়ে আমরা গত ৩০ জুন বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করেছি। বৈঠকে ৪টি এমনও-কে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলিছিলাম। ক্লোজড ডোর সেই বৈঠকে আমরা তাদের বরাদ্দকৃত তরঙ্গ কম ব্যবহারের বিষয়টি দেখিয়েছি। কিন্তু তারা বারবার টাওয়ার কম ইস্যু তুলছে। অথচ যে টাওয়ার রয়েছে সেখানে প্রাপ্ত তরঙ্গ ব্যবহার করছে না। তারা এক্ষেত্রে নতু প্রযুক্তি ব্যবহার ও বিনিয়োগ করছে না। আমরা এটা খুঁজে বের করে ধরেছি। বরাদ্দ ও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কেন তারা সেটা করলো না সে বিষয়ে আমরা বিটিআরসি চেয়ারম্যানকে জিজ্ঞেস করেছিলাম। জবাবে তিনি জানিয়েছেন, এক্ষেত্রে তাদের জরিমানা করার সুযোগ রয়েছে। এ কারণেই আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী, আমরা প্রথমে প্রথমে গ্রামীণফোন-কে শো-কজ করেছি। অন্যগুলো অ্যানালাইসিস চলছে। তারা সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারলে এবারের মতো মাফ পাবে। আর এক্ষেত্রে বিটিআরসি ১-৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে পারে।
এদিকে গত ৩০ জুনের মধ্যে বিটিসিএল, টেলিটক, টেশিস ও ডাক বিভাগ আর্থিক প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় প্রতিষ্ঠানগুলোর ২ সপ্তাহের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৩ সপ্তাহ সময় দেয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, আগামী ২১ জুলাইয়ের মধ্যে তাদের আয়-ব্যায়ের তথ্য পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে। ডাকের দুর্নীতি নিয়ে বিভাগীয় তদন্ত কমিটি কাজ করছে। দোষ পাওয়া মাত্রই অভিযুক্তদের চাকরিচ্যুত করে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেয়া হবে। স্মার্ট টেলিকম ও আইসিটি খাত গড়ে তুলতে সরকারি যেসব প্রতিষ্ঠান সম্পদের সৎ ব্যবহার করতে পারছে না বেসরকারি খাতের সঙ্গে যৌথ অংশীদারিত্বে সেই প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদ ও মানব সম্পদের দক্ষতা অর্জন করা হবে।





